স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: শিলিগুড়ির ফাঁসিদেওয়াতে একটি ব্রিজ ভাঙাকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গে এখন বাম-তৃণমূলের রাজনৈতিক চাপানউতর তুঙ্গে৷ চটহাট-ফাঁসিদেওয়ার মধ্যে যোগাযোগকারী একমাত্র সেতু এটি৷ কৃষিপ্রধান এই এলাকার লোকজন ভীষণভাবে এই সেতুর উপর নির্ভরশীল৷ সেক্ষেত্রে এই সেতু ভেঙে পড়ায় চিন্তা বেড়েছে এলাকার লোকজনের৷

তবে ঘটনায় হতাহতের খবর নেই৷ ঘটনাস্থলে ফাঁসিদেওয়া থানার পুলিশ৷ একটি ট্রাক নিয়ে ভেঙে পড়ে সেতুটি৷ আহত হন ট্রাকের চালক৷ এদিন পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব সিপিএমের সমালোচনা করে জানিয়েছেন, ফাঁসিদেওয়ার ব্রিজ বাম আমলে তৈরি৷ ওরা কীভাবে তৈরি করেছিল, বা কীভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করেছিল, তা নিয়ে তো প্রশ্ন উঠবেই৷

Advertisement

আরও পড়ুন: বামেদের ডাকা ভারতবন্ধে থাকছে না ফরোয়ার্ড ব্লক

অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষও দাবি করেছেন, বাম আমলে খারাপ কাজোর জন্যই এই দূর্ঘটনা৷ তৃণমূলকে জবাব দিতে উত্তবঙ্গের সিপিএম নেতা জীবেশ সরকার জানিয়ছেন, সরকার এভাবে দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না৷

শুক্রবার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের মুজাফ্ফর আহমেদ ভবনে বসে রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, ‘‘ফাঁসিদেওয়ার কথা চিন্তা না করে তৃণমূল আগে মাঝেরহাট সামলাক৷ সেই যে ছোটবেলায় পড়েছি না, London Bridge is falling down, Falling Down … Falling Down …, কলকাতাকে সত্যি সত্যি লন্ডন বানালেন মুখ্যমন্ত্রী৷’’

সূর্যকান্ত আরও জানান, বামফ্রন্টের আমলে যা তৈরি হয়েছে, তা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সরকারের৷ মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন, কেন ই-টেন্ডারে কাজ হল না, কেন শুধু উপর উপর রং করা হয়৷ আজ উনি বলছেন, ২০ চাকার লরি ব্রিজে উঠবে না৷ কিন্তু ব্রিজের রক্ষণাবেক্ষণ করলে তবেই তো সেখানে ভারী গাড়ি উঠতে পারবে৷’’

আরও পড়ুন: মাঝেরহাট কাণ্ডে ৭০ জনের বয়ান রেকর্ড করল পুলিশ

সূর্যকান্তের কথায়, ‘‘ব্রিজ ভাঙার নিরপেক্ষ তদন্ত যাতে হয় তা সরকারকে দেখতে হবে৷ অফিসাররা আর কী করবে? দপ্তরের মাথায় যে আছে, তাঁকে ধরতে হবে৷ যদি তা না হয়, বুঝতে হবে মুখ্যমন্ত্রীর এতে মদত আছে৷’’ ২০ চাকার লরির কী হবে? সূর্যকান্ত বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী চান নাকি যে কলকাতা বন্দর উঠে যাক৷ লরি না উঠতে পারলে বন্দর চলবে কী করে?’’

এদিন অবশ্য নার্সারি রাইমের দ্বিতীয় অংশটি বলেননি সূর্যকান্ত৷ যা সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সময়োপযোগী, ‘‘Build it up with iron bars, iron bars, build it up with iron bars …’’ কবিতা ভালোবাসেন মুখ্যমন্ত্রী৷ বার্তা হয়তো তাঁর কাছে পৌঁছেছে৷

----
--