ঘুরে দাঁড়াতে তারুণ্যে জোর দিল সিপিএম

স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: ক্ষতিকর উদারনীতি এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াতে সিপিএমের পূর্ব বর্ধমান জেলা কমিটিতে প্রাধান্য দেওয়া হল অপেক্ষাকৃত তরুণদের।

দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সিপিএমের পূর্ব বর্ধমান জেলা কমিটির ইঞ্জিন বদল হল না ঠিকই, কিন্তু দলের গতি আনতে তথাকথিত তরুণ ১৪জনের নতুন মুখ নিয়ে আসা হল জেলা কমিটিতে। একইসঙ্গে ৫০ জনের জেলা কমিটিতে ৩জনের পরিবর্তে নিয়ে আসা হল ৭জন মহিলা প্রতিনিধিকে। এরা হলেন সাধনা মল্লিক, মণিমালা দাস, ভারতী ঘোষাল, অঞ্জলী মণ্ডল, অপর্ণা সাহা এবং অসীমা রায়। উল্লেখ্য, সিপিএমের বর্তমান জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সংখ্যা ১১ জন। এদের গড় বয়স ৬২ বছর।

আরও পড়ুন- লালচিনকে পাশে পেতে সীমান্তে সুড়ঙ্গ করছে বাম শাসিত নেপাল

- Advertisement -

গত দুদিন ধরে বর্ধমান টাউন হলে সিপিএমের ৩৪তম জেলা সম্মেলন শেষে রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করেন জেলা সম্পাদক অচিন্ত্য মল্লিক। হাজির ছিলেন দলের রাজ্য নেতা অমল হালদার এবং জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আভাষ রায় চৌধুরীও। অচিন্ত্যবাবু জানিয়েছেন, যে তরুণদের নতুন জেলা কমিটিতে নিয়ে আসা হল তাদের বয়স ২০ থেকে ৪২-এর মধ্যে। সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে সিপিএমের মূল শ্রেণী শত্রু বিজেপি। একইসঙ্গে রাজ্য ও জেলার ক্ষেত্রেও সিপিএমের কাছে তৃণমূল ও বিজেপি উভয়ের বিরুদ্ধেই আন্দোলন তীব্রতর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জেলা কমিটিতে কালীশঙ্কর পাল, গৌরী ব্যানার্জ্জী, তপন কোঙার, চৌধুরী মহম্মদ হৃদয়েতুল্লাহ এবং সত্যজিত চক্রবর্তী এই ৫জনকে বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসাবে নেওয়া হয়েছে। আগে ছিল ৩জন। জেলা সম্মেলন থেকে মোট ৪জন পুরনো সদস্য বাতিল হয়েছেন। এদের মধ্যে একজন শারীরিক অসুস্থতার জন্য এবং ৩জন স্বেচ্ছায় তরুণদের জায়গা দিতে সরে দাঁড়িয়েছেন। উল্লেখ্য, দুদিনের সিপিএমের এই রাজ্য সম্মেলনে হাজির ছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র, রাজ্য কমিটির নেতা রবীন দেব এবং মদন ঘোষ।

আরও পড়ুন- জেলা সভাপতি কাটমানি নেন, মন্ত্রীর সামনেই অভিযোগ তৃণমূল নেতার

দুদিনের এই সম্মেলনে রীতিমত দলীয় নেতাদের কড়া সমালোচনার মুখে পড়তে হয় রাজ্য ও জেলা নেতৃত্বকে। একটি এরিয়া কমিটির পক্ষ থেকে দলকে সাবলীলভাবে চলতে ইঞ্জিন বদলের প্রস্তাবও দেওয়া হয়। পুরনো ঝরঝরে ইঞ্জিনের পরিবর্তে নতুন ইঞ্জিন তথা নেতৃত্ব বদলের দাবী তোলা হয়। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দলীয় কর্মীরা মার খেলে, আক্রান্ত হলেও দলের জেলা নেতৃত্বের ফোন বন্ধ করে রাখা নিয়েও রীতিমত সরব হন প্রতিনিধিরা।

সাংবাদিক সম্মেলন

উল্লেখ্য, সম্মেলনের সম্পাদকীয় খসড়া প্রতিবেদনে তৃণমূল ও বিজেপিতে যাওয়ার ঝোঁকের বিষয়টি যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, তেমনি খোদ দলীয় নেতৃত্বের একাংশের দুর্বলতাকেও দায়ী করা হয়েছে। গরীব খেটে খাওয়া মানুষের সঙ্গে জীবন্ত সম্পর্ক গড়ে তোলা, সুসংগঠিত বিপ্লবী পার্টি তৈরি করার প্রয়োজনীয়তাও উল্লেখ করা হয়েছে। বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের আক্রমণ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে এই সম্মেলন থেকে। সম্মেলনে প্রাক্তন বর্ধমান পুরসভার পুরপতি এবং সিপিএমের জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা আইনুল হককে দল থেকে বহিষ্কার করার বিষয়টি নিয়েও সভায় রীতিমত আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন- ব্রাহ্মণ সম্মেলনে মুকুলের শ্রাদ্ধের আয়োজন কেষ্টর

যদিও অমল হালদার জানিয়েছেন, এই বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি। অন্যদিকে, সম্পাদকীয় খসড়া প্রতিবেদনে এব্যাপারে উল্লেখ করা হয়েছে, অবিভাজিত জেলা থাকাকালীন সময়ে গুরুতর নৈতিক অধঃপতনের কারণে জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর একজন সদস্য পার্টি থেকে বহিষ্কৃত হয়।

তৃণমূল কংগ্রেস বা বিজেপিতে যাওয়ার যে ঝোঁকের বিষয়টি এই সম্মেলনের খসড়া প্রতিবেদন উল্লেখিত হয়েছে সে সম্পর্কে এদিন অচিন্ত্যবাবু জানিয়েছেন, যেখানে তাঁরা সাংগঠনিকভাবে পৌঁছাতে পারছেন সেখানে এই ঝোঁক নেই। কিছু ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটতে পারে। পুলিশ ও তৃণমূল কংগ্রেসের লাগাতার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধই যে একমাত্র হাতিয়ার তা এই সম্মেলনে আলোচিত হয়েছে। অমল হালদার জানিয়েছেন, আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনের ক্ষেত্রেও তাদের হাতিয়ার মানুষকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যেই রাজ্য রাজনীতির অনেক পরিবর্তন ঘটবে যা উল্লম্ফন গতিতেই ঘটবে বলে তাঁরা আশাবাদী।

Advertisement
-----