টিফিনের খরচ বাঁচিয়ে অনাথ আশ্রমে গ্রন্থাগার উপহার ছাত্রীদের

শঙ্কর দাস, বালুরঘাট: নিজেদের মধ্যে থেকে সংগৃহীত অর্থ জমিয়ে অসহায়দের কল্যাণে তা খরচ করে নজির সৃষ্টি করল বালুরঘাটের ছাত্রীরা। বালুরঘাট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রায় ৭০ জন ছাত্রী তাঁদের প্রতিদিনের টিফিনের পয়সা থেকে কিছু বাঁচিয়ে তা দিয়ে শহরেরই একটি অনাথ আশ্রমের আবাসিক মেয়েদের জন্য আস্ত একটি গ্রন্থাগার বানিয়ে দিল। শুধু অনাথ আশ্রমে গ্রন্থাগারই নয়, শহর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি প্রাথমিক স্কুলের কচিকাঁচাদের হাতে নতুন খাতা পেন্সিল ও সেই সঙ্গে জামা প্যান্টও উপহার দিয়েছে তাঁরা।

বালুরঘাট শহরের চকভবানী এলাকায় অবস্থিত নিবেদিতা ও তিলোত্তমা সেবাশ্রম নামক মেয়েদের অনাথ আশ্রম। অনাথ আশ্রম দুইটিতে ১৫০জন আবাসিক রয়েছে। আবাসিক মেয়েদের বেশির ভাগই অনাথ। বাকিদের বাবা মা থাকলেও তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই শোচনীয়। আর্থিক অনটনের কারণেই বাবা মা তাদের অনাথ আশ্রমে রেখে গিয়েছেন। অনাথ আশ্রমে থেকে এই মেয়েরা পড়াশুনা করলেও তাদের কাছে গল্পের বই পড়া ছিলো স্বপ্ন।

অসহায় এই মেয়েদের জন্য এগিয়ে এসেছে শহরেরই আরেক স্কুলের ছাত্রীরা। বালুরঘাট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন ছাত্রী তাদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ জমিয়ে নিবেদিতা সেবাশ্রমের মেয়েদের জন্য সেখানে গ্রন্থাগার বানিয়ে দিয়েছে। আর দশটা গ্রন্থাগারের মতো না হলেও সেখানে বসে পড়ার চেয়ার টেবিল না থাকলেও রয়েছে গল্পের বই ও দুইটি আলমারি। নিজেদের জমানো টাকায় আলমারি দুইটি কিনে সেই সঙ্গে প্রত্যেকের বাড়িতে পড়ে থাকা পুরাতন গল্পের বইগুলি সংগ্রহ করে তাতে সাজিয়ে দিয়েছে। বালুরঘাট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের দিদিদের কাছ থেকে গল্পের বই ভর্তি গ্রন্থাগার উপহার পেয়ে খুশি অনাথ আশ্রম দুইটির অসহায় শিশুরা।

- Advertisement -

গ্রন্থাগার উপহারই নয় শহরের বাইরে চকভৃগু এলাকায় অবস্থিত গোবিন্দপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে সেখানকার গরিব বাচ্চাদের হাতে খাতা পেন্সিল ও ছবি আঁকার সরঞ্জামও দিয়েছে ছাত্রীরা। তাদের এই মহতী কাজে সামিল হয়েছিলেন বিশিষ্ট লেখক বিশ্বনাথ লাহা ও সমাজসেবী সুরোজ দাস। অসহায়দের জন্য ছাত্রীদের কিছু করার এই মানসিকতায় অভিভূত এলাকার মানুষ।
বালুরঘাট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সুচিত্রা মণ্ডল জানিয়েছেন, স্কুলের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীরা নিজেরাই অর্থ জমিয়ে নিবেদিতা ও তিলোত্তমা সেবাশ্রমের মেয়েদের জন্য আলমারি ও গল্পের বই জোগাড় করে লাইব্রেরি বানিয়ে দিয়েছে।

সেই সঙ্গে গোবিন্দপুর এলাকার অসহায় কচিকাঁচাদের জন্য পড়াশুনার সামগ্রীও উপহার দিয়েছে। এই ভাবে প্রতিটি স্কুলের ছেলেমেয়েরা যদি সমাজের অসহায়দের পাশে এসে দাঁড়ায় তা হলে সমাজের কেউই আর শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হবে না বলেও শিক্ষিকা দাবি করেছেন।

বিশিষ্ট কবি ও লেখক বিশ্বনাথ লাহা জানিয়েছেন, স্কুলের মেয়েরা অন্যদের জন্য লাইব্রেরি বানিয়ে তা উপহার দিচ্ছে তা একেবারেই নজিরবিহীন। বালুরঘাট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের মেয়েদের এই উদ্যোগের ফলে অনাথ আশ্রমের অসহায় আবাসিকদের মধ্যে বই পড়ার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।