যোগী জামানায় অপরাধ কমেছে উত্তর প্রদেশে

লখনউ: জলে চলে গেল বিরোধীদের যাবতীয় অভিযোগ। যোগী জামানায় উত্তর প্রদেশে কমে গিয়েছে অপরাধ। এমনই তথ্য উঠে আসছে ওই রাজ্যের পুলিশের রেকর্ডের পরিসংখ্যানে।

উত্তর প্রদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে পেশ করা হয়েছে ওই রাজ্যের অপরাধের পরিসংখ্যান। যেখানে ২০১৭ এবং ২০১৮ সালের অপরাধের হিসেব তুলে ধরা হয়েছে। সেই তথ্য অনুসারে ওই রাজ্যে ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে অনেকটাই কমে গিয়েছে অপরাধ।

আরও পড়ুন- অমানবিকতা! আহত ব্যক্তিকে ফেলে রেখে চম্পট বাস কর্মীদের

২০১৭ সালের মার্চ মাসে উত্তর প্রদেশের ক্ষমতা দখল করে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রীর পদে আসীন হয়েছিলেন গোরক্ষপুরের সাংসদ যোগী আদিত্যনাথ। সেই সরকারের জামানায় বিভিন্ন সময়ে মারাত্মক রকমের অপরাধের অভিযোগ সামনে এসেছে। যার কারণে বারবার বিরোধীদের আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে।

এই অবস্থায় স্বস্তি দিচ্ছে পুলিশের রিপোর্ট। যেখানে দেখা যাচ্ছে খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি, অপহরণের মতো অপ্রাধ অনেকটাই কমে গিয়েছে ওই রাজ্যে। উত্তর প্রদেশ পুলিশের এক পদস্থ করা ওপি সিং বলেছেন, “গত দুই বছরে আমাদের রাজ্যে অপরাধের গ্রাম কমে গিয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা এই সরকারের প্রধান এবং প্রাথমিক উদ্দেশ্য। পুলিশের উপরে মানুষের আস্থা বাড়ছে এবং পুলিশ খুব ভালো কাজ করছে।”

পরিসংখ্যান অনুসারে, উত্তর প্রদেশে ২০১৭ সালে ৪২৭২ টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল ২০১৮ সালে সেই সংখ্যা ৩৯৪৬। যার অর্থ ওই রাজ্যে ধর্ষণ কমেছে ৭.৬৩ শতাংশ। একই সঙ্গে খুনের পরিমাণ ৭.০৮ শতাংশ কমে ২০১৮ সালে হয়েছে ৪০১৮টি। যা গত বছরে ছিল ৪৩২৪। ডাকাতি এবং লুঠপাটের ক্ষেত্রে সেই হ্রাসের হার অনেক কম। শতাংশের হিসেবে এই দুই ক্ষেত্রে হ্রাসের হার ৪২.৬৩ এবং ২২.১। ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে অপহরণ কমেছে ৩০.৪৩ শতাংশ।

রাজ্যে অপরাধের হার কমে যাওয়াটাকে যোগী আদিত্যনাথ প্রশাসনের সাফল্য বলে দাবি করেছে বিজেপি। যদিও সেই দাবি মানতে নারাজ বিরোধী পক্ষ। সমাজবাদী পার্টির নেতা এবং বিধায়ক রাজপাল কাশ্যপ বলেছেন, “এই পরিসংখ্যান ভুল। আসলে এসবই লোক দেখানো। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা বলে কিছু নেই। মানুষ বিজেপির উপরে বিরক্ত। লোকসভা ভোটের আগে এসব দেখানো হচ্ছে।”

উত্তর প্রদেশের ডিজিপি জানিয়েছেন অবশ্য অন্য কথা। তিনি দাবি করেছেন অপরাধ দমনে প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে অ্যাপ চালু করা হয়েছে। যার কারণে সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করতে পারছেন। সেই কারণে ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে অভিযোগের সংখ্যা অনেক বেড়ে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, এই সকল প্রযুক্তি পরিচালনার জণ্য কানপুর আইআইটি-র পড়ুয়াদের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।

---- -----