সভাপতির পদকে কেন্দ্র করে বাংলায় ‘আশাহীন’ বিজেপি

বিশ্বজিৎ ঘোষ, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ বিজেপিকে চাইছেন৷ অথচ, রাজ্য বিজেপির বর্তমান অবস্থা ‘আশাহীন’৷ এবং, এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে রাজ্য বিজেপির সভাপতির পদকে কেন্দ্র করে৷

খোদ রাজ্য বিজেপিরই এক সহ সভাপতি এমনই জানিয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহকে৷ রাজ্য বিজেপির এই সহ সভাপতির নাম চন্দ্রকুমার বসু৷ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর তিনি প্রপৌত্র৷ এবং, বাংলায় গেরুয়া শিবিরের এমন হালের বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতিকে তিনি জানিয়েছেন৷

তবে, শুধুমাত্র প্রশ্ন তুলে দেওয়াও নয়৷ রাজ্য বিজেপির ‘বেহাল’ অবস্থা দূর করতে সম্ভাব্য উত্তরের খোঁজও সোশ্যাল মিডিয়ায় চন্দ্রকুমার বসু দিয়েছেন বলে মনে করছেন খোদ গেরুয়া শিবিরেরই বিভিন্ন নেতা-কর্মী-সমর্থক৷ কারণ, রাজ্য বিজেপির এই সহ সভাপতি টুইটারে এমনই বলেছেন, ‘বর্তমানে আশাহীন অবস্থায় থাকা রাজ্য বিজেপির নেতৃত্বের সংকটের অবসান হতে পারে মনোনীত নয়, নির্বাচিত সভাপতির মাধ্যমে৷’ বিজেপি যাতে পশ্চিমবঙ্গে বিজয়ী হতে পারে, তার জন্য নেতৃত্ব বেছে নিতে কলকাতা এবং জেলা স্তরে নির্বাচনের কথাও বলেছেন তিনি৷

- Advertisement -

চন্দ্রকুমার বসু বলেন, ‘‘রাজ্য বিজেপির সভাপতি পদে বদল ঘটানো হচ্ছে৷ কয়েক মাস ধরে এই গুজব চলছে৷ অথচ, বিষয়টি স্পষ্ট করছেন না কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব৷ এ দিকে, বর্তমান রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকেই বলতে হচ্ছে যে তিনিই থাকছেন৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘একজন সভাপতিকে বলতে হচ্ছে তিনি কতদিন থাকবেন৷ এই বিষয়টি দুর্ভাগ্যজনক৷ অস্থিরতার বিষয়৷’’ শুধুমাত্র এমন নয়৷ তিনি বলেন, ‘‘রাজ্য বিজেপির সভাপতির পদে বদল ঘটানো হবে কি না, এই বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের স্পষ্ট করে দেওয়া উচিত৷ বিষয়টি গুজব হলে, ব্যবস্থা নেওয়া উচিত৷’’

রাজ্য বিজেপির এই সভাপতি বলেন, ‘‘কোনও ব্যক্তির বিষয়ে সমালোচনা করছি না৷ কিন্তু, রাজ্য সভাপতির পদকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন কেন উঠছে? রাজ্য বিজেপিতে কেন শৃঙ্খলা আনা সম্ভব হচ্ছে না? পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ বিজেপিকে চাইছেন৷ কিন্তু, তাঁদের কাছে কোন বার্তা দেওয়া হচ্ছে?’’ একই সঙ্গে চন্দ্রকুমার বসু বলেন, ‘‘নির্বাচনের মাধ্যমে সভাপতি নিয়োগ করা হোক৷ তা হলে, সভাপতির প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন থাকবে৷ রাজ্য এবং জেলা কমিটিও নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হোক৷ তা হলে, নিজেদের পছন্দের কেউ কমিটিতে থাকতে পারবেন না৷’’

রাজনৈতিক পরিস্থিতির বদল বর্তমানে দ্রুত ঘটছে৷ এই কারণে, সভাপতি সহ কমিটির মেয়াদ এক বছরের জন্য হওয়ার কথা বলছেন রাজ্য বিজেপির এই সহ সভাপতি৷ তিনি বলেন, ‘‘পরবর্তী সভাপতি কে হবেন, তা জানতে চেয়ে জেলা, মণ্ডল স্তর থেকে ফোন আসছে৷ বলছি, সভাপতি পদে একজন তো আছেন৷ তবে, সভাপতি বদলের ক্ষেত্রে দলের পদ্ধতি রয়েছে৷ বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘বিজেপি রাষ্ট্রীয় দল৷ ২১টি রাজ্যে সরকারে রয়েছে৷ পশ্চিমবঙ্গে সভাপতির পদ নিয়ে এমন হওয়া উচিত নয়৷’’

Advertisement
-----