স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ‘ক্রিসক্রস’ নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা ছিল দ্বিগুণ। কারণ এক ভিন্ন ধারার নারীকেন্দ্রিক ছবি নিয়ে আসছে পরিচালক বিরসা দাশগুপ্ত৷ ছবির প্রচার চলছে জোরকদমে। বৃহস্পতিবার শহরের একটি পাঁচতারা হোটেলে ছবির প্রচারের জন্য হাজির ছিলেন প্রিয়াঙ্কা সরকার, নুসরত জাহান, মিমি, এবং পরিচালক বিরসা দাশগুপ্ত।

প্রিয়াঙ্কা জানিয়েছেন, ‘এই ছবিতে ৫টি চরিত্রকেই সাধারণ মানুষ চিনতে পারবে। কারণ প্রত্যেকেই নিজেদের সঙ্গে রিলেট করতে পারবে ক্যারেক্টারগুলোকে। প্রিয়াঙ্কা এটাও জানিয়েছেন, এই চরিত্রে অভিনয় করার সময় তিনি নিজেকে ভীষণ ভাবে রিলেট করতে পেরেছেন’।

প্রসঙ্গত, রাহুলের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর প্রিয়াঙ্কা বর্তমানে একজন সিঙ্গল মাদার। এই ছবিতেও একজন সিঙ্গল মাদারের চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। নাম সুজি। ছেলেকে নিয়ে কমবয়সী মেয়ে বিভিন্ন কারণে বিপদে পড়তে থাকে সে৷ এক মদ্যপ ব্যক্তির অত্যাচারও সহ্য করতে হয় সুজিকে। এসমস্ত ঝামেলার মধ্যে নষ্ট হচ্ছে তাঁর ছেলের ভবিষ্যৎ। সুজিকে সেই চিন্তা কুরে কুরে খাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

নুসরত জানিয়েছেন, সমাজে প্রতিনিয়ত লড়তে হয় মেয়েদের। কিন্তু থামলে চলবে না, এগিয়ে যেতে হবে। মেহেরের নামের একটি চরিত্রে রয়েছেন নুসরত। যার দুই চোখে একটাই স্বপ্ন৷ অভিনেত্রী হওয়ার আকাঙ্খা নিয়ে এগিয়ে চলেছে মেহের৷ কিন্তু সমাজের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য থেকে নিস্তার নেই মেহেরেরও।


মিমি জানিয়েছেন, ‘সব ছবিই স্পেশাল, কিন্তু ‘ক্রিসক্রস’ একটু বেশি স্পেশাল। কারণ প্রথম এই ছবিতে কোন হিরো নেই। আর এটাই বেশি ভালো লাগার’। ছবিতে ইরার চরিত্রে রয়েছেন তিনি। পেশায় একজন ফোটোগ্রাফার৷ ফোটোগ্রাফিই তার প্যাশন৷ কিন্তু সমস্যা ইরার বয়ফ্রেন্ডকে নিয়ে৷ বয়ফ্রেন্ডের চরিত্রে রয়েছেন অর্জুন চক্রবর্তী৷ যে একেবারেই ইরার পেশার জগৎটাকে বুঝতে চায় না৷ এমনকি আল্টিমেটামও দেয় ইরাকে সে, “হয় অফিস নয় আমি”৷ তবে এসব হুমকিতে দমে যাওয়ার মেয়ে ইরা নয়৷ বিয়ের পর কাজ ছেড়ে সারাটা জীবন নষ্ট করতে চায় না সে৷

পাঁচটি মেয়ের লড়াই নিয়ে তৈরি ‘ক্রিসক্রস’র ছবির চিত্রনাট্য৷ তবে শুধু মহিলাকেন্দ্রিক নয়, মেয়েদের স্বাধীনতা, সম্মানকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা, সমাজে মেয়েদের গুরুত্ব, এসব কিছুই বোঝানো হয়েছে এই ছবিতে৷ চলতি বছরে আগামী ১০ অগস্ট মুক্তি পাবে ছবিটি৷ অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন, ঋদ্ধিমা ঘোষ চক্রবর্তী, গৌরব চক্রবর্তী প্রমুখ অভিনেতারা৷

----
--