মস্কো: অতিরিক্ত সময়ে মান্দজুকিচের গোলে ইতিহাস ক্রোয়েশিয়ার৷ শুরুতেই গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়া সত্ত্বেও ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপ ফাইনালে ক্রোটরা৷

৫ মিনিটের মাথায় ফ্রি-কিক থেকে গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে ১-০ দেন ট্রিপিয়ার৷ ৬৮ মিনিটে পেরিসিচের দুরন্ত গোলে ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরায় ব়্যাকিটিচরা৷ নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ফলাফল অমীমাংসিত থাকায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে৷ ১০৯ মিনিটে মান্দুকিচের ঐতিহাসিক গোলে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ক্রোয়েশিয়া৷

ম্যাচের বয়স তখন সবে মাত্র ৪ মিনিটে গড়িয়েছে৷ ডেলে আলিকে নিজেদের বক্সের ঠিক বাইরে ফাউল করে বসেন লুকা মদ্রিচ৷ সে যাত্রায় পেনাল্টি এড়ানো গেলেও সুবিধাজনক জায়গা থেকে ফ্রি-কিক পেয়ে যায় ইংল্যান্ড৷ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সেট-পিস থেকে গোল করার ধারাবাহিকতা বজায় রাখে ব্রিটিশরা৷ ওয়ালের উপর দিয়ে ডান পায়ের বাঁকানো শটে গোল করেন ট্রিপিয়ার৷ ক্রোয়েশিয়া গোলরক্ষক সুবাসিচের পক্ষে পতন রোধ করার কোনও সুযোগই ছিল না৷

জাতীয় দলের হয়ে এটাই ট্রিপিয়ারের এটাই প্রথম গোল৷ তাও আবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো বড় মঞ্চে৷ প্রথমার্ধে আরও দু’টি সহজ সুযোগ পেয়েছিল ইংল্যান্ড৷ তবে গোলের ব্যবধান বাড়িয়ে নিতে ব্যর্থ হয় তারা৷ ২৯ মিনিটের মাথায় হ্যারি কেনের একটি অনবদ্য প্রয়াস দুরন্ত ক্ষিপ্রতায় প্রতিরোধ করেন সুবাসিচ৷ না হলে হাফ টাইমের আগেই লড়াই থেকে ছিটকে যেতে পারত ক্রোয়েশিয়া৷

বল দখলের লড়াইয়ে ৫২-৪৮ শতাংশে এগিয়ে থাকলেও ব়্যাকিটিচরা প্রথমার্ধে তেমন একটা ভয় ধরাতে পারেনি ইংল্যান্ড রক্ষণে৷ ব্রিটিশদের তেকাঠি লক্ষ্য করে কয়েকটা শট নিলেও তা আটকে যায় ইংল্যান্ড ডিফেন্সেই৷ ফলে ০-১ গোলে পিছিয়ে থেকে প্রথমার্ধের খেলা শেষ করে ক্রোয়েশিয়া৷

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে অন্যরূপে ধরা দেয় ক্রোয়েশিয়া৷ ব়্যাকিটিচ-মদ্রিচরা মাঝমাঠের দখল নিতেই ইংল্যান্ডের জারিজুরি শেষ হয়ে যায়৷ দ্বিতীয়ার্ধে মুহূর্মুহু আক্রমণে ইংল্যান্ড রক্ষণকে আতঙ্কিত করে তোলে মান্দজুকিচরা৷ ৬৮ মিনিটে পেরিসিচের গোলটা ব্রিটিশ রক্ষণের সেই ত্রাসেরই ফসল৷ যদিও লাফিয়ে উঠে পেরিসিচের অনবদ্য ফাইনাল টাচ চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ফ্রেম হয়ে থাকবে৷

দু’মিনিটের মধ্যেই ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নিয়ে নিতে পারত৷ তবে ৭০ মিনিটে পেরিসিচের শট পোস্টে লেগে প্রতিহত হওয়ায় সে যাত্রায় রক্ষা পায় ইংল্যান্ড৷

নির্ধারিত সময়ে আর কোনও গোল হয়নি৷ অতিরিক্ত সময়ের প্রথম ১৫ মিনিটেও ম্যাচের ফল অপরিবর্তিত থাকে৷ তবে দ্বিতায়ার্ধে আগ্রাসি মদ্রিচদের আটকানোর কোনও ফর্মুলাই ছিল না ইংল্যান্ডের সামনে৷ ১০৯ মিনিটে মান্দজুকিচের গোলের পর বাকি সময়টায় ইংল্যান্ডকে আটকানোর চেষ্টা করার রাস্তায় হাঁটেনি ক্রোয়েশিয়া৷ বরং তারা পাল্টা আক্রমণে গোল সংখ্যা বাড়িয়ে নেওয়াই শ্রেয় মনে করে৷ যদিও ২-১’এর পর ম্যাচের স্কোরলাইনে আর বদল হয়নি৷

ক্রোয়েশিয়া শেষবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছিল দু’দশক আগে৷ ১৯৯৮ সালে আয়োজক ফ্রান্সের কাছে শেষ চারের লড়াইয়ে হেরে গিয়েছিল তারা৷ কাকতলীয়ভাবে এবার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার প্রতিপক্ষ সেই ফ্রান্স৷ সুতরাং কুড়ি বছর আগে হারের মধুর প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ ক্রোটদের সামনে৷

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল এর আগে ১৯৯৮ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান দখল করাই ছিল এ পর্যন্ত বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার সেরা পারফরম্যান্স৷ সেই স্মরণীয় দিনটিও ছিল ১১ জুলাই৷ সেই কুড়ি বছর পর ১১ জুলাইয়েই বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে শাপমুক্তি ঘটল ক্রোয়েশিয়ার৷

আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ক্রোয়েশিয়া শেষ দশটি বিশ্বকাপ ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ানোর কৃতিত্ব অর্জন করল৷ শেষবার তারা গোল থেকে দূরে ছিল ২০০৬ সালে জাপানের বিরুদ্ধে৷

---