কৃষির উন্নতিতে যন্ত্রের সাহায্যে ধানচাষের প্রশিক্ষণ

স্টাফ রিপোর্টার, হলদিয়া: এবার কৃষিক্ষেত্রে উন্নতির জন্য ধান চাষের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে কৃষকদের৷ শুধু তাই নয়, সেই প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজও শুরু করে দিল রাজ্য সরকার৷

কৃষির উন্নয়ন ঘটাতে কৃষির ক্ষতিপূরণ, কৃষি বিমা চালু, কৃষি ঋণ মকুব সহ একাধিক পদক্ষেপ আগেই গ্রহণ করেছিল রাজ্য সরকার৷ এবার ধানরোয়া যন্ত্রের সহায়তায় জমিতে চাষ করার প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে৷

আরও পড়ুন: দুর্ঘটনায় ভবঘুরে বৃদ্ধার জখমের ঘটনা ঘিরে উত্তেজনা

- Advertisement -

প্রসঙ্গত, কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে কৃষির উন্নয়ন ঘটাতে একাধিক প্রকল্প চালু করেছে রাজ্য সরকার। তাই এবার কৃষিক্ষেত্রে ধান চাষের অগ্রগতি ঘটাতে ধানরোয়া যন্ত্রের সাহায্যে চাষ শুরু হল মহিষাদলে। মঙ্গলবার পরীক্ষামূলক ভাবে এই প্রশিক্ষণ শুরু হল মহিষাদল ব্লকে এক্তাপুরের চাষি প্রদীপ্তকুমার মল্লিকের জমিতে।

এদিন মহিষাদল ব্লকের কয়েকশো কৃষকদের উপস্থিতিতে ধানরোয়া যন্ত্রের সাহায্যে ধান চাষ করা হয়। ধানরোয়া যন্ত্রের সাহায্যে কৃষকরা কিভাবে লাভবান হবে তা-ও জানান কৃষি আধিকারিকরা।

আরও পড়ুন: পারিবারিক অশান্তিতে মদ্যপ বাবাকে কুপিয়ে খুনে অভিযুক্ত ছেলে

এদিনের ধানরোয়া যন্ত্রের সাহায্যে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন মহিষাদল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শিউলি দাস, সহ সভাপতি তিলক চক্রবর্তী, জেলা কৃষি আধিকারিক মৃণালকান্তি বেরা, মহিষাদল ব্লক কৃষি আধিকারিক কাজলকৃষ্ণ বর্মণ সহ অন্যান্যরা।

ধানরোয়া যন্ত্রের সাহায্যে চাষ করা হলে কৃষকদের অর্থ কম খরচ হওয়ার পাশাপাশি সময়ও খুব কম লাগবে। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এক বিঘা জমিতে চাষের জন্য খরচ পড়বে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা৷ আর বীজ তৈরির জন খরচ পড়বে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। অর্থাৎ, বিঘা প্রতি ১১০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে খরচ আসবে বলে কৃষি আধিকারিকরা জানিয়েছেন৷

আরও পড়ুন: হিন্দু রীতি মেনেই সভার আগে খুঁটি পুজো মমতার দলের

এই প্রসঙ্গে জেলা কৃষি আধিকারিক মৃণালকান্তি বেরা বলেন, ‘‘রাজ্য সরকার কৃষির অগ্রগতি ঘটাতে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছেন। তার মধ্যে এটি অন্যতম। রাজ্যের অন্যান্য জেলায় এই ধরনের যন্ত্রের সাহায্যে ধান চাষ করে অনেকেই উপকৃত হয়েছেন বলেও খবর পাওয়া গিয়েছে। যদি কোনও উৎসাহী কৃষক এই যন্ত্র কিনতে চান তাহলে সরকারি ছাড় দিয়ে যন্ত্রটি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’’

আধিকারিকের কথার পাল্টা মহিষাদল পঞ্চায়েত সমিতি সহ সভাপতি তিলক চক্রবর্তী বলেন, ‘‘আগের সরকার কৃষকদের কথা ভাবতেন না। তাই কৃষির উন্নয়ন সেভাবে ঘটেনি। আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার পর কৃষকদের নানা ভাবে সাহায্য করে চলেছে৷ সঙ্গে উন্নতমানের যন্ত্রপাতি সরকারি সাহায্যে কৃষকদের দেওয়া হচ্ছে। আগের থেকে বাংলায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে এখন।’’

আরও পড়ুন: কলকাতায় জাল নোট চক্রের দুই পাণ্ডা গ্রেফতার

অন্যদিকে, মহিষাদল ব্লক কৃষি আধিকারিক কাজলকৃষ্ণ বর্মণ বলেন, ‘‘বর্তমান সময়ে চাষের কাজের জন্য লোক খুব কম পাওয়া যাচ্ছে। ফলে কৃষিকাজের জন্য ধীরে ধীরে যন্ত্র জায়গা করে নিচ্ছে। আগে ধান কাটা হত হাতে৷ এখন সেই ধান কাটতে এসেছে মেশিন৷ আগে ধান ঝাড়াই করা হত পাটায়৷ এখন সেটাও হচ্ছে মেশিনে। ধান চাষ করা হয় কৃষকদের দিয়ে৷ কিন্তু বর্তমান সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চাষের অগ্রগতির জন্য ধান চাষের জন্য ধানরোয়ার যন্ত্র বাজারে এসেছে। সেই যন্ত্রের সাহায্যে যেমন কম খরচে চাষ করা যাবে, তেমনই সময় খুব কম লাগবে। ব্লক এলাকার অনেক কৃষকই এই যন্ত্রের ব্যবহারে খুব খুশি। আগামী দিনে যাতে এই ধরনের যন্ত্রের সাহায্যে ব্লকের কৃষকরা চাষ করতে পারে তার ব্যবস্থাও করা হবে।’’

আরও পড়ুন: যাত্রীদের সুবিধার্থে বর্ধমান স্টেশনে বসছে চলমান সিঁড়ি

সর্বশেষে কৃষক প্রদীপ্তকুমার মল্লিক বলেন, ‘‘এই যন্ত্রের কথা আগে শুনেছি। তবে এই প্রথম আমার ১০ কাঠা জমিতে চাষ করে দেখছি। আমার দেখাদেখি অনেক কৃষক উৎসাহিত হয়েছেন৷ ফসল যদি ভালো হয় তাহলে আগামী মরশুমে অনেক কৃষকই এই যন্ত্রের সাহায্যে চাষ করবে বলে মনে করছি আমরা৷’’

আরও পড়ুন: বেহাল দশা স্কুলের, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে পড়াশোনা

Advertisement
---