বালুরঘাটে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা

শঙ্কর দাস, বালুরঘাট: শুধু সংবাদ সংগ্রহ ও তা পরিবেশন করায় নয়, সারাদিনের ব্যস্ততার মাঝেও সংস্কৃতিকে রক্ষার দায়িত্ব সামলে যাচ্ছেন দক্ষিণ দিনাজপুরের সাংবাদিক মহল৷ ওয়েস্টার্ন কালচার ও সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং-এর উদ্যোগে এদেশীয় নৃত্য চর্চার প্রতি বর্তমান প্রজন্মের আগ্রহে যাতে বিন্দুমাত্র প্রভাব না পড়ে সেই উদ্দেশ্যে গত দুদিন ধরে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ডান্স ফেস্টিভ্যাল-২০১৭। দক্ষিণ দিনাজপুর জার্নালিস্টস ক্লাব আয়োজিত প্রতিযোগিতা মূলক এই উৎসবে বালুরঘাট সহ জেলার প্রত্যন্ত এলাকার নৃত্যকলা শিক্ষাকেন্দ্রগুলি অংশ গ্রহণ করেছিল।

নাটকের শহর বালুরঘাট শহরে নাটক বাদেও জেলার অন্যান্য এলাকায় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা শিল্পের প্রতি বহুদিন ধরেই আলাদা উদ্দীপনা রয়েছে। এই জেলায় নাটক সঙ্গীত সহ সাংস্কৃতিক অন্যান্য বিষয়ে প্রতিযোগিতা মূলক বহু অনুষ্ঠান হয়ে গেলেও নৃত্যকলার উপর তা হয়নি। জেলার নৃত্যকলা শিল্পীদের উত্সাহ প্রদানের লক্ষে আইপিএস প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় অনুপ্রেরণায় দক্ষিণ দিনাজপুর জার্নালিস্টস ক্লাব দু-দিন ব্যাপী এই উৎসবের আয়োজন করে। বিচারক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ভারত সরকারের তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রকের অবসর প্রাপ্ত আধিকারিক তথা বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী ভাস্বতী পাল চৌধুরী দূরদর্শন খ্যাত শ্রুতি বন্দ্যোপাধ্যায় ও টি জ্ঞানপতি দেবী। জেলা পুলিশ সুপার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় প্রেরণায় বালুরঘাট নাট্যতির্থে আয়োজিত এই উৎসবের উদ্বোধক ছিলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসক সঞ্জয় বসু। জেলা তথ্য সংস্কৃতি আধিকারিক শান্তনু চক্রবর্তী। শনি ও রবিবার দুইদিনের এই প্রতিযোগিতায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে পর বিচারকদের ফলাফলে বড়দের গ্রুপে প্রথমস্থান বালুরঘাটের ‘ঋষিগন্ধা’ দ্বিতীয় “হৃদকমল” তৃতীয় হিলির “নটরাজ নৃত্য সংস্থা”। ছোটদের গ্রুপে প্রথম হয়েছে বালুরঘাটের “ব্যান্ড অফ বয়েজ এন্ড গার্ল” যুগ্ম ভাবে দ্বিতীয় হয়েছে প্রজ্ঞা ড্যান্স একাডেমি ও নান্দনিক নৃত্যালয়”। প্রতিযোগিতা মূলক এই উৎসবকে কেন্দ্র করে সংস্কৃতি প্রেমীদের মধ্যে আলাদা উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছিল।

প্রতিযোগিতার অন্যতম বিচারক ভাস্বতী পাল চৌধুরী জানিয়েছেন যে তিনি অনুষ্ঠানে ছোট থেকে বড় সকল শিল্পীর উপস্থাপনায় অভিভূত। কলকাতা থেকে তিনি স্বপ্নেও ভাবতে পারেন নাই যে প্রান্তিক জেলা দক্ষিণ দিনাজপুরে নাচের এতো ভালো পরিবেশ ও প্রতিভা লুকিয়ে রয়েছে। এতদিন তিনি জানতেন যে সাংবাদিকরা শুধু খবর পরিবেশনই করে থাকেন। তাঁরা যে জেলার সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে লুকিয়ে থাকা প্রতিভার উন্মোচন ঘটানোর মঞ্চ তৈরি করে দিতেও পারেন তা তাঁদের জানা ছিল না। য

- Advertisement -

দক্ষিণ দিনাজপুর জার্নালিস্টস ক্লাবের সম্পাদক শংকর দাস জানিয়েছেন বালুরঘাট তথা দক্ষিণ দিনাজপুর বরাবরই নাটক লোক সংগীত হস্তশিল্প ও সাংস্কৃতিক অন্যান্য ক্ষেত্রে সুপরিচিত। এই জেলায় নৃত্যকলা শিক্ষার বহু কেন্দ্র রয়েছে। জেলার নৃত্যকলা কেন্দ্র গুলির শিল্পী ও তাঁদের প্রশিক্ষকদের উৎসাহ যোগাতে এই ড্যান্স ফেস্টিভ্যালের আয়োজন। এবারের ফেস্টিভ্যাল তৃতীয় বর্ষে পদার্পণ করেছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্তের নাচের মোট তেইশটি স্কুল অংশ নিয়েছিল। রবিবার ফাইনালের অনুষ্ঠানে প্রতিযোগীদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পাশাপাশি অন্যতম মূল আকর্ষণ ছিল জেলার বিশিষ্ট শিল্পী সুপ্রভা মুখার্জির একক পরিবেশনা ও কলকাতা থেকে আগত আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন তন্নী চৌধুরী এবং অভীক চাকীর নৃত্য পরিবেশনা।

Advertisement ---
---
-----