নিয়মিত করার দাবিতে শিক্ষামন্ত্রীকে প্রশ্ন করে ‘শিক্ষা’ দিতে চায় কুটাব

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: শিক্ষামন্ত্রীকে প্রশ্ন করে ‘শিক্ষা’ দিতে চান কলেজ শিক্ষকরা৷ ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবসে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সমস্ত অনুষ্ঠানে প্রশ্ন করা হবে, কেন শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে শিক্ষকদের পথে নামতে বাধ্য করলেন শিক্ষামন্ত্রী? জনসমক্ষে শিক্ষামন্ত্রীকে এমনই প্রশ্ন করবে কলেজ এন্ড ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের (কুটাব) পক্ষ থেকে৷

কুটাবের অফিস সেক্রেটারি সোহিনী চক্রবর্তী জানান, এই বছরের ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর অনশন কর্মসূচী গ্রহণ করা হবে৷ পাশাপাশি, শিক্ষক দিবসের দিন শিক্ষামন্ত্রী যে সমস্ত সভা এবং মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন, সেখানে গিয়ে জানতে চাওয়া হবে, শিক্ষক দিবসের দিন এতগুলো শিক্ষকের জন্য তিনি কী ঘোষণা করছেন? এতজন শিক্ষককে শিক্ষক দিবসের দিন শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে পথে নামতে বাধ্য করা হল? শিক্ষকদের রাস্তায় নামতে হল কেন? শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষকদের রাস্তায় নামতে বাধ্য করলেন কেন? এই প্রশ্নগুলি তাঁকে জনসমক্ষে করা হবে বলে জানিয়েছেন সোহিনী চক্রবর্তী৷

বহুদিন ধরেই নিয়মিত কাজের দাবিতে প্রতিবাদ-আন্দোলন করছে কুটাবের আংশিক শিক্ষকরা৷ গত ফেব্রুয়ারি মাসে তাদের আন্দোলনের জেরে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় তাঁদের সঙ্গে দেখা করেন৷ সেখানেই শিক্ষামন্ত্রী তাদের নিয়মিত কাজ দেওয়ার আশ্বাস দেন৷ কিন্তু, সেটা শুধুই আশ্বাস ছিল৷ কাজের কাজ আদতে কিছুই হয়নি বলে দাবি কুটাবের অফিস সেক্রেটারির৷

- Advertisement -

তিনি বলেন, ‘‘শিক্ষামন্ত্রী আমাদের নিয়মিত কাজ দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন৷ কিন্তু, কীভাবে নিয়মিত কাজ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে কিছুই বলেননি তিনি৷ এখনও পর্যন্ত এই নিয়ে কোনও সরকারি নির্দেশও জারি করা হয়নি৷ সামনেই নতুন শিক্ষাবর্ষ চালু হতে চলেছে৷ অথচ, এখনও আমরা নিয়মিত কাজের আওতায় আসি নি৷’’

তাই এবার নিয়মিত কাজের দাবিতে লাগাতার আন্দোলনের ডাক দিল আংশিক সময়ের অধ্যাপক-অধ্যাপিকারা৷ এই দাবিতে আগামী ২১ জুন বিকাশ ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছে কলেজ এন্ড ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (কুটাব)৷ সোহিনী চক্রবর্তী বলেন, ‘‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে শোষিত৷ আমরা কলেজে অধিকাংশ শিক্ষার দায়িত্ব পালন করে থাকি৷ তা সত্ত্বেও আমাদের সরকারি স্বীকৃতি থাকলেও নিয়মিত কাজ পাই না৷ আমরা ন্যায়সঙ্গতভাবে দাবি করেছিলাম, কলেজগুলিতে প্রচুর খালি পদ রয়েছে৷ বর্তমান সিবিএস ব্যবস্থাতেও কাজের ভার অনেক বেশি৷ তাই আমাদের পূর্ণ সময়ের কাজের ভার দেওয়া হোক৷’’

প্রতি সপ্তাহে দশটি করে ক্লাস নিতেন আংশিক সময়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা৷ তার জন্য দশ বছরের বেশি সময় যারা কাজ করছেন তাদের মাসে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হত৷ দশ বছরের কম যারা কাজ করছেন তাদের দেওয়া হত ১৪ হাজার ৭৭৪ টাকা৷ কিন্তু, তাঁরা কোনও বেতন কাঠামোর আওতায় আসেননি৷ তাই এই আন্দোলনে অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার নিরিখে সুনির্দিষ্ট বেতন পরিকাঠামোর দাবিও তোলা হবে কুটাবের পক্ষ থেকে৷

তবে শুধু বিকাশ ভবন অভিযান নয়৷ সোহিনী চক্রবর্তী জানিয়েছেন, লাগাতার আন্দোলনের অংশ হিসাবে ১৭ জুলাই বিভিন্ন জেলা থেকে আগত আংশিক সময়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা জমায়েত করবেন৷ তারপর কলকাতার হাজরা মোড় থেকে মিছিল করে নবান্নের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন তারা৷ যাওয়া হবে কেন্দ্রীয় মানব-সম্পদ উন্নয়ণ মন্ত্রক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের কাছেও৷ অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেলেই মানব-সম্পদ উন্নয়ণ মন্ত্রক ও ইউজিসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দেওয়া হবে৷

তারপর, ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর অনশন কর্মসূচি গ্রহণ করবে কুটাব৷ শিক্ষক দিবসে জনসমক্ষে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর চাওয়া হবে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে৷ সোহিনী চক্রবর্তী বলেন, ‘‘মন্ত্রী আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও আমাদের নিয়মিত কাজ দেওয়া হচ্ছে না৷ তাহলে কী ভোটের আগে উনি আমাদের স্তোকবাক্য দিয়েছিলেন? এটা আমাদের কাছে একটা বড় প্রশ্ন৷’’

Advertisement ---
---
-----