ঘূর্ণাবর্তের প্রভাব কমতেই শহরে দিনভর মেঘ রোদের খেলা

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: বর্ষার আকাশে শরতের মেঘ রোদ্দুরের খেলা। এমনটাই দেখল শহর ও শহরতলি। টানা তিন দিন বৃষ্টির পর ঘূর্ণাবর্ত কিছুটা দুর্বল হতেই এমন মেঘ রোদের দেখা মিলেছে বলে জানাচ্ছেন আবহবিদরা। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় এমন আবহাওয়ার পরিস্থিতির দেখা মিলবে বলে জানাচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

২৪ জুন থেকে টানা বৃষ্টি চলছে দক্ষিণবঙ্গে। কখনও বিক্ষিপ্তভাবে কখনও মুষলধারে বৃষ্টি নেমেছে দক্ষিণবঙ্গের কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে। হাওয়া অফিস জানিয়েছিল, এই বৃষ্টির শুরুর প্রাথমিক কারন ছিল হিমালয়ের পাদদেশ পর্যন্ত বাতাসের উপরিভাগে দেড় কিলোমিটার একটি ঘূর্ণাবর্ত এবং উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর ৫.৬ থেকে ৭.৮ কিলোমিটার পর্যন্ত আরও একটি ঘূর্ণাবর্ত। সঙ্গে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবও রয়েছে রাজ্যের উপর। পরে এই ঘূর্ণাবর্ত বাংলাদেশ ও বিহারের উপর অবস্থান করে। এই জোড়া ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে বৃষ্টি চলেছে মঙ্গলবার অবধি। বুধবার থেকে সেটি আরও একটু সরে গিয়েছে। ফলে তার প্রভাব কমেছে বলে জানাচ্ছে হাওয়া অফিস। এর জেরেই শহর জুড়ে সারাদিন চলল মেঘ রোদের খেলা।

এই মেঘে ছেয়ে আকাশ। মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই অঝোর ধারায় বৃষ্টি। টানা আধ ঘণ্টা বৃষ্টি। বৃষ্টি থামতেই দেখা মিলছে রোদের। হাওয়া অফিসের অধিকর্তা গণেশকুমার দাস বলেন, “মঙ্গলবার থেকেই বাংলাদেশ ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর ঘূর্ণাবর্তটি সরে ওড়িশার দিকে চলে যায়। বুধবার সেটি আরও সরেছে। ওড়িশা উপকূল থেকে সরে সেটি ঝাড়খণ্ডের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “যতদিন বাংলাদেশের কাছাকাছি ঘূর্ণাবর্ত ছিল ততদিন এখানে বৃষ্টি হয়েছে। ওড়িশার দিকে সরতেই বৃষ্টির পরিমাণ কমেছে। যত ঝাড়খণ্ডের দিকে এগোবে তত ওইদিকে বৃষ্টি বাড়বে। পশ্চিমবঙ্গ কলকাতার দিকে বৃষ্টির পরিমাণ কমবে।” এটাই হয়েছে আজ সারাদিন। এই বৃষ্টি তো পরক্ষনেই রোদ।

- Advertisement -

আবহবিদের কথা অনুযায়ী আগামী ৪৮ ঘণ্টায় বিহার ঝাড়খণ্ডের দিকে বৃষ্টির পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। কম হবে এই রাজ্যের বৃষ্টির পরিমাণ। স্বাভাবিকভাবেই কলকাতায় বৃষ্টিও কমবে। হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে। সঙ্গে বৃষ্টি থামলেই দেখা মিলবে রোদের।

বুধবার কলকাতায় ২৫.৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে। বৃষ্টির জেরে তাপমাত্রা কম ছিল। এদিন শহরের তাপমাত্রা ছিল সর্বোচ্চ ৩১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে এক ডিগ্রি কম। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে যা এক ডিগ্রি কম। এদিন বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৯৭ শতাংশ, সর্বনিম্ন ৭১ শতাংশ। বৃহস্পতিবার বৃষ্টি কমলে তাপমাত্রাও বৃদ্ধি পাবে। তাপমাত্রা থাকবে সর্বোচ্চ ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন ২৬ ডিগ্রির কাছাকাছি।

Advertisement ---
---
-----