স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: আশি বছরের বৃদ্ধাকে হঠাৎ দেখলে আঁতকে উঠতে হয়৷ মুখে কালসিটের গাঢ় দাগ, শরীরের একাধিক অংশে রক্ত জমাট বাঁধার চিহ্ন, হাতে প্যাঁচানো ব্যাণ্ডেজ৷ এই অবস্থা কিভাবে? প্রশ্ন করা হলে বৃদ্ধা করুণ স্বরে জানান, বউমার শারীরিক নির্যাতনের ফল৷ বৃদ্ধার নাম শৈবা বিশ্বাস (৮০)৷ উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহ থানার অন্তর্গত রুইয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার ঘটনা৷

শৈবাদেবীর চার ছেলে ও এক মেয়ে৷ বর্তমানে প্রত্যেকেই বিবাহিত ও প্রতিষ্ঠিত৷ একসময় ছেলেমেয়েদের বড় করে তোলার জন্য নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য দেখেননি৷ কিন্তু এখন সংসারে তিনি শুধুই ব্রাত্য নন বরং নির্যাতিতা৷ শৈবা দেবীর চার ছেলের মধ্যে এক ছেলে বিএসএফ জওয়ান গৌতম বিশ্বাস৷ সেই ছেলের কাছেই থাকেন শৈবা দেবী৷ অভিযোগ,গৌতম বিশ্বাস ও তাঁর স্ত্রী কাবেরী বিশ্বাস দু’জনেই চাপ দিয়ে সম্পত্তি লিখিয়ে নেন আশি বছরের বৃদ্ধার থেকে৷ এরপরই শুরু হয় দিনের পর দিন শারীরিক অত্যাচার৷ এই ঘটনা জানাজানি হতেই গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত কাবেরী বিশ্বাসকে৷

Advertisement

শৈবাদেবীর ছেলে গৌতম বিশ্বাসের বর্তমানে নাগাল্যান্ডে পোস্টিং৷ তাই বৃদ্ধা শাশুড়ির দায়ভার বর্তেছে কাবেরীদেবীর উপর৷ কিন্তু ছেলের অবর্তমানে বউমা দীর্ঘদিন ধরেই মারধর করত শাশুরিকে৷ বৃদ্ধা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বউমার অত্যাচারের ভয়ে কোনও ক্রমে প্রাণ বাঁচিয়ে মেয়ের বাড়ি চলে যান তিনি৷ এদিকে, বুধবার রুইয়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় বৃদ্ধাকে মারধরের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বাসিন্দারা। কাবেরীদেবীকে তাঁর বাড়িতে আটকে রেখেই খড়দহ থানায় খবর দেয় স্থানীয়কা৷

পুলিশ এসে অভিযুক্ত কাবেরী বিশ্বাসকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। শৈবাদেবী বলেন, ‘‘কারণে অকারণে যখন তখন আমাকে মারধর করত বউমা। ছেলে বাড়িতে ছুটি কাটাতে আসলে তখনও অত্যাচার করত ওরা। এভাবে কত দিন থাকব জানি না। শুধু ভগবানের কাছে এর সঠিক বিচার চাই৷’’ অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সম্পত্তি ছেলেকে লিখে দেওয়ার পর থেকেই সংসারে ব্রাত্য হয়ে গিয়েছিলেন বৃদ্ধা মা৷ বৃদ্ধার মেয়ে প্রতিবাদ করলে উলটে বেড়ে যেত সেই অত্যাচার৷ এলাকার সকলেই এর নিষ্পত্তি চাইছিলেন৷ অবশ্বৃয, বৃদ্ধার উপর চলা অত্যাচারে কেন নিশ্চুপ ছিল বাকি ছেলেরা? উঠছে সেই প্রশ্নও৷ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে খড়দহ থানার পুলিশ৷

----
--