শ্বশুরের বিরুদ্ধে কুপ্রস্তাবের অভিযোগ, মৃত গৃহবধূ

স্টাফ রিপোর্টার, বারুইপুর: খোদ শ্বশুরের বিরুদ্ধে কু-প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিল গৃহবধূ৷ কিন্তু তার পরিণতি যে এতটা ভয়ঙ্কর হবে তা বোধহয় আঁচ করতে পারেননি তিনি৷ কেন শ্বশুরের কুকর্মের কথা ফাঁস করতে চেয়েছিল গৃহবধূ সেই কারণেই বলি হতে হল তাঁকে৷ মৃতার নাম সুপ্রিয়া ঘরামী (১৮)। স্বামীর নাম সুজন মণ্ডল। অভিযুক্ত শ্বশুর তপন মণ্ডল।

স্থানীয় সূত্রে খবর, চার বছর আগে সুপ্রিয়া ও সুজনের বিয়ে হয়। স্কুলে যাওয়ার পথে প্রেম, তারপর বিয়ে করে তারা। সুজন পেশায় রাজমিস্ত্রি। মেয়ের বাড়ি গঙ্গাজোয়ারা এলাকায়। ছেলের বাড়ি গোবিন্দপুর লাঙলবেড়িয়াতে। বিয়ের আগে থেকেই মেয়ে চাপা স্বভাবের ছিল। কিন্তু শ্বশুরের কু-নজর এড়াতে পারেনি ওই গৃহবধূ। অভিযোগ, ফাঁকা বাড়িতে গৃহবধূকে একা পেলেই তার উপর হামলে পড়ার চেষ্টা করত শ্বশুর৷

- Advertisement -

এদিকে ওই গৃহবধূর সঙ্গে ঘটা গোটা বিষয়টি সে তাঁর মা ও মাসিকে জানায়। অভিযোগ, বুধবার বাড়িতে কেউ না থাকায় আড়াই বছরের মেয়ের সামনেই শ্বশুর অত্যাচার শুরু করে৷ গৃহবধূ সবাইকে ঘটনা জানিয়ে দেবে বললে মারধোর করতে থাকে তাঁকে৷ নিরাপদ ভেবে স্বামী ও শাশুড়িকে বিষয়টি জানালে তাঁরাও অত্যাচার শুরু করে বলে অভিযোগ৷

অন্যদিকে, পরিবারের লোক বুধবার দুপুরে খবর পান তাদের মেয়ে অসুস্থ। কিন্তু গিয়ে দেখেন উল্টো ছবি৷ মেয়ের শ্বশুরবাড়ির বারান্দাতে ঢাকা দেওয়া অবস্থায় পড়ে রয়েছে সুপ্রিয়ার নিথর দেহ। কি হয়েছে জানতে চাওয়া হলে কেউ কিছুই জানান না৷ তাই সুপ্রিয়ার পরিবারের সদস্যরাই স্থানীয় সুভাষগ্রাম হাসপাতালে তাকে নিয়ে যায়৷ কিন্তু সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে৷

মৃতদেহের হাতে ও পায়ে মিলেছে গভীর ক্ষতের চিহ্ন৷ যদিও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের দাবি ওই গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে৷ অন্যদিকে, সোনারপুর থানায় ওই মহিলার পরিবার থেকে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছে৷ ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী ও শ্বশুরকে বুধবার রাতেই গ্রেফতার করা হয়৷ ইতিমধ্যেই গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে সোনারপুর থানার পুলিশ৷

Advertisement
-----