শ্বশুরের স্মৃতিতে স্কুলে মেধাবৃত্তিতে অর্থদান বউমার

স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: অর্থের অভাবে অনেক ভালো ছাত্র পড়াশোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। তাদের পাশে দাঁড়াতে অর্থদান করে নজির গড়লেন কাঁথির এক বৃদ্ধ। কাঁথি-১ ব্লকের পূর্ব কুমারপুরের বাসিন্দা রমণীকান্ত মিশ্রর স্মৃতিতে এক লক্ষ টাকা দান করলেন তাঁর বউমা করুণাময়ী মিশ্র৷

শিক্ষা ছাড়া সমাজে অগ্রগতি আসে না৷ সুশৃঙ্খল সমাজ গড়তে শিক্ষার বিকল্প কিছুই নেই। আর সেই শিক্ষার বিকাশে মঙ্গলবার কাঁথির নয়াপুট সুধীর কুমার হাইস্কুলের মেধা তহবিলে এক লক্ষ টাকা দান করলেন করুণাময়ী মিশ্র৷ এদিন করুণাময়ী দেবীর এক আত্মীয় সেই টাকা স্কুলের প্রধান শিক্ষক বসন্তকুমার ঘরাইয়ের হাতে তুলে দেন।

আরও পড়ুন: ভারতের আশঙ্কা সত্যি করে চিনের সঙ্গে মহড়ায় নেপাল

- Advertisement -

প্রধান শিক্ষক বসন্তকুমার ঘরাই জানিয়েছেন, করুণাময়ীদেবী শিক্ষার মর্ম বুঝেই শিক্ষার বিকাশে এই অর্থদান করেছেন। তাঁর দান শিক্ষালাভে পড়ুয়াদের যেমন উৎসাহ করবেন৷ তাঁর এই সাহায্যের টাকা স্কুলের মেধা তহবিলে সঞ্চয় করা হবে। এই টাকার প্রাপ্ত সুদ থেকে বছরে একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণির অভাবী-কৃতীদের মেধাবৃত্তি হিসেবে দেওয়া হবে।

খুব অল্প বয়সেই বিয়ে হয়েছিল করুণাময়ী দেবীর। বিয়ে হয়ে যাওয়ার কারণে লেখাপড়া প্রায় বন্ধ হতে বসেছিল তাঁর। কিন্তু শ্বশুরবাড়িতে নিজের পড়ালেখা চালিয়ে যেতে উৎসাহ জুগিয়ে ছিলেন জ্যাঠাশ্বশুর রমণীকান্ত মিশ্র। তিনিই করুণাময়ী দেবীকে শিক্ষার গুরুত্ব বুঝিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: জানেন কেন সন্তানের জন্ম দিতে দেশ ছাড়ছেন হাজার হাজার প্রেগনেন্ট মহিলা?

যা ধারণ করে স্বামীর ঘর সামলে বাংলা বিষয়ে স্নাতক হয়েছিলেন তিনি। কাঁথির নয়াপুট স্কুলের অভাবী-কৃতীদের খবর একাধিকবার পত্র-পত্রিকায় পড়েছিলেন তিনি৷ এরপর তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অভাবী-মেধাবীদের বৃত্তিদানে নয়াপুট সুধীরকুমার স্কুলকে অর্থ সাহায্য করবেন। আর তাঁর সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে জ্যাঠাশ্বশুর রমণীকান্ত মিশ্রের স্মৃতিতে টাকা দান করলেন তিনি৷

করুণাময়ীদেবীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘‘মেধা থাকা সত্বেও অর্থের কারণে বহু ছেলেমেয়ের লেখাপড়া মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। ওই সমস্ত প্রান্তিক পড়ুয়াদের লেখাপড়ায় উৎসাহ দিতে এই টাকা দিলাম।’’

আরও পড়ুন: হোয়াটসঅ্যাপের পর এবার ফেসবুকে মোমোর আতঙ্ক

Advertisement
---