রায়পুর: ইচ্ছে থাকলেই উপায় হয়৷ ইচ্ছের কাছে হার স্বীকার করে নেয় সব বাধাই৷ এই কথাটি নিছক কথার কথা নয়৷ কাজে করে দেখাল কিরন৷ ছত্তিশগড়ের বলরামপুরের বাসিন্দা সে৷ দিল্লিতে আইআইটি অ্যাডভান্সে ১৬৯তম স্থানে দখল করে কিরন৷

কিরনের বাবা ভগবান পেশায় অটোরিকশা চালক৷ ছোট থেকেই অনেক কষ্টসৃষ্টে মানুষ করেছেন তার বাবা তাকে৷ দিন রাত এক করে তার বাবা পরিশ্রম করতেন যাতে কিরনের পড়াশুনায় কোনও ফাঁক না থাকে৷ অবশেষে কিরনের অভাবনীয় সাফল্যে হাসি ফুটল তার বাবা-মায়ের মুখে৷ মেয়ের সাফল্যে চোখের কোনটা হালকা ভিজে উঠল কিরনের মায়ের৷ সীমাদেবী জানালেন, তাঁদের অভাবের সংসার৷ ঠিকমতন সবসময় তার মেয়ের মুখে খাওয়ারও তুলে দিতে পারতেন না সীমাদেবী৷ কিন্তু কিরনের সাফল্যের কাছে সেটি কোনও বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি৷ সীমাদেবী জানিয়েছেন, কিরন তার লক্ষে অবিচল ছিল সবসময়৷ আর্থিক অসচ্ছলতা তার পড়াশুনায় কোনও বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি৷

আরও পড়ুন: ফ্রি-তে খাবার বিতরণ করে নজির গড়ছে আইআইটিয়ানরা

কিরনের বাবা ভগবানবাবু জানান, ‘আমি চেয়েছিলাম আমার মেয়ে স্বাধীন ভাবে জীবনযাপন করুক৷’ তিনি আরও জানান, যখন তিনি একাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন৷ টাকা পয়সার অভাবে তিনি স্কুলের বেতন দিতে পারেননি৷ তাই তাকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়৷ তাই মেয়ের পড়াশুনায় কোনও গাফিলতি যাতে না হয় সেদিকে সচেতন ছিলেন ভগবানবাবু৷ কিন্তু সমস্যা একটাই পরবর্তী পড়াশুনা চালানোর জন্য অর্থ কোথা থেকে আসবে সেটা জানেনা কিরন৷ তবে, তার এই সমস্যা সমাধানে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে জেলা কর্তৃপক্ষ৷ কিরনের পড়াশুনার দায়িত্ব আপাতত তাদেরই৷

আজ কিরনই দেশের হাজার হাজার ছাত্র ছাত্রীদের কাছে একজন নজির সৃষ্টি করেছে৷ নিজের সাফল্যে আজ কিরনও খুব খুশি৷ পরীক্ষার ফল হাতে পেতেই আবেগবিহ্বল হয়ে পরে কিরন৷ নিজের বাবা মাকে ধন্যবাদ জানায় সে৷ পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকা এবং বন্ধু বান্ধবদের সাহায্যের কথাও কিন্তু কিরন জানায় সংবাদমাধ্যমকে৷ সে জানিয়েছে, তাদের সাহায্য ছাড়া এই সাফল্য সম্ভব ছিলনা৷

----
--