৫০ বছরে সবথেকে ভয়ঙ্কর! প্রবল বৃষ্টিতে মৃতের সংখ্যা ছুঁল ২৬

কোচি: প্রবল বৃষ্টিতে কেরলে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। শুক্রবার সকালে মৃতের সংখ্যা ছুঁল ২৬। কেরলের ইদ্দুকি সহ পাহাড়ি এলাকাগুলোতে বাড়ছে ভূমিধসের সংখ্যা। আর তার জেরেই বাড়ছে মৃত্যু। একাধিক জায়গায় প্রবল ক্ষতি হয়েছে। তৃতীয়বার রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে সেরাজ্যে। ৫০ বছরে এতবড় বিপর্যয় কেরলে হয়নি বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত বুধবার থেকে শুরু হয়েছে বিপর্যয়। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ওই রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর। শুধুমাত্র ইদ্দুকি ও মালপ্পুরম জেলাতেই মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের। ১০,০০০ লোককে উদ্ধার করে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ১৫৭টি রিলিফ ক্যাম্পে। রাজ্যের ২৪টি বাঁধের দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে।

টানা পাঁচ দিন ধরে ভারী থেকে অতি ভারীবৃষ্টি চলছে কেরলে। তার জেরেই এই বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ইদুক্কি, মালাপ্পুরম, কোঝিকোড়, ওয়ানাড়, পালাক্কাড় জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায়। উদ্ধারকাজে করতে নামানো হয়েছে সেনা জওয়ানদের। নামানো হয়েছে সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং দমকল বাহিনীকেও। নিচু এলাকা থেকে উদ্ধারের কাজ চলছে। কয়েক লক্ষ বাড়িঘর জলের তলায়। কোচি বিমানবন্দরে উড়ান নামা বন্ধ রাখা হয়েছিল বন্যার আশঙ্কায়। পেরিয়ার নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। বাতিল করা হয়েছে আলাপ্পুঝায় নির্ধারিত নেহরু জাতীয় বোট রেস।

- Advertisement -

প্রাথমিক ভাবে বানভাসি এলাকা থেকে আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধারে জোর দেওয়া হয়েছে। অপেক্ষাকৃত উঁচু জায়গায় স্কুল-কলেজে খোলা হয়েছে ত্রাণ শিবির। সেই সব শিবিরে ত্রিপল, খাবার দেওয়া হচ্ছে। তদারকিতে স্থানীয় প্রশাসনকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় যে কোনও পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতে বলা হয়েছে। প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের কর্মীরাও উদ্ধার ও ত্রাণের কাজে হাত লাগিয়েছেন।

শুক্রবারও টানা ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। তাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নতুন করে আরও অনেক এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Advertisement ---
---
-----