‘৩৭৭ ধারার বিলোপ দেশের সংস্কৃতিকে কলুষিত করবে’

লখনউ: সমকামিতা আর অপরাধ নয়৷ সুপ্রিম কোর্টের যুগান্তকারী রায়ে উচ্ছসিত এলজিবিটি সদ্যসরা৷ কিন্তু এই রায়ে অখুশি ওয়াকফ বোর্ড৷ জানিয়েছে, সমকামিতা থেকে অপরাধের তকমা সরে যাওয়ায় দেশের সংস্কৃতি ও সভ্যতার পক্ষে মঙ্গলদায়ক নয়৷

উত্তরপ্রদেশ শিয়া সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড প্রধান ওয়াসিম রিজভি জানান, শীর্ষ আদালতের রায় ভারতীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে কলুষিত করবে৷ তাঁর আবেদন, ৩৭৭ ধারা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট রায় পুর্নবিবেচনা করুক৷ ওয়াসিম রিজভির দাবি, ধর্ম সমকামিতাকে মান্যতা দেয় না৷

তিনি বলেন, ‘‘যদি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয় তাহলে কোনও ধর্মেই সমকামিতাকে অনুমোদন করে না৷ ভারতীয় সংস্কৃতিতে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রবেশ বন্ধ হওয়া দরকার৷ না হলে দেশের সভ্যতা, সংস্কৃতি ও সমাজকে কলুষিত করবে৷ সুপ্রিম কোর্ট ৩৭৭ ধারা নিয়ে রায় খতিয়ে দেখুক৷ যারা এই রায়ের পর উচ্ছসিত তাদের নির্লজ্জ৷’’ এখানেই থেমে থাকেননি রিজভি৷ ওয়াকফ বোর্ড প্রধানের দাবি, এই রায়ের পর অপরাধের মাত্রা আরও বেড়ে যাবে৷

- Advertisement -

যদিও এই সব দাবি ও আশঙ্কাকে উড়িয়ে সংবিধান বিশেষজ্ঞ সুভাষ কাশ্যপ জানান, অনেকদিন ধরেই চর্চার বিষয় ছিল এটি৷ দু’পক্ষের বক্তব্য খতিয়ে দেখারই শীর্ষ আদালতের এই রায়৷ ৩৭৭ ধারাকে বিলোপ করে সমকামিতাকে আইনি স্বীকৃতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট৷ ৷

২০০৯ সালে সমকামিতা নিয়ে ৩৭৭ ধারা বাতিলের পক্ষে সায় দিল্লি হাইকোর্ট৷ সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিল করা হয়৷ ২০১৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট দিল্লি হাইকোর্টের রায় খারিজ করে ব্রিটিশ আমলে তৈরি ৩৭৭ ধারাকে বহাল রাখে৷ আশাহত হয় এলজিবিটিরা৷ কিন্তু তাতে থেমে থাকেনি তাদের আইনি স্বীকৃতির লড়াই৷ রায় পুনর্বিবেচনা করতে সুপ্রিম কোর্টে জমা হয় আবেদন৷ সামাজিক নৈতিকতাকে দুরে সরিয়ে মৌলিক অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়ে শীর্ষ আদালত ঐতিহাসিক রায়ে জানিয়ে দেয় সমকামিতা কোনও অপরাধ নয়৷

Advertisement
---