লাল ছেড়ে সবুজে এসে প্রমোশন মোনালীর

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: সিপিএম ছেড়ে তৃণমূলে এসে পদন্নোতি মোনালীর৷ গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে সিপিএম প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূলের জেলা পরিষদ প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে পরিবর্তনের জমানায় লড়াই সমানে সমানে টের পাচ্ছেন বাঁকুড়ার হিড়বাঁধের প্রাক্তন সিপিএম নেত্রী বর্তমানে তৃণমূল প্রার্থী মোনালী মহান্তি।

ঘোরতর ‘সবুজ বিপ্লবে’র এই সময়কালেও বাঁকুড়ার এই ব্লক সিপিএমের ‘শক্ত ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেলার ২২টি পঞ্চায়েত সমিতির মধ্যে একমাত্র দক্ষিণ বাঁকুড়ার হিড়বাঁধ পঞ্চায়েত সমিতি নিজেদের দখলে রাখতে পেরেছিল সিপিএম। যদিও তাদের সেই সাফল্য এখন ইতিহাস। ‘উন্নয়নে’র জোয়ারে গা ভাসিয়ে সিপিএমের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মোনালী মহান্তী-সহ কয়েকজন সদস্য যোগ দেন তৃণমূলে। ফলে পুরো মেয়াদের বেশিরভাগ সময়টাই তৃণমূলের দখলেই ছিল এই পঞ্চায়েত সমিতি।

- Advertisement -

বাস্তবে নিজের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বিন্দুমাত্র খাটো না করে জোরদার প্রচার শুরু করেছেন তৃণমূলের জেলা পরিষদ প্রার্থী মোনালী মহান্তি। দলীয় কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই বেরিয়ে পড়ছেন দেওয়াল লিখনে। ভোট প্রচারের প্রথম পর্বে এভাবেই প্রধান প্রতিপক্ষ সিপিএমকে অনেকটাই পিছনে ফেলে দিয়েছেন এলাকার আপাত ‘হেভিওয়েট’ এই তৃণমূল প্রার্থী।

দীর্ঘদিনের ‘লাল দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত হিড়বাঁধে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই পঞ্চায়েত সমিতির ১৪টি আসনের মধ্যে ৯টিতে জেতেন সিপিএম প্রার্থীরা। বাকি ৫টিতে শাসক দল তৃণমূল। সভাপতি নির্বাচিত হন মোনালী মহান্তী। পরে সভাপতি-সহ কয়েকজন সদস্যের ‘দলবদলে’র কারণে পঞ্চায়েত সমিতি পরিচালনার দায়িত্ব পায় তৃণমূল। এরপর ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও এখানে আশাতীত সাফল্য পায় শাসকদল। হিড়বাঁধ যে বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে, বিধানসভা ভোটেও সেই রানিবাঁধে কাস্তে হাতুড়ি তারাকে পরাজিত করে ঘাসফুল ফোটে।

২০১১ সালে ‘পরিবর্তনে’র সময়কালেও দক্ষিণ বাঁকুড়ার এই কেন্দ্রে সাফল্য পায়নি শাসক দল। ২০১৬তে গিয়েই সিপিএম নেত্রী, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী দেবলীনা হেমব্রমকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে বিধানসভা যাওয়ার ছাড়পত্র আদায় করে নেন ‘রাজনীতিতে নতুন মুখ’ জ্যোৎস্না মাণ্ডি। একদা লাল দুর্গে ঘাস ফুল ফোটানো হিড়বাঁধে নিজের কর্তৃত্ব ধরে রাখতে মরিয়া শাসক দল। হিড়বাঁধ পঞ্চায়েত সমিতি নিজেদের দখলে ধরে রাখতে জেলা পরিষদে মোনালী মহান্তিকে জেতাতে দিন রাত এক করে খাটছেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। আর তাদের সঙ্গে সমানে সঙ্গত দিয়ে চলেছেন প্রার্থী নিজেও। দেওয়াল লিখন শেষে এবার বাড়ি বাড়ি প্রচারে জোর দেবেন এমনটাই জানালেন তাঁরা।

 

পঞ্চায়েত সমিতির ‘বিদায়ী’ সভাপতি এবারের তৃণমূলের জেলা পরিষদ প্রার্থী মোনালী মহান্তী বলেন, আমার সময়কালে পঞ্চায়েত সমিতির উন্নয়নের খতিয়ানকে তুলে ধরেই এবারের ভোটের প্রচারে নেমেছি। পানীয় জল, শৌচাগার থেকে সরকারী প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন, মানুষের অর্থনৈতিক মানোন্নয়ন। সব ক্ষেত্রেই ১০০শতাংশ কাছ হয়েছে দাবি করে জয়ের ব্যাপারে ‘একশো শতাংশ’ আশাবাদী মোনালী দেবী বলেন, ‘‘বছরের ৩৬৫টা দিন, আর দিনের ২৪টা ঘণ্টা মানুষের সঙ্গে থাকি। আমার সমস্ত ভোটার জানেন এলাকার উন্নয়ন, শান্তি শৃঙ্খলা কাদের হাতে সুরক্ষিত। ফলে ভোটের ফলাফল নিয়ে একেবারেই ভাবিত নই আমি৷’’

গতবার এই কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী বুধন মাণ্ডি জয়লাভ করেছিলেন। এবার এই কেন্দ্রে তাদের প্রার্থী মানা বাউরী। ফলে এই আসনে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে জিতে আসাটা একটু চাপের হয়ে যাচ্ছে না? মোনালী দেবীর জবাব, ‘‘সিপিএম এখানে সংখ্যালঘু। পর পর গত নির্বাচনগুলির দিকে নজর রাখুন সিপিএমকে মানুষ ঘৃণা ভরে প্রত্যাখান করেছে। ফলে সিপিএম এখানে কোন ‘ফ্যাক্টর’ নয়৷’’ একই সঙ্গে বিজেপি নিয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতেই রাজী হননি। তাঁর কথায়, ‘‘হিড়বাঁধে তো ওদের কোন অস্তিত্বই নেই। কি মন্তব্য করব।’’

সিপিএমের হিড়বাঁধ উত্তর এরিয়া কমিটির সম্পাদক সেখ ইউনুস বলেন, শুধু ঐ জেলা পরিষদের আসনটিতে নয়। গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতিতেও আমরাই জিতব। তার জন্য চাই গণতান্ত্রিক পরিবেশ। আর সুষ্ঠ নির্বাচন। ‘যেভাবে নরমে গরমে আমাদের প্রার্থীদের শাসকদল প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিচ্ছে শেষ পর্যন্ত্য কি হবে জানি না৷’’ যদিও হিড়বাঁধের তৃণমূল ব্লক নেতৃত্ব সিপিএমের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাদের মতে, গণতান্ত্রিক পরিবেশ আছে বলেই সিপিএম সব আসনে প্রার্থী দিতে পেরেছে। পরাজয়ের ভয়ে ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে৷

Advertisement ---
---
-----