দেরাদুন: এই ছবি চোখে পড়ে না সচরাচর৷ তবে একটা থানার মধ্যে এই ছবি নজরে আসলে থমকে দাঁড়াতে হয় বইকি! উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনের প্রেম ননগর থানা৷ প্রতিদিন এখানে অপরাধী বা পুলিশকর্মীদের আনাগোনা তো নিত্যকার ঘটনা৷ কিন্তু তারই মাঝে ভেসে আসে ছোট ছোট শিশুদের গলা৷

একটু ঠাহর করলেই দেখা যায় পড়তে বসেছে সেই সব কচিকাঁচা৷ থানার মধ্যেই বসেছে স্কুল৷ প্রেম নগর থানার মধ্যে প্রতিদিন স্কুল বসে পিছিয়ে পড়া বাচ্চাদের জন্য৷ যেসব পরিবারের শিশুরা ভালো স্কুলে যেতে পারেনা, আর্থিক দুরবস্থার কারণে স্কুলের ফিজ দিতে অক্ষম, তাদের জন্য প্রতিদিন প্রেম নগর থানার একদিকে বসে স্কুল৷

দুটো শিফটে স্কুল বসে এই থানার মধ্যে৷ প্রতিদিন ৫১ জন শিশু পড়তে আসে প্রেমনগর থানায়৷ একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদের উদ্যোগে এই স্কুলটি তৈরি করা হয়েছে৷ অবশ্যই তার সঙ্গে রয়েছে পুলিশকর্মীদের সহযোগিতা৷ এলাকার নন্দী কি চৌকি বস্তির ছেলেমেয়েরা পড়ার সুযোগ পায় এখানে৷
সব রকম বিষয়ই পড়ানো হয় প্রেমনগর থানার স্কুলে৷ ইংরাজি, অঙ্ক, হিন্দির মতো বিষয় এখানে মূল সাবজেক্ট হিসেবে পড়ানো হয়৷

সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাতকারে থানার স্টেশন হাউস অফিসার মুকেশ ত্যাগি বলেন আসরা ট্রাস্টের কর্মীরা এই সব ছেলে মেয়েদের পড়ান৷ তাদের পড়াবার বা স্কুল তৈরি করার কোনও জায়গা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না৷ তখনই থানার আধিকারিকদের কাছে তাঁরা সাহায্য চান৷ পুলিশ কর্মীরাও এই মহৎ কাজের জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে কার্পণ্য করেননি৷ ছেলেমেয়েদের পড়তে দেখে খুশি থানার সব স্তরের পুলিশ কর্মীরা৷

শুধু পুলিশ কর্মীরাই নন, স্কুলের এই আর্থিক ভাবে দুর্বল পরিবার থেকে আসা পডুয়াদের যথাসাধ্য সাহায্য করেন এলাকার মানুষজনও৷ বই কিনে দেওয়া থেকে শুরু করে, নানা রকম সামগ্রী কিনে দিয়ে সাহায্য করেন তারা৷ মেলে অর্থ সাহায্যও৷ এমনকি কেউ কেউ এই স্কুলের বাচ্চাদের যাতায়াতের জন্য গাড়ির ব্যবস্থাও করেছেন৷ পাশাপাশি, স্থানীয়দের অনেকেই খাবার দিয়ে সাহায্য করেন এই স্কুলকে৷

স্কুলের শিক্ষিকা রাখী জানান, প্রত্যেক শিশুর জন্য শিক্ষা, এই উদ্দ্যেশ্য নিয়েই তাদের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা একটি স্কুল তৈরির চিন্তা ভাবনা করে৷ তবে জায়গা মিলছিল না৷ তখন থানার পুলিশকর্মীরা এগিয়ে আসেন৷ থানার মধ্যেই জায়গা করে দেন স্কুল তৈরির জন্য৷ তারপর থেকে এখানেই স্কুল বসে প্রতিদিন, নিয়মিত বাচ্চারা আসে, পড়াশুনা করে৷

বস্তি থেকে যাতে আরও শিশুরা পড়তে আসে এখানে, সেজন্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়েছে এই সংস্থা৷ পুলিশের পক্ষ থেকেও এই কাজে তাদের সহায়তা করা হচ্ছে৷ কম্পিউটার শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে ভাবনা চিন্তা করছে এই সংস্থা৷ ছাত্রীদের জন্য বিভিন্ন হাতের কাজের ক্লাস বিশেষত, সেলাই শিক্ষার ক্লাস চালু করার কথা ভাবছে এই স্কুল৷ অর্থের অভাব থাকলেও, স্বপ্নের অভাব নেই এই স্কুলে৷ সেই স্বপ্ন ডানায় ভর করেই এগোচ্ছে প্রেমনগর থানার স্কুল৷

----
--