সূর্যের তাপে গাড়ি ছোটাল ‘অশিক্ষিত’ আহমেদ

নয়াদিল্লি: দিল্লির দূষণ বর্তমানে আলোচনার শীর্ষে। দূষণ কমাতে চাপ আসছে সরকারের উপর। নেওয়া হচ্ছে নানা ব্যবস্থা। এই পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র সূর্যের আলোর উপর ভরসা করেই একটা আসত গাড়ি চলল রাজধানীর রাজপথে। পার করল বেঙ্গালুরু থেকে দিল্লি। বর্তমানে দিল্লি আইআইটির 'ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সায়েন্স ফেয়ার'-এ রয়েছে গাড়িটি। একসময়ের স্কুলছুট ছাত্রের এই আবিষ্কারে তাজ্জব সবাই।

২০০৪ -এ প্রথম গাড়িটি ডিজাইন করা হয়। এরপর থেকে গাড়িটিকে নিয়ে চলেছে অজস্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা। গাড়িটি দেখতে অদ্ভুত। সামনে রয়েছে বেশ খানিকটা চওড়া জায়গা। শুধুমাত্র গাড়িটি নিয়েই নয়, আগ্রহ তেরি হয়েছে গাড়িটির আবিষ্কর্তাকে নিয়েও। কলেজের পড়াশোনা তাঁর নেই। 'মেকানিকস' তাঁর শখ। আর সেই নেশাতেই তৈরি এই আস্ত গাড়ি।

আবিস্কর্তা আহমেদের বয়স বর্তমানে ৬৩ বছর। তিনি কোনও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অটোমোটিভ নিয়ে পড়াশোনা করতে পারতেন। কিন্তু বাড়ির আর্থিক পরিস্থিতির জন্য তাঁকে স্কুল ছেড়ে দিতে হয়। ফল বিক্রি করেই দিন চালাতেন। কিন্তু মেকানিকসে তাঁর আগ্রহ ছিল বরাবরই তাই ফলের দোকান ছেড়ে শুরু করলেন ইলেকট্রনিকস জিনিসপত্র সারানোর দোকান। ৫০ বছর বয়সে তাঁর অনেকদিনের ইচ্ছে পূরণের সাধ জাগে। তাঁর ইচ্ছে ছিল তিনি একটা কিছু বানাবেন যা মানুষের কাজে লাগবে। তৈরি করলেন ইলেক্ট্রিসিটি চালিত দু'চাকার গাড়ি। সেখান থেকেই তৈরি হল সৌরশক্তি চালিত গাড়ি।

- Advertisement -

এই গাড়ি প্রতি ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার বেগে চলবে এই গাড়ি। ব্যাটারি শুধুমাত্র সৌরশক্তিতেই চলতে পারে তা নয়, ইলেক্ট্রিসিটিতেও চার্জ দেওয়া যাবে। ১ নভেম্বর তিনি বেঙ্গালুরু থেকে গাড়ি বের করেন। এক মাস পর অর্থাৎ ১ ডিসেম্বর রাজধানীতে পৌঁছন তিই। গাড়িটি তৈরি করতে এক লক্ষ টাকার মত খরচ হয়েছে। আহমেদ জানিয়েছে, গাড়িটি আপাতত একটি মডেল। সাহায্য পেলে এটা আরও বড় করা সম্ভব।

কালামের এপিজে আব্দুল কালামের আদর্শে উদ্বুদ্ধ তিনি। কালামকে তাঁর আবিষ্কার উৎসর্গ করতে তাঁর ইচ্ছে ফেরার পথে দিল্লি থেকে রামেশ্বরম যাবেন এই গাড়ি নিয়ে।

Advertisement ---
---
-----