সাহায্য করুন! ফেসবুকে কাতর আবেদন নির্যাতিতা শিশুর বাবা-মায়ের

ছবি- প্রতীকি

নয়াদিল্লি: সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিচার চাইলেন দিল্লির তিন বছরের ধর্ষিতা শিশুকন্যার অভিভাবকরা৷ একটি ভিডিও প্রকাশ করে ফেসবুকে বিচার চেয়েছেন তাঁরা৷ পুলিশের কাছ থেকে কোনও সাহায্য না পেয়ে বাধ্য হয়েই তারা সোশ্যাল মিডিয়ার দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছে ওই পরিবার৷

গত সপ্তাহেই উত্তর দিল্লির একটি স্কুল থেকে অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফেরে তিন বছরের শিশুকন্যা৷ তার জামায় রক্তের দাগ দেখতে পেয়ে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায় পরিবার৷ চিকিৎসক জানান, যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে মেয়েটি৷

তবে স্কুলে অভিযোগ জানাতে গেলে, স্কুল গোটা ঘটনা সম্পূর্ণ অস্বীকার করে৷ কারণ হিসেবে তারা জানায় তাদের স্কুলে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা দেওয়া হয়৷ স্কুল চত্ত্বরে এরকম কোনও ঘটনা ঘটেনি বলেও দাবি করে তারা৷ চিকিৎসকের বয়ান, নানা টেস্টের রিপোর্ট সত্ত্বেও তারা মানতে রাজী হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের৷

- Advertisement -

পরে পুলিশের কাছে যায় ওই ছোট্ট মেয়েটির পরিবার৷ তবে পুলিশের পক্ষ থেকেও কোনও রকম সহযোগিতা মেলেনি বলে অভিযোগ৷ শুধু তাই নয়, পুলিশ তাদের হুমকি দেয়৷ থানা থেকে চলে যেতে নির্দেশ দেয়৷ পরবর্তী ২৪ ঘন্টাতেও কোনও এফআইআর দায়ের করতে পারেনি ওই পরিবার৷

পুলিশের পক্ষ থেকেও বলে দেওয়া হয় স্কুল চত্বরে কোনও কিছু ঘটেনি৷ যা ঘটেছে বাড়িতেই হয়েছে বলে দাবি করে পুলিশ৷ কারণ তারা নাকি স্কুলে সব সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখেছে, সেখানে কোনও অস্বাভাবিকতা নাকি নজরে আসেনি পুলিশের৷

মেয়েটির বাবা ফেসবুক ভিডিওতে বলেন দয়া করে যেন কোনও সাহায্যের হাত এগিয়ে আসে৷ পরে মেয়েটির পরিবার, তাদের আত্মীয়রা ও প্রতিবেশিরা মিলে প্রায় ১৫০ জন স্কুলের বাইরে বিক্ষোভ দেখান৷ সঠিক বিচারের দাবি তোলেন৷ তবে স্কুলের পক্ষ থেকে বলা হয় পুলিশ সিসিটিভি খতিয়ে দেখেছে৷ কোনও তথ্য মেলেনি৷ অভিযুক্ত অবশ্যই ধরা পড়বে, কিন্তু স্কুল চত্ত্বরের মধ্যে কিছু ঘটেনি৷

ফেসবুক ভিডিওতে মেয়েটির অভিভাবকরা জানান এর আগেও তাদের সন্তানের সঙ্গে বেশ কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছে৷ বেশ কয়েক বার মেয়েটির পেটে ব্যাথার কথা জানিয়েছে৷ বেশ কয়েক বার গোপনাঙ্গে ব্যথার কথাও জানিয়েছে স্কুল থেকে ফেরার পর৷

মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে ফেসবুক ভিডিওতে জানানো হয় ‘আমরা চিন্তিত, উদ্বিগ্ন, দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন৷ সুবিচার ছাড়া আর কিছু চাই না আমরা৷ আমাদের ভয় দেখানো হচ্ছে৷’ ভিডিওর শেষে মেয়েটির মা বলেন ‘আজ আমার সন্তানের সঙ্গে এরকম হয়েছে, আগামীতে আপনার সন্তানের সঙ্গেও হতে পারে৷ সাহায্যের হাত বাড়ান৷’

Advertisement
-----