৬০ শতাংশ শিশু নির্যাতন হয় স্কুলেই: দিল্লি পুলিশ

নয়াদিল্লি : বেশি দিন আগের কথা নয়৷ গত সপ্তাহেই এক তিন বছরের শিশুর যৌন নির্যাতনের খবর প্রকাশ্যে এসেছিল৷ বাচ্চা মেয়েটি স্কুল থেকে ফিরলে তার জামায় রক্তের দাগ দেখতে পান বাবা মা৷ তার পরেই শুরু হয় সুবিচার পাওয়ার যুদ্ধ৷ কারণ পুলিশ বা স্কুল কেউই এই ঘটনা মানতে চায়নি৷ বিশেষত স্কুল চত্ত্বরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে স্বীকার করেনি কেউ৷

এখানেই শেষ নয়৷ এরকম ছবি প্রায় প্রতিদিনই উঠে আসছে৷ একের পর এক দায়ের হচ্ছে অভিযোগ৷ কিন্তু সেই অর্থে অপরাধীরা ধরা পড়ছে কোথায়? প্রশ্ন উঠছে৷

সম্প্রতি দিল্লি পুলিশ সামনে এনেছে এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য৷ পুলিশের সমীক্ষা অনুযায়ী যৌন নির্যাতন বা শিশু নির্যাতনের যেসব ঘটনা ঘটছে, তার ৬০ শতাংশই স্কুল চত্বরে বা স্কুলের মধ্যে ঘটছে বলে মনে করা হচ্ছে৷ দিল্লি পুলিশ কমিশনার অমূল্য পটনায়েক এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই নির্দেশিকা জারি করেছেন দিল্লির প্রতিটি থানায়৷ সতর্ক করা হয়েছে অফিসারদের৷ অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যাতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷

- Advertisement -

পড়ুন: এক কোটি ভুয়ো অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী চিহ্নিত করল সরকার

দিল্লি পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন অপরাধীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে৷ আইনী পদক্ষেপও নেওয়া হবে দ্রুত৷ যদি স্কুলের কোনও কর্মী এই ধরণের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকে, তবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে স্কুলের বিরুদ্ধেও৷ কমিশনার জানান, দিল্লির মাত্র ৩০ শতাংশ স্কুলের কর্মীদের পুলিশ ভেরিফিকেশন করা রয়েছে৷ ফলে সমস্যা জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে দিল্লি পুলিশ৷

দিল্লি পুলিশের মুখপাত্র জানান, এখন অনলাইনে পুলিশ ভেরিফিকেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ দিল্লি পুলিশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে তথ্য দিলেই পুলিশ ভেরিকেশন করা যাবে বলে জানানো হয়েছে৷ প্রত্যেক কর্মীর তথ্য পৃথক পৃথক ভাবে দিলেই দিল্লি পুলিশের কাছে দিলেই পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য নাম নথিভুক্ত হয়ে যাবে৷

নোবেল জয়ী কৈলাশ সত্যার্থীর চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের সমীক্ষা অনুযায়ী গত তিন বছরে ৩৪ শতাংশ শিশু নির্যাতনের সংখ্যা বেড়েছে৷ কিন্তু পুলিশ কর্মী বা অপরাধী সনাক্ত করার সংখ্যা বাড়েনি৷ ফলে খুব সহজেই ছাড় পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা৷ এতে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে৷

প্রতি পাঁচটি শিশুকন্যা যৌন লাঞ্ছনার শিকার হয়৷ এদের বয়স ৫-৯ বছরের মধ্যে৷ জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের মতে ২০১৭ সালে প্রায় ৫৩ শতাংশ অভিযোগ জমা পড়েছিল শিশু যৌন নির্যাতনের৷
এই সব সমীক্ষার ফল আশঙ্কা বাড়াচ্ছে৷ প্রশ্ন তুলছে৷ দেশের ভবিষ্যতই যদি নিরাপদ না হয়, তবে কোন পথে দিশা পাবে পরবর্তী প্রজন্ম৷

Advertisement ---
---
-----