নগদের অভাবে বড়দিনের কেকে ভয়ের কাঁকড়!

সৌমেন শীল, কলকাতা: কনকনে ঠান্ডা না পড়লেও খাতায় কলমে এসে গিয়েছে শীত। আর শীতের উৎসব মানেই বড়দিন, নিউ ইয়ার এবং অবশ্যই বাঙালির সরস্বতী পুজো। উৎসবের সূচনা যিশু খ্রিষ্টের জন্মদিন পালনের মাধ্যমে। সেই উৎসবের অন্যতম উপকরণ হচ্ছে কেক। আর এই বছরে ঘাটতি পড়েছে সেই প্রধান উপকরণের।

ডিসেম্বর মাসের ২৫ তারিখ পালন করা হয় বড়দিন। ২০ তারিখ থেকেই শহরে বিক্রি শুরু হয় কেকের। বড় কেকের দোকান ছাড়াও শহরের ছোট-বড় মুদি দোকান এবং ফুটপাথেও বিক্রি হয় ঈশ্বর যিশু খ্রিষ্টের জন্মদিন পালনের উপকরণ। কিন্তু, এই বছর ২৩ তারিখেও দেখা যাচ্ছে না কেকের পসরা। বড় কেক বিক্রেতাদের চেন বা সমজাতীয় সংস্থার আউটলেট গুলিতে থাকলেও ফুটপাথ বা ছোট দোকানে এখনও আসেনি কেক। বড় দিনের এত কাছে এখনও কেন্‌ কেকের দেখা নেই? এই উত্তর খুঁজতে বেরিয়েছিল কলকাতা২৪x৭।

আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল শহর ও শহরতলির ছোট দোকানিদের থেকে। সকলের মুখেই একই উত্তর এবং তা হচ্ছে ‘ডিমনিটাইজেশন’ বা ‘বিমুদ্রাকরণ’। এক কথায় যার অর্থ ‘নোট বাতিল’। কেন্দ্রীয় সরকারের নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে দেশের সব স্তরেই প্রায় পড়েছে। আর সেই কারণেই ক্ষতির মুখে পড়েছে বড়দিনের মরশুমে কেক ব্যবসা। যদিও বিষয়টি এমন নয় যে সাধারণ মানুষ নগদ টাকার অভাবে কেক কিনতে পারছেন না বা নগদের অভাবে চাহিদা কমে গিয়েছে। চাহিদা অক্ষুণ্ণ থাকলেও বাজারে নগদের অভাবে বিক্রি কম হতে পারে। এই আশঙ্কাতেই চাহিদা থাকলেও যোগানের অভাব দেখা দিয়েছে বড়দিনের উৎসবের প্রধান উপকরণে। শহরতলির দোকানদার শান্তনু পোদ্দারের কথায়, “নগদের অভাবে সাধারণ মানুষ কেক কিনে বিলাসিতা করবে না। এই ভয় থেকেই কোপ পরেছে কেকের যোগানে।” অনলাইন লেনদেনের ব্যবস্থা থাকলেও যোগানে রয়েছে ঘাটতি।

- Advertisement -

কলকাতা শহর এবং সংলগ্ন এলাকায় কেক আসে সাধারণত পূর্ব মেদিনীপুর, হাওড়া এবং দুই ২৪ পরগণা থেকে। বিভিন্ন ডিস্ট্রিবিউটের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে যায় শহরের বিভিন্ন প্রান্তে। এক ডিস্ট্রিবিউটের কথায়, “অন্যান্য বারের থেকে এই মরশুমে কেকের যোগান ৬০ শতাংশ কম। অর্ডার এর থেকেও কম হয়েছিল। জোর করে অনেক ব্যবসায়ীকে গছানো হয়েছে।” তিনি আরও জানিয়েছেন যে ২৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হলেও কেকের বাজার জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত থাকে। তারপর বিয়ের মরশুম শুরু হয়ে গেলে কমে যায় কেক বিক্রি। এই মরশুমে জানুয়ারির গোরার দিকে কেকের চাহিদা ব্যাপক হারে বাড়তে পারে এবং সেই সময় পর্যাপ্ত পরিমাণ কেকের যোগান থাকলেও কালোবাজারির আশঙ্কা করছেন হুগলীর এক ডিস্ট্রিবিউটর। তাহলে এবারে কী পায়েস দিয়েই যিশু খ্রিষ্টের জন্মদিন পালন করবে বাঙালি!

Advertisement ---
---
-----