জ্বরের জেরে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে গারুলিয়ায়

শিবানী ঘটক, গীতা রায় এবং কৃষ্ণা মুখোপাধ্যায়

স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: জ্বরের জেরে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গারুলিয়া পুর এলাকায়। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। যা ঘিরে আতংক ছড়িয়েছে সমগ্র এলাকায়।

গত তিন সপ্তাহের মধ্যে তিন মহিলার মৃত্যু হয়েছে গারুলিয়া পুর এলাকায়। যাদের মধ্যে দুই জন চার ওয়ার্ডের বাসিন্দা। অপর জন পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার। মৃতেরা হলেন শিবানী ঘটক(৪৬), গীতা রায়(৭২) এবং কৃষ্ণা মুখোপাধ্যায়(৫০)।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শিবানী দেবী ছাড়া কারো মৃত্যুর শংসাপত্রে ডেঙ্গুর উল্লেখ নেই। কামারহাটির সাগর দত্ত হাসপাতাল থেকে দেওয়া শিবানী দেবীর শংসাপত্রে তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে ডেঙ্গুর উল্লেখ রয়েছে। গীতা রায়ের মৃত্যু হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে ঘটেছে বলে লেখা হয়েছে মৃত্যূর শংসাপত্রে। অন্যদিকে কৃষ্ণা দেবীর মৃত্যূর কারণ হিসেবে লেখা হয়েছে সেপসিস।

শিবানী ঘটকের মৃত্যুর শংসাপত্র
- Advertisement -

গীতা রায় এবং কৃষ্ণা মুখোপাধ্যায়ের ডেঙুর কারণেই মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁদের পরিবারের লোকেরা। গীতা দেবীর প্লেটলেট ২০ হাজারে নেমে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন তাঁর পরিবারের লোকেরা। গীতা দেবীর পরিবারের অন্য একজনের ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে। অন্যদিকে, কৃষ্ণা দেবী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত সেই রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টও রয়েছে বলে দাবি করেছে তাঁর পরিজনেরা। ডেঙ্গুর সঙ্গে মেনিনজাইটিসেও আক্রান্ত ছিলেন কৃষ্ণা দেবী।

সচেতনতার প্রচার

গারুলিয়া পুর এলাকার চার, পাঁচ এবং ছয় নম্বর ওয়ার্ডে ডেঙ্গু মারাত্মক আকার নিচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। চার নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গৌতম বসুর স্ত্রী এবং পুত্রও ডেঙ্গুর কবলে পড়েছেন। চিকিৎসার জন্য তাঁদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভরতি করা হয়। ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ভোলানাথ তরফদার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বেশ কিছুদিন বারাকপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভরতি ছিলেন। তাঁর রক্তের প্লেটলেট ২৯ হাজারে নেমে গিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে পরিবার সূত্রে। যদিও এখন তিনি বাড়িতে ফিরেছেন। ১৬ ওয়ার্ডেও এক ব্যক্তির ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

কাউন্সিলরদের সঙ্গে সুনীল সিং

ডেঙ্গুর বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন চেয়ারম্যান সুনীল সিং। যদিও তিন ব্যক্তির মৃত্যুর বিষয়টি তিনি মানতে নারাজ। তাঁর কথায়, “এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এক জনের মৃত্যু হয়েছে। ১৫ জন আক্রান্ত। পুরসভা ডেঙ্গু প্রতিরোধে যথাসাধ্য চেষ্টা চালাচ্ছে।” এলাকায় সচেতনতা গড়তে নিজেই মাঠে নেমেছেন সুনীলবাবু। কাউন্সিলরদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মশার বাড়বাড়ন্ত রুখে নিজে ওষুধ স্প্রে করেছেন।

Advertisement ---
-----