ডেঙ্গুতে মৃত কিশোরীর চিকিৎসার বিল ১৬ লক্ষ টাকা

নয়াদিল্লি: ডেঙ্গু হয়েছিল সাত বছরের মেয়েটির৷ বাঁচেনি সে৷ সেই পরিবারের হাতে ১৫ দিনের খরচ বাবদ প্রায় ১৬ লক্ষ টাকার বিল ধরাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দু সপ্তাহের বেশি আইসিইউ-তে থাকার পর অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার সময় মৃত্যু হয় ওই কিশোরীর৷

ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছে সোশাল মিডিয়ায়৷ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা। অভিযোগের আঙুল গুরুগ্রামের বেসরকারি ফর্টিস হাসপাতালের বিরুদ্ধে।

১৭ নভেম্বর বছর সাতের আদিয়া সিং-এর বাবার এক বন্ধুর টুইটার পোস্ট থেকে প্রকাশ্যে আসে বিষয়টি। মেসেজটি ৪ দিনে ৯০০০ বার রি-টুইট করা হয়েছে। এতেই নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য মন্ত্রক৷ এই ব্যাপারে যাবতীয় তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী৷

- Advertisement -

জানা গিয়েছে, মেয়ের চিকিত্‍‌সার জন্য অফিস থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজনদের থেকেও সাহায্য নিয়েছিলেন আদিয়ার বাবা জয়ন্ত।

গত ২৭ আগস্ট প্রবল জ্বরে আক্রান্ত হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী আদিয়া। তাকে প্রথমে দ্বারকার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় ডাক্তারদের পরামর্শে ৩১ আগস্ট তাকে ভর্তি করা হয় গুরুগ্রামের ফর্টিস হাসপাতালে। রক্ত পরীক্ষায় জানা যায়, তার ডেঙ্গু হয়েছে।

চিকিত্‍‌সার পরও তার রক্তের প্লেটলেটের পরিমাণ দিন দিন কমে যেতে থাকে। এরপর তাকে ভেন্টিলেশনেও রাখা হয়েছিল। দশ দিন সে ছিল লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমে। এরই মাঝে ক্রমশ চড়তে থাকে বিল। ১৫ দিন পর যখন দেখা যায় মেয়েটির মস্তিষ্কে সাংঘাতিক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে, তখন ডাক্তাররা আশা ছেড়ে দেন। এই সময় হাসপাতাল পাল্টানোর কথা ভাবলেও কর্তৃপক্ষ তাদের অ্যাম্বুলেন্স দিয়েও সাহায্য করেনি বলে অভিযোগ আদিয়ার পরিবারের।

ফর্টিস হাসপাতালের তরফে স্বাস্থ্য মন্ত্রককে জানানো হয়েছে, আদিয়ার চিকিত্‍‌সার নিয়ম মেনে সব রকম ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আর বিল হয়েছিল ১৫ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা৷