নামচর্চা কক্ষে এখনও শুধুই ‘বাবা’র নাম

নয়াদিল্লি: তিনি না থেকেও আছেন। সেক্টর ২৩-এর নামচর্চা কক্ষে এখনও তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি। তিনি গুরমীত রামরহিম সিং। গত বছর আজকের দিনেই পাঁচকুলার সিবিআই কোর্ট তাঁকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত করে। তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ঘিরে প্রতিবাদে মুখর হন তাঁর ভক্তরা। প্রতিবাদ, হিংসা কোনোকিছুই বাদ যায়নি। তবে ভক্তদের সব চেষ্টাকে ব্যর্থ করে গতবছর ২৮ অগস্ট সিবিআই কোর্ট তাঁকে কুড়ি বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত করে।

স্বঘোষিত গডফাদার রামরহিম সিং প্রার্থনার সময় ঠিক করেছিলেন। তাঁর ডেরায় বেলা ১২টা ‘সেবা’র সময়। বিগত এক বছরে বদলায়নি যে কিছুই এদিনের ছবি তা স্পষ্ট করল। একদল মহিলাকে দেখা গেল চেনা ছন্দে। কেউ চাপাটি, সব্জি তৈরি করছেন যারা বৃহস্পতিবার কোর্টের শুনানির সময় উপস্থিত থাকবেন তাদের জন্য। কেউবা তাদের মন্দির চত্বর পরিষ্কার করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহিলা জনালেন,’আমরা সেবা করতে আসি। দুই থেকে তিন ঘণ্টা সেবা করি। বাবা(রামরহিম সিং) আমাদের শিখিয়েছেন সেবাই পরম ধর্ম’।

আশ্রমের এক কেয়ারটেকার সাধু রাম জানান, ‘১৫ আগস্ট বাবার জন্মদিন ছিল। আমরা তাঁর জন্মদিন উদযাপন করি। আশ্রমের দেওয়াল জুড়ে তাঁর ছবির সাথে বার্তা লিখেছিলাম । আমরা সেদিন বৃক্ষরোপণ করি ও ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করি। আমরা মনে করি বাবা আমাদের সাথেই আছেন। ওনার শিক্ষা, আদর্শ আমাদের পাশে আছে।’ যদিও নামচর্চা কক্ষের দরজা এখনও জনসাধারণের জন্য বন্ধ রয়েছে। কিছু পরিচিত মুখ ছাড়া এই দরজা খোলে না। এদিন এক অল্পবয়সী যুবককে আশ্রমের ভেতরে রাম রহিমের ছবির সামনে প্রার্থনা করতে দেখে, সাধু রাম আরও বলেন, ‘এরা প্রত্যেকেই বাবার আদর্শে অনুপ্রাণিত। আমি বাবার জন্য আজ এই জীবন পেয়েছি। শুধু আমি একা না হাজার হাজার মানুষকে বাবা নতুন জীবন দিয়েছেন’।

- Advertisement -

বুধবার আদালতের শুনানির জন্য করনাল, কৈথাল, হিসার থেকে আটজন মানুষ আসেন। প্রসঙ্গত রাম রহিম সিংয়ের সাজা ঘোষণার পরপরই জেলা প্রশাসন নামচর্চা কক্ষটি বন্ধ করে দেয়। যদিও এর তিন মাস পরেই সেটি খুলে দেওয়া হয়। সাধু রাম জানান,’তাদের এটি বন্ধ করে দেওয়ার কোন অধিকার ছিল না। তারা বাবার সমস্ত ছবি সরিয়ে দেয়। আমরা আবার আগের মতো সব কিছু ঠিক করি’।

এদিকে গত বছর রাম রহিমকে নিয়ে যাওয়ার জন্য যে হেলিপ্যাডটি তৈরি করা হয়েছিল তার জন্য ওই অঞ্চলে বিপুল ক্ষয় ক্ষতি হয়। হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল কাট্টর ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করলেও আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি।