শেখর দুবে, কলকাতা: হাতে এসেছে নিয়োগপত্র, কিন্তু চাকরির দেখা নেই ! সরকারি চিঠিতে বলা হয়েছে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জন্য আপনাকে নিয়োগ করা হল৷ কিন্তু বাস্তবটা কি ? যে স্কুলের জন্য নিয়োগপত্র পাঠানো হয়েছে তার বেশকিছুতেই নেই সংশ্লিষ্ট শূন্যপদ৷ এ কেমন রঙ্গ !!

প্রায় দুবছর আগে হয়েছিল স্কুল সার্ভিস কমিশনের একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা। তার পর কেটে গেছে অনেকটা সময়। এখনও চাকরি পাননি পরীক্ষায় পাশ করা বহু প্রার্থী। মাঝে মাঝেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশনের স্কুল শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়াটি। অনেক চাকরিপ্রার্থী আইনের দ্বারস্থও হয়েছেন। ডব্লিউবিএসএসসির প্রথম SLST নিয়োগ সংক্রান্ত বিতর্কের তালিকাতে নতুন সহযোজন, নিয়োগপত্র হাতে পেলেও কাউন্সেলিংয়ে পাওয়া অনেক স্কুলেই নেই একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শূন্যপদ, সুতরাং চাকরিতে যোগ দিতে পারছেন না নবনিযুক্ত শিক্ষকরা। এমনটাই অভিযোগ করছেন অনেক চাকরিপ্রার্থী।

নিয়োগপত্র পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে চাকরিতে যোগ দিতে হবে। এদিকে স্কুলে নেই একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর শূন্যপদ। প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত নিয়ে নির্দিষ্ট জেলার ডিআইয়ের কাছে গিয়ে বিষয়টি জানাচ্ছেন অনেকে। কিন্তু সেখানেও অসুবিধে রয়েছে। অনেক স্কুলের প্রধান শিক্ষকই শূন্যপদ নেই বলে লিখে দিতে চাইছেন না। কারণ তারা ডিআই অফিস থেকে সেরকম কোনও নির্দেশ পাননি। আবার অনেক প্রধান শিক্ষক লিখে দিলেও সেই চিঠি নিয়ে ডিআই অফিস,সেখান থেকে আবার আচার্য সদন (সল্টলেক সেক্টর-২) এবং বিকাশ ভবন এই পদ্ধতি অবলম্বন করতে সময় লাগছে অনেকটাই। নিয়োগপত্র পাবার পরও এরকম ডব্লিউবিএসএসসির পদ্ধতিগত ভুলের জন্য তাদের অকারণে ভুগতে হচ্ছে বলে অভিযোগ নিয়োগপত্র পাওয়া শিক্ষকদের একাংশের।

রাজ্য সরকারের স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিস্তর বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগ উঠছে৷

 

 

২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে WBCSSC 1ST SLST-র নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। এরপর ভাইভার জন্য ডাকা উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের। ২০১৭ নভেম্বর মাসে ফাইনাল রেজাল্ট বেরোয়।

২০১৮ অগস্টে এই সফল পরীক্ষার্থীদের স্কুল বাছাই করার জন্য কাউন্সেলিংয়ে ডাকা হয়েছিল। ১০ সেপ্টেম্বর কলকাতার সল্টলেক সেক্টর-২ এর ডিরোজিও ভবনে তাঁদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। এরপর নিয়োগপত্র পাওয়া নতুন শিক্ষকদের বেশকিছু জন নির্দিষ্ট স্কুলে যোগ দিতে গিয়ে জানতে পারেন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর শূন্যপদ নেই। বরং সেই স্কুলে রয়েছে নবম ও দশম শ্রেণীর জন্য শিক্ষকের শূন্যপদ। এদিকে ডব্লিউবিএসএসসি-র নিয়ম অনুসারে নিয়োগপত্র পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে চাকরিতে যোগ দিতে হয়। তাই এই সদ্য নিয়োগপত্র পাওয়া শিক্ষকরা চাকরি নিয়ে রীতিমত ধন্দে রয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এরকমই এক নবনিযুক্ত শিক্ষকের কথায়, “বুঝতে পারছি না সব কটা পরীক্ষায় পাশ করে এতদিন অপেক্ষা করেও আদৌ চাকরিটা পাবো কিনা!”

নিয়োগে অসুবিধার কথা স্বীকার করে নিচ্ছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষকরাও। পুরুলিয়ার একটি স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, “দেখুন এরকম অসুবিধে হচ্ছে। আমাদের স্কুলেও একজন ইংরাজির ম্যাডাম এসেছিলেন। ওনার নিয়োগপত্রে একাদশ দ্বাদশ শ্রেণীর উল্লেখ ছিল। কিন্তু আমাদের স্কুলে নবম এবং দশম শ্রেণীর শূন্যপদ রয়েছে। তাই উনি নিয়োগপত্র থাকা সত্ত্বেও যোগ দিতে পারেননি।”

একইরকম ঘটনার কথা বললেন উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তিনি বলেন, “বিষয়টি খুবই জটিল। নতুন নিয়োগপত্র পাওয়া অনেক শিক্ষককেই অসুবিধেয় পড়তে হচ্ছে। আমরা পাশে থাকার চেষ্টা করছি। আসলে আমাদের স্কুলে যে শূন্যপদ রয়েছে তা নবম ও দশম শ্রেণীর, তাই আমরা চাইলেও একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগ করাতে পারি না।”

বিষয়টি নিয়ে ডব্লিউবিএসএসসির সদর দফতরে যোগাযোগ করতে চাওয়া হলে কলকাতা২৪x৭-এর সঙ্গে কথা বলতে চাননি সংশ্লিষ্ট সংস্থার কোন আধিকারিক৷

----
--