কেন বাড়ানো হচ্ছে অবসরের বয়স? রাজপথে বিক্ষোভ জনতার

মস্কো: অবসরের বয়স বাড়ানোর প্রতিবাদে এবার রাজপথে আমজনতা৷ প্রতিবাদ শুধু মস্কোর রাস্তায় নয়, সেন্ট পিটার্সবুর্গসহ অন্যত্রও একই চিত্র। সমাজতান্ত্রিক যুগে শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষার অন্যতম স্তম্ভে আঘাত এনে সম্প্রতি পেনশন সংস্কারের কথা ঘোষণা করে রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের সরকার।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে, জুনে প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ প্রথম এই সংস্কারের কথা ঘোষণা করেছিলেন। ১৯২৮ থেকেই রুশ মহিলাদের অবসরের বয়স ৫৫ এবং পুরুষদের ৬০ বছর ছিল। কিন্তু পুতিন মহিলাদের ক্ষেত্রে এই অবসরের বয়স বাড়িয়ে ৬৩ এবং পুরুষদের ৬৫ বছর করতে চান। আর তাতেই প্রতিবাদ শুরু হয়েছে৷ গত কয়েকদিন ধরে প্রতিদিনই বাড়ছে প্রতিবাদী মানুষের সংখ্যা। প্রসঙ্গত, ক্রমশ ক্ষোভ বাড়ায় পুতিন কদিন আগে পুতিন এক টেলিভিশন ভাষণে মহিলাদের ক্ষেত্রে অবসরের বয়স কিছুটা কমিয়ে ৬৩ থেকে ৬০ করেন, কিন্তু পুরুষদের ক্ষেত্রে একই রেখে দেন। যদিও তাতে প্রতিবাদের আঁচ কমছে না৷

গত রবিবার এই প্রতিবাদ অন্য মাত্রা নেয়।মস্কোয় মেয়র নির্বাচনে রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টি (সি পি আর এফ)-র প্রার্থী, দুমার (রুশ সংসদ) প্রাক্তন সদস্য ভাদিম কামিন দাবি করছেন পথে নেমেছেন অন্তত এক লক্ষ মানুষ।যদিও মস্কো পুলিশের হিসেব বলছে ৬০০০। এভাবে অবসরের বয়স বাড়ানো হলে, প্রতিটি রুশ নাগরিকের থেকে লুট করা হবে ১০ লক্ষ রুবলের (১৬,০০০ ডলার) বেশি অর্থ বলে দাবি করেছেন বামপন্থী ফ্রন্টের নেতা, প্রাক্তন রাজনৈতিক বন্দি সের্গেই উদালস্তভ।

- Advertisement -

পরের রবিরার অর্থাৎ ৯ তারিখ মস্কোয় মেয়র নির্বাচন। ওই নির্বাচনে অবসরের বয়স বাড়ানোর বিষয়টি প্রচারের ইস্যু করা হচ্ছে। সেইসঙ্গেই পুতিন-মেদভেদেভ সরকারের পদত্যাগ চেয়ে পথে নেমেছেন একদল মানুষ। এদিকে রুশ শ্রমমন্ত্রী ম্যাক্সিম তোপলিনের পরিকল্পনা হল ২০২৪ সালের মধ্যে সরকার পেনশন প্রাপকের সংখ্যা ১১ শতাংশ (সংখ্যায় ৪৬ লক্ষ) কমাতে চান।

Advertisement
---