মুখ্যমন্ত্রীর অনুদান সত্ত্বেও পুজোয় মিলল না পুলিশের অনুমতি

দেবযানী সরকার, কলকাতা: ২৯ বছরের পুরনো পুজো৷ মিলেছে রাজ্যের দেওয়া পুজোর সরকারি অনুদানের অর্থ৷ কিন্তু তাতেও বিধি বাম৷ প্রমোটারের দাপটে নাকি সেই দুর্গা পুজোই বন্ধের মুখে! জোটেনি পুলিশের অনুমতি৷

আইনের রক্ষকদের সাফাই যে মাঠে পুজো হয় সেটি এখন প্রমোটারের মালিকানাধীন৷ ফলে জমির মালিক অনুমতি না দিলে পুজোর অনুমতি দিতে পারবেন না তারা৷

রাজ্যের দেওয়া পুজো অনুদানের চেক

এই দাবি অবশ্য উড়িয়ে দিচ্ছেন বেলঘড়িয়া থানা এলাকার ভার্নার লেনের অশোক সংঘের সদস্যরা৷ এলাকার মানুষের সমর্থনে অবশ্য পুজো হচ্ছে ওই মাঠেই৷ কিন্তু পুলিশের লিখিত অনুমতি না থাকায় বিসর্জন আটকে যাবে না তো? আশঙ্কায় পুজো উদ্যোক্তারা৷

অশোক সংঘের সহ কোষাধ্যক্ষ অরিন্দম দাসের অভিযোগ, ‘‘গত ২৯ বছর ধরে পাড়ার একটি মাঠে পুজো হচ্ছে রমরমিয়ে৷ ৬৯ বছর ধরে এই মাঠেই আমরা কালীপুজো করছি৷ এতদিন দমকল, পুরসভা ও সিইএসসি’র ছাড়পত্র পাওয়া গিয়েছে৷ এবারেও তার অন্যত্র হয়নি৷ কিন্তু পুলিশ বলছে এই জমি প্রমোটার নিতাই মজুমদার কিনে নিয়েছেন৷ তার অনুমতি ছাডা় মাঠে পুজোর লিখিত ছাড়পত্র দেওয়া যাবে না৷’’ মাঠ বিক্রি হয়ে যাওয়ার নথি অবশ্য পুলিশ দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ অরিন্দম বাবুর৷

এবিষয়ে কলকাতা ২৪x৭-এর তরফে যোগাযোগ করা হয় বেলঘড়িয়া থানার আই সি দেবর্ষি সিনহার সঙ্গে৷ অশোক সংঘের পুজোর অনুমতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তাঁর পালটা প্রশ্ন, ‘‘কে বলেছে ওরা পুজোর অনুমতি পাইনি?’’ পুজো উদ্যোক্তাদের দাবি তুলে ধরতেই বিরক্তি গলায় আই সি’র প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা৷ তিনি বলেন, ‘‘তাহলে ওদের সঙ্গেই কথা বলুন৷’’

শেষ বেলায় সব পুজো ভেস্তে দেওয়ার পিছনে অবশ্য পুলিশ-প্রমোটার অশুভ আতাঁতের গন্ধ পাচ্ছেন আশোক সংঘের সদস্যরা৷ মাঠ কব্জা করতেই প্রমোটারের কৌশলী চাল বলে অভিযোগ তাদের৷

দুর্গার আবাহনে অবশ্য পিছু হঠছেন না ভার্নার লেনের বাসিন্দারা৷ এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাদের আবেগ৷ ফলে দেবী দুর্গার পুজো সফল করতে তারা জোট বেঁধেছেন৷

উপযুক্ত প্রমাণ হাতে পাওয়া যায়নি৷ তাই মাঠ কার সে তরজায় যেতে নারাজ ক্লাব সদস্যরা৷ তবে পুলিশের মৌখিক অনুমতি মেলায় নৈতিক জয় দেখছেন তারা৷ বিনাশিনীর আরাধনার মাধ্যমে সমস্যার বিনাশ দেখছেন অশোক সংঘের সদস্যরা৷

---- -----