নয়াদিল্লি: ২০০০-র ডিসেম্বর মাসে মার্কিন ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছিল যে, প্রযুক্তিগত ভাবে পিছিয়ে থাকার জন্য ও মার্কিন সাহায্য ছাড়া ভারত কোনও দিন লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফট নির্মাণ করতে পারবে না৷ ঠিক তার একমাস পরেই নিজ প্রযুক্তিতে প্রথম লাইট কমব্যাট এয়ারক্যাফট সফলতার সঙ্গে পরীক্ষা করেছিল ভারত৷ তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী সেই যুদ্ধ বিমানের নাম দিয়েছিল ‘তেজস’৷ আ এই পুরো বিষয়টি ঘটেছিল ডাক্তার কোটা হরিনারায়ণের তত্ত্বাবধানে৷ মার্কিন ধারনাকে ভুল প্রমাণিত করে ওডিশার এই মহাকাশ গবেষক প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে মাথা উচু করেছিল ভারতের৷

১৯৮০-এ প্রথম এই লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফট প্রোগ্রাম শুরু হয়েছিল৷ এর দুটি কারণ রয়েছে এক, মিগ-২১ যুদ্ধবিমানের বিকল্প তৈরি করা এবং দুই, ভারতের প্রযুক্তিকে আরও অত্যাধুনিক রূপ দেওয়া৷ ১৯৪৩-এ ওডিশার বাহামপুর জেলার বাড়বাজারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন কোটা হরিনারায়ন৷ সিটি হাই স্কুল থেকে পড়াশোনা শুরু করে ইঞ্জিনিয়ারিং ও ডাক্তারি উভয় বিষয়েই প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাশ করেছিলেন তিনি৷ বেণারশ হিন্দু ইউনিভার্সিটি থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন তিনি৷

২০০১ থেকে ২০০৯-র মধ্যে আরও উন্নত করা হয় তেজসকে৷ আরও বাড়ান হয় এর গতিবেগ ও নিখুঁত করা হয় এর লক্ষ্য৷ দীর্ঘ পরীক্ষার পরে ২০১১র ২১ জানুয়ারি তেজস বায়ু সেনার ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত হয়ে ওঠে৷ ২০১৬-র ২১ জানুয়ারি বাহারিনে তেজস প্রথম কোনও আন্তর্জাতিক বায়ু প্রদর্শনিকে অংশগ্রহণ করে৷ ২০১৬-র পয়লা জুলাই ভারতীয় বায়ু সেনার ৪৫ স্কোয়াড্রানে যুক্ত হয় দুটি তেজস যুদ্ধ জাহাজ৷ যাকে চলতি কথায় আণরা ফ্লাইং ড্যাগারস নামে জানি৷

--
----
--