মাও-আতঙ্ক ভারতীর ‘ইতিহাস’ খতিয়ে দেখছেন মমতার গোয়েন্দারা

সুমন বটব্যাল, কলকাতা: ‘‘যাকে মা বলে ডেকেছিলাম, ভাবিনি তিনি সৎ-মায়ের মতো আচরণ করবেন!’’ – ঘনিষ্ঠ মহলে এখন এমনই আক্ষেপ ঝরছে পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রাক্তন আইপিএস ভারতী ঘোষের কন্ঠে৷

গোয়েন্দা সূত্রের খবর: ইতিমধ্যেই ভারতী ঘোষের চারটি অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ করে দেওয়া হয়েছে৷ চাপ বাড়াতে এবার নবান্ন থেকে মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে নির্দেশ পৌঁছেছে: ভারতীর আমলে আত্মসমপর্ণ করা মাওবাদীদের ধরা দেওয়ার প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে হবে৷ একই সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে তাঁর আমলে নিয়োগ হওয়া সিভিক ভলানটিয়ারদের প্রক্রিয়াও৷

আরও পড়ুন: ছেলেরা তো কাত! কি বলছে এ শহরের মেয়েরা?

জেলা পুলিশের একটি সূত্রের দাবি: যিনি পুলিশ সুপারের পদ ব্যবহার করে ব্যবসায়ীদের চমকে ‘তোলাবাজি’ করতে পারেন, তিনি বিনে পয়সায় কাউকে চাকরিতে নিয়োগ করেছেন- এটা মেনে নেওয়া সত্যি কঠিন৷ ওই মহলের দাবি, ভারতীদেবীর ‘ইতিহাস’ জানতে ২০১১-১৭ তাঁর পশ্চিম মেদিনীপুরের চাকরি জীবন খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷

গোপন আস্তানা থেকে ভারতীদেবীর পাল্টা অডিও বার্তার প্রক্রিয়া অবশ্য জারি রয়েছে৷ নিজের অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ করার বিষয়ে তাঁর অভিযোগ, ‘‘এর মধ্যে আমার ‘স্যালারি অ্যাকাউন্ট’ও আছে। তাতে হাত পড়লে আমি আদালতে যাব।’’

আরও পড়ুন: খেলার ছলে পেরেক গিলে ফেলল শিশু

এদিকে নবান্নের একটি সূত্রের খবর: ভারতীর আমলে আত্মসমপর্ণ করেছেন জঙ্গলমহলের এমন কিছু মাওবাদীকে মঙ্গলবার নিয়ে আসা হয় নবান্নে৷ কিভাবে তাঁরা ভারতীদেবীর সঙ্গে যোগাযোগ করলেন, অত্মসমপর্ণের ক্ষেত্রে ভারতীদেবী কোনও চাপ সৃষ্টি করেছিলেন কি না গোয়েন্দারা বিস্তারিতভাবে সেবিষয়ে খোঁজখবর নেন৷

এদিকে বাতিল টাকায় সোনা লেনদেন নিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরের মামলায় অভিযুক্ত ব্যবসায়ীদের খোঁজ পেতে ভিন রাজ্যে যাচ্ছেন গোয়েন্দারা৷ এক গোয়েন্দা কর্তার কথায়, ‘‘সোনা লেনদেনের বেশিরভাগটাই রাজ্যের বাইরে পাচার হয়ে গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে৷ বাতিল টাকা কী ভাবে আনা হয়েছিল, সেই টাকা কোন পদ্ধতিতে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়, তার খুঁটিনাটি তথ্য জোগাড়ের চেষ্টা চলছে।’’

আরও পড়ুন: রিজেন্ট পার্কের নিখোঁজদের খোঁজে বিহার যাচ্ছে পুলিশ

©Kolkata24x7 এই নিউজ পোর্টাল থেকে প্রতিবেদন নকল করা দন্ডনীয় অপরাধ৷ প্রতিবেদন ‘নকল’ করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে ----
----
---