বাসুদেব ঘোষ, সিউড়ি: লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়নি। তার আগেই পাচন বিলি শুরু হল বীরভূমে। এক হাতে পাচন। একহাতে ছোট লাঙ্গল। এই রূপেই দেখা গেল ময়ূরেশ্বরের হাইস্কুলের মাঠে তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মন্ডলকে৷

গত ৫ ডিসেম্বর দু’কোটি টাকা ব্যয়ে জেলার কীর্তন দলগুলিকে চার হাজার খোল এবং আট হাজার করতাল বিলি করা হয়েছে। এবার জেলার সর্বত্র পাচন বিলির নির্দেশ দেওয়া হল। ময়ূরেশ্বরের হাইস্কুল মাঠে এদিন উপচে পড়া ভিড় ছিল৷

দাপুটে নেতা অনুব্রত বাবু জানালেন, আজ শুরু হল নানুরে। এবার ময়ূরেশ্বরে ও রামপুরহাটে। একে একে ১৯ টি ব্লকের বিলি হবে পাচন। বিজেপির বহিরাগত বিহারী নেতাদের জব্দ করতে শনিবার ঘোষণা করে দিলেন তিনি। জেলার উর্বর জমিতে কেমন চাষ হবে৷ নির্বাচনের ফল ঘোষণা হলেই তা বুঝতে পারবেন বলে জানান তৃণমূলের দাপুটে নেতা।

অনুব্রতর এই পাচন বিলি নিয়ে বিজেপির জেলা সভাপতি রামকৃষ্ণ রায় বলেন, ‘‘যে দল যাতে বশ হয়। অনুব্রত বাবু তার দলের কর্মীদের পাচন দিয়ে চাষ করান। উনি ওতেই অভ্যস্ত।’’ বিজেপির শক্ত ঘাঁটি ময়ূরেশ্বরে এত মানুষের সমাবেশ দেখে দলের সহ সভাপতি অভিজিত রানা সিংহ জানান, এখন ধান কাটার মরশুম৷ গ্রামে গ্রামে নবান্ন চলছে৷ সঙ্গে বিয়ের তোড়জোড়। তার মাঝে অনুব্রত মণ্ডলের ডাকে এত লোকের সমাবেশ প্রমাণ করে ২০১৯-এ বিজেপি ফিনিশ।

তবে পাচনের দেওয়া কবে থেকে শুরু হবে জানতে চাইলে অনুব্রত মণ্ডল বলেন, “পাচন বিলি শুরু হয়ে গিয়েছে। আর চাষে দেরি নেই। আজ নানুরে হল। পরে ময়ূরেশ্বর দিয়ে সর্বত্র হবে৷ সভার মাঝে বাঁশের ছোট লাঠি দেখিয়ে বলেন, “এই পাচন বিলি করা হবে। পাচন দিয়েই উর্বর জমি চাষ করা হবে।’’

পাচন দিয়ে চাষ মানে যে লাঠি হাতে উন্নয়ন রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তা স্পষ্ট করে দিয়েছে অনুব্রতর তৃণমূল বাহিনী। নির্বাচন এলেই কখনও চড়াম চড়াম ঢাক বাজান৷ কখনও ধামসা মাদল বাজানোর ইঙ্গিত দেন অনুব্রত মণ্ডল। আদতে যা পাচনের নামে বাঁশের টুকরো কেটে কর্মীদের হাতে হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। তাই বিজেপি নেতাদের দাবি সন্ত্রাসই তৃণমূলের আসল অস্ত্র।

রামকৃষ্ণ রায়ের দাবি পঞ্চায়েতে যা হয়েছে হয়েছে এবার লোকসভায় তা হবে না। সন্ত্রাসের মোকাবিলা করার জন্য জনগণ প্রস্তুত। বিজেপি কর্মী সমর্থকেরাও তৈরি রয়েছেন। ওই পাচন দেখিয়ে বিজেপিকে রোখা যাবে না। পাঁচন অনুব্রত বাবুর দিকেই যেন ফিরে না আসে সেটা দেখবেন।