তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: অবসরকালীন প্রাপ্ত টাকায় প্রাণ প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীদের ‘ডিজিটাল ক্লাস রুম’ উপহার দিলেন প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক সনৎ দাস। শনিবার বাঁকুড়ার সিমলাপালের হেত্যাগোড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই অভিনব ঘটনাটি ঘটে৷ জঙ্গল মহলের প্রথম কোনও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ই-লার্নিং পদ্ধতির মাধ্যমে পাঠদানের সূচনা হল শিক্ষক সনৎ দাসের হাত ধরে।

আরও পড়ুন: ক্যামেরায় বন্দি বিপন্ন স্নো লেপার্ডের ছবি

Advertisement

‘স্বাক্ষরতা দিবস’-এর দিন ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকের সৌজন্যে চালু হওয়া এই ই-লার্নিং শিক্ষা ব্যবস্থার উদ্বোধন করলেন বিডিও রথীন্দ্রনাথ অধিকারী। বিডিও রথীন্দ্রনাথ অধিকারী, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক সনৎ দাস ছাড়াও এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবী অনুপ পাত্র, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য কাঞ্চন পাল প্রমুখ।

সিমলাপালের হেত্যাগোড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ ৩৭ বছর শিক্ষকতার পর গত দু’মাস আগে অবসর গ্রহণ করেন প্রধান শিক্ষক সনৎ দাস। এলাকায় ছাত্র-দরদী শিক্ষক হিসেবে তাঁর যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। মনের মধ্যে আধুনিক পদ্ধতিতে শিক্ষাদান পদ্ধতির ইচ্ছে থাকলেও তা আর হয়ে ওঠেনি কর্মজীবনে। পরে অবসর গ্রহণের পর তিনি তাঁর অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণ করলেন।

অবসরকালীন প্রাপ্য টাকা দিয়ে নিজের স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য দান করলেন প্রোজেক্টর। যার সাহায্যে এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা সময়োপযোগী আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে পড়াশুনার সুযোগ পাবেন। প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকের এই উদ্যোগে খুশি ছাত্রছাত্রী থেকে অভিভাবক সকলেই। বাড়িতে টিভিতে দেখা সব প্রিয় কার্টুন চরিত্রদের স্কুলে বসেই দেখতে পাওয়ায় বেজায় খুশি রিয়া, সুমনা, দেবশ্রীরা।

এদিন সিমলাপালের বিডিও রথীন্দ্রনাথ অধিকারীও ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে বসে ডিজিটাল ক্লাস রুমে বসে যেন কিছুটা আবেগ তাড়িত হয়ে পড়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। এই ডিজিটাল ক্লাস রুম তৈরির ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়বে। এই ধরনের উদ্যোগ যদি জঙ্গল মহলের প্রতিটি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চালু করা যায় তবে বর্তমান প্রজন্মের কাছে পড়াশোনা আরও আগ্রহের বিষয়বস্তু হয়ে উঠবে৷’’

প্রসঙ্গত, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক সনৎ দাস বলেন, ‘‘এখানে দীর্ঘ ৩৭ বছর শিক্ষকতা করেছি। সময় বদলেছে। শিক্ষাদানের পদ্ধতি বদলেছে। এখন আনন্দদায়ক শিক্ষা পদ্ধতি চালু হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সব কিছুর পরিবর্তন হচ্ছে। বর্তমান প্রজন্ম এখন কম্পিউটার শিক্ষায় পারদর্শী। আমার দীর্ঘ শিক্ষকতার জীবনে এই স্কুলের জন্য কিছু করার চেষ্টা করেছি। অবসরের পর বহু দিনের স্বপ্ন পূরণ হল।’’ এই ধরণের আরও কিছু উপহার এই স্কুলকে দেওয়ার ইচ্ছে আছে বলেও জানান।

পাশাপাশি প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনিমেষ সিংহ মহাপাত্রও। তিনি বলেন, ‘‘সময়োপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থায় এই ধরনের উদ্যোগ যথেষ্ট প্রশংসনীয়। এর ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে আগ্রহ বাড়বে।’’ এই ধরনের উপহার দেওয়ার জন্য প্রাক্তন প্রধান শিক্ষককে তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন৷

আরও পড়ুন: ‘শুভেন্দুবাবু আমাকে চেনেন, directly নয় indirectly’

https://youtu.be/9X4GkNKmGgY

----
--