চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার দায়ে গ্রেফতার সংস্থার ডিরেক্টর

স্টাফ রিপোর্টার, কোচবিহার: চাকরির নাম করে আর্থিক প্রতারনার অভিযোগে কোচবিহারের গুঞ্জবাড়ি এলাকার “লিঙ্ক ওয়াইড টেকনোলজি প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে একটি সংস্থার ডিরেক্টর দিবাকর রায়কে গ্রেফতার করল কোচবিহার কোতওয়ালি থানার পুলিশ। প্রতারিতদের অভিযোগের ভিক্তিতে শুক্রবার তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷

প্রতারিতদের অভিযোগ, কোচবিহারের গুঞ্জবাড়িতে অবস্থিত এই কোম্পানী বেকার যুবক-যুবতীতের বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে ৮০০০ টাকা বেতনে কম্পিউটার শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। এজন্য কিছু দিন প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁদের কাছে থেকে পঞ্চাশ হাজার থেকে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত সিকিউরিটি হিসেবে নেওয়া হয়। তাঁদের বলা হয়েছিল, এক বছর পরে সিকিউরিটির টাকা ফেরৎ দেওয়া হবে।

প্রায় পঞ্চাশ থেকে ষাট জনের কাছ থেকে এই টাকা নেওয়া হয়। এর পর বিভিন্ন স্কুলে তাঁদের নিয়োগ পত্র দেওয়া হয় এবং স্কুলগুলিতে যোগদান করে তাঁরা। কিন্তু তিন চার মাস কাজ করার পর তাঁদের মাত্র ২৫০০ টাকা বেতন দেওয়া হয়। এই পরেই তাঁরা বুঝতে পারেন তাঁরা প্রতারিত হয়েছেন৷ পুলিশের দ্বারস্থ হয় তাঁরা।

- Advertisement -

অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার কোতওয়ালি থানার আইসি সমীর পালের নেতৃত্বে পুলিশ গিয়ে দিবাকর রায় নামে সংস্থার ডিরেক্টরকে গ্রেফতার করে। প্রতারিত পারমিতা সূত্রধর বলেন, ‘‘স্কুলগুলির প্রধান শিক্ষককে বলা হয়েছিল, স্কুলে একটি করে কম্পিউটার দেওয়া হবে৷ এছাড়াও প্রশিক্ষকের জন্য কোনও খরচ করতে হবে না তাঁদের।

এই ভেবেই স্কুলগুলি আমাদের কাজে যোগদান করায়। কিন্তু তিন মাস কেটে গেলেও স্কুলগুলিকে কোনও কম্পিউটার দেওয়া হয়নি। এমনকি আমরা বেতনও পাচ্ছিলাম না৷ তখনই বুঝতে পারি আমরা প্রতারিত হয়েছি৷’’

প্রতারিতরা একযোগে সংস্থার কাছে টাকা ফেরৎ চাইতে যান৷ অভিযোগ, টাকা ফেরতের পরিবর্তে সংস্থার তরফে হুমকি দেওয়া শউরু হয়৷ এরপরই তাঁরা পুলিশের দ্বারস্থ হয়। পুলিশ জানিয়েছে অভিযুক্তদের মধ্যে এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ অন্য এক অভিযুক্ত সৌমেন চক্রবর্তী পলাতক৷ তার খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশের অনুমান, প্রতারিতদের কাছ থেকে প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ টাকা হাতিয়েছে সংস্থাটি৷

Advertisement
-----