পূর্বে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে প্রস্তুত জেলা প্রশাসন

স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: দীর্ঘ টালবাহানার পর শেষমেশ রাতপোহালেই ত্রিস্তর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ, সোমবার। জেলা প্রশাসনের দাবি, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে সবরকম ব্যবস্থা করা হয়েছে। আজ পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ভোটে মোট ৮ হাজার ৮৬৮জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করবেন ৩৩ লক্ষ ৩২ হাজার ৫৫জন ভোটার। জেলায় মোট ৩ হাজার ৮০১টি বুথের মধ্যে ১০ শতাংশ বুথং ভিডিও রেকর্ডিং ও সিসি ক্যামেরা রাখা হচ্ছে৷ প্রতিটি বুথের ২০০ মিটার এলাকায় ১৪৪ধারা জারি থাকবে। অতি স্পর্শকাতর বুথের সংখ্যা প্রায় ৩৮০টি। ভোট গ্রহণের কাজে ২১ হাজার ৫০০ জন ভোট কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশ ও সিভিক ভলানটিয়ার নিয়ে মোট প্রায় ১২ হাজার পুলিশ কর্মী রাখা হচ্ছে৷ বুথ পিছু একজন করে লাঠিধারি ও বন্দুকধারি পুলিশ কর্মী থাকবেন।

পুলিশের দাবি, ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সমস্ত রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা পুলিস সুপার ছাড়াও তিন জন অতিরিক্ত পুলিস সুপার, ২৭জন ইনস্পেক্টর, এসআই ও এএসআই মিলিয়ে ৬২৮জন, কনস্টেবল, এনভিএফ ও হোমগার্ড নিয়ে মোট ৪ হাজার ৬৪৪জন, সিভিক ভলানটিয়ার থাকছেন ৬ হাজার ১২৮জন৷ এছাড়াও থাকছেন ৪০ জন র‌্যাফ, রিজার্ভ ফোর্সে ৫০জন পুলিশ কর্মী রাখা হয়েছে৷ এছাড়া ওডিশা থেকে ৯০ জন পুলিশ কর্মী জেলায় এসেছেন৷

এছাড়া ভোটের দিন জেলায় মোট ২৩টি আরটি মোবাইল টিম, ২৩টি কুই্যক রেসপন্স টিম, ২৩টি এইচআরএসএস টিম তৈরি রাখা হয়েছে৷ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা, ফেরিঘাট, গুরুত্বপূর্ণ মোট ২৩টি জায়গায় নাকা চেকিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। উত্তেজনাপ্রবণ এলাকায় শনিবার থেকেই রুটমার্চ শুরু করেছে পুলিশ৷ রবিবার সকাল থেকেই জেলার প্রতিটি ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে ভোটের সরঞ্জাম সহ ভোট কর্মীদের পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

- Advertisement -

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ২২৩টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩ হাজার ৩৭৮টি আসন, ২৫টি পঞ্চায়েত সমিতির ৬৬১টি আসন ও জেলা পরিষদের ৬০টি আসন রয়েছে। তিনটি স্তর মিলিয়ে এবার জেলায় মোট প্রার্থী রয়েছেন ৯ হাজার ৮০৮জন। এর মধ্যে শাসক দলের ৯৪০ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিরোধী দলের কোনও প্রার্থী নেই। গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে ৭৮৬জন, পঞ্চায়েত সমিতিতে ১৪৭টি জন ও জেলা পরিষদে শাসকদলের ৭জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনও প্রার্থী নেই। গ্রাম পঞ্চায়েতে ৭ হাজার ৭৭২ জন প্রার্থীর মধ্যে তৃণমূলের ৩ হাজার ৩৭৩জন, বিএসপির ৫জন, বিজেপির ১ হাজার ৬৮৫ জন, বামেদের ১ হাজার ১৩৩জন, কংগ্রেসের ১০১জন, এনসিপির ২ জন, নির্দল ১ হাজার ৩৩৯ জন ও অন্যান্য দলের ১৩৪ জন প্রার্থী প্রাতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

পঞ্চায়েত সমিতিতে ১ হাজার ৭৮১ জন প্রার্থীর মধ্যে তৃণমূলের ৬৬১জন, বিএসপির ২জন, বিজেপির ৩৯৮জন, বামেদের ৩৪৯জন, কংগ্রেসের ৪৬জন, এনসিপির ৫জন, নির্দলের ২৪৯ জন ও অন্যান্য দলের ৭১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলা পরিষদের ২৫৫ জন প্রার্থীর মধ্যে তৃণমূলের ৬০জন, বিএসপির ২ জন, বিজেপির ৪৫ জন, বামেদের ৪৫জন, কংগ্রেসের ২৯জন, এনসিপির ৩জন, নির্দলের ২৫জন ও অন্যান্য দলের ৪৬ জন প্রার্থী রয়েছেন।

প্রশাসন সূত্রে খবর, জেলায় মোট বুথের সংখ্যা ৩ হাজার ৯৮৫টি৷ এর মধ্যে বিরোধী দলের কোনও প্রার্থী না থাকায় ১৮৪টি বুথে ভোট হচ্ছে না। মোট ৩ হাজার ৮০১টি বুথের মধ্যে ৩৮০টি বুথকে অতি স্পর্শকাতর, স্পর্শকাতর হিসেবে ৩৫০টি বুথকে চিহ্নিত করা হয়েছে৷ জেলার মোট ভোটার সংখ্যা ৩৪ লক্ষ ৯৭ হাজার ২৮৭ জন। এরমধ্যে ১ লক্ষ ৬৫ হাজার ২৩২ ভোটার ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। ভোট দেবেন ৩৩ লক্ষ ৩২ হাজার ৫৫জন। তারমধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১৭ লক্ষ ২৯ হাজার ৩৬জন, মহিলা ভোটার রয়েছেন ১৬ লক্ষ ২ হাজার ৯৫৫জন ও অন্যান্য ভোটার রয়েছেন ৬৪জন।

Advertisement ---
---
-----