ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: বিষ মদ পান করে একের পর এক সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে৷ এরপরই নড়ে চড়ে বসেছে প্রশাসন৷ জেলায় জেলায় চোলাই বিরোধী অভিযান শুরু হয়৷ ধ্বংস করা হয়েছে একের পর এক ভাটিখানা৷ বাকি জেলাগুলির পাশাপাশি বর্ধমানেও চলছে অভিযান৷ ছয়টি থানার পুলিশ ও আবগারি দফতরের আধিকারিকরা লাগাতার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে৷

বৃহস্পতিবার রাতে মেমারী থানার পুলিশ অবৈধ চোলাই কারবারে যুক্ত থাকার অভিযোগে বাগগড়িয়া থেকে দুই জনকে গ্রেফতার করেছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ৪০ লিটার চোলাই। জামালপুর থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে ছয় জনকে। সেখান থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ২৩০ লিটার চোলাই। খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে এক জনকে।

Advertisement

পড়ুন: নাবালিকা পরিচারিকাকে মারধোরের অভিযোগে আটক শিক্ষিকা

বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ২৩ লিটার চোলাই মদ। ভাতার থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে আট জনকে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ৩১০ লিটার চোলাই মদ। গলসী থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে তিন জনকে। বাজেয়াপ্ত করেছে ৬৬ লিটার চোলাই মদ। এছাড়াও রায়না থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে এক জনকে। এখনও পর্যন্ত মোট ৩৬০ জনেরও বেশি চোলাইকারবারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এদিকে পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চোলাই কারবারিদের পুনর্বাসন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হল। এই পেশা ছেড়ে সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে উদ্যোগ নিলেন পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব। একই সঙ্গে পূর্ব বর্ধমানের এই চিন্তাভাবনাকে মডেল হিসাবে গোটা রাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া৷ বিশেষত তপশীলি উপজাতি এলাকাগুলিতে ছড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি তথা তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য তপশীলি উপজাতি সেলের সভাপতি দেবু টুডু।

পড়ুন: অনুব্রত মন্ডলের পোস্টার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত বীরভূম

এদিন দেবু টুডু জানান, এই চোলাই প্রস্তুতকারীদের বিকল্প পথে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে জন্য রাজ্য সরকারের কিছু প্রকল্প আছে৷ সমাজ থেকে চোলাই নির্মূল করতে সরকারি প্রকল্পকেই হাতিয়ার করতে চাইছেন তাঁরা। এর মধ্যে রয়েছে ওই সমস্ত মানুষকে ১০০ দিনের প্রকল্পে কাজ দেওয়া। রয়েছে উপজাতি শ্রেণিভুক্ত এই ধরণের চোলাই প্রস্তুতকারীদের কিংবা চোলাই কারবারিদের মধ্যে যাঁরা বয়স্কদের বার্ধক্যভাতা প্রদান করা।

তিনি আরও জানান, তাঁরা ব্লক ভিত্তিক রিপোর্ট পাওয়ার পর চিহ্নিত মানুষদের কি কি সুবিধা দেওয়া যায়৷ কিভাবে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের মধ্যে তাঁদের আনা যায়৷ সেই বিষয়ে তাঁরা উদ্যোগ নেবেন। দলীয়ভাবেও বিভিন্ন জেলায় জেলায় গিয়ে তপশীলি উপজাতি মানুষ যাঁরা এই কাজে যুক্ত আছে৷ তাদের ওই কাজ ছেড়ে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে সমাজের মূলস্রোতে ফিরে আসার আহ্বান জানান।

পড়ুন: রথ যাত্রা স্থগিত, কী হবে খোল-করতাল? জানালেন অনুব্রত

জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, প্রতিটি ব্লকের বিডিওদের এলাকাভিত্তিক চোলাই মদ নিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। ওই রিপোর্ট পাওয়ার পরই এই বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই কারবার বন্ধ করে তাঁদের নানাবিধ সরকারি সাহায্যের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করার প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

----
--