বালুরঘাট: প্রতিবছর শীতের শেষে হাসপাতালগুলি চরম রক্ত সংকটের সম্মুখীন হয়৷ চরম অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। এবছরও দক্ষিণ দিনাজপুরে গত প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে শুরু হয়েছে রক্তের অভাব। একদিকে রক্তের সংকট তার উপর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হওয়ায় তা চরম আকার ধারণ করেছে। এরফলে পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে মাইক ব্যবহার না করে সভা ও অনুষ্ঠানের নিষেধাজ্ঞার কারণে রক্তের অভাব মেটাতে তৎপর হয়েছেন দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসক সঞ্জয় বসু।

মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় মাইক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার কারণে বিভিন্ন ক্লাব ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলির পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। স্বাভাবিক কারণেই বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে অবস্থিত একমাত্র ব্লাড ব্যাংকে রক্তের ভাড়ার এই মুহূর্তে শূন্য হয়ে গিয়েছে।

Advertisement

অসহায় মুমূর্ষূ রোগীদের বাঁচাতে এই ব্যাপারে তিনি অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। জেলা মহকুমা ও ব্লক পর্যায়ের কর্মী আধিকারিকদের নিয়ে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য দফতরেও একই ভাবে রক্তদান শিবির করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। জেলাশাসকের নির্দেশে জেলা মহকুমা ও ব্লক পর্যায়ের হাসপাতাল এমনকি স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলিতেও স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মুমূর্ষূ ও অসহায় মানুষদের জন্য জেলাশাসকের এই কর্মযজ্ঞে সামিল হয়েছে বালুরঘাট পৌরসভাও। প্রশাসনিক বিভিন্ন দফতরের কর্মী আধিকারিকরা স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসায় হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকের রক্তের সংকট অনেকটাই মিটতে শুরু করেছে বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুকুমার দে জানিয়েছেন, প্রতি বছরই গরমের শুরুতে রক্তের অভাব ঘটে থাকে। এবারে সেই অভাব চরমে পৌঁছেছে। কারণ মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার কারণে মাইকের ব্যবহার ও সমাজসেবা মূলক অনুষ্ঠান করতে পারছে না বিভিন্ন ক্লাব ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলি। বিশেষ করে রক্তদান শিবিরের আয়োজন সেভাবে না হওয়ায় ব্লাড ব্যাংকে রক্তের অভাব চরম আকার নিয়েছে। জেলাশাসক এই ব্যাপারে অভিনব উদ্যোগ নিয়ে প্রশাসনিক ভবন গুলিতে শিবিরের আয়োজন করায় কর্মী আধিকারিক চিকিৎসক নার্স এমনকি সাধারণ মানুষেরও অনেকেরই স্বেচ্ছায় রক্তদান করায় সমস্যা মিটতে শুরু করেছে।

জেলাশাসক সঞ্জয় বসু জানিয়েছেন, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য কিছু বিধিনিষেধ জারি রয়েছে। যে কারণে ক্লাব ও অন্যান্য সংগঠনগুলি এই মুহূর্তে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে রক্তের যোগান স্বাভাবিক করতে কর্মী আধিকারিকদের নিয়ে নিজেরাই স্বেচ্ছায় রক্তদানের আয়োজন করার উদ্যোগ নিয়েছে। জেলা প্রশাসনিক ভবন থেকে শুরু করে ব্লক পর্যায়ে আয়োজিত এই শিবির গুলিতে শুধু সরকারি কর্মী আধিকারিকরাই নন, সাধারণ মানুষও এসে রক্তদান করছেন বলে জেলাশাসক জানিয়েছেন।

----
--