জনস্বার্থে দেওয়া অ্যাম্বুল্যান্সেও বেনিয়ম! খতিয়ে দেখছে প্রশাসন

প্রতীকী ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: ক’দিন আগেই সামনে এসেছে বেসরকারি নার্সিংহোমের অ্যাম্বুল্যান্স কেলেঙ্কারি৷ ইতিমধ্যে পুলিশের জালে দু’জন হাসপাতাল মালিক-সহ চারজন৷

সর্ষের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ‘ভূত’ খুঁজে বের করতে এবার তৎপর হলেন পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব।

আরও পড়ুন: কেপমারির শিকার বৃ্দ্ধ

- Advertisement -

প্রশাসন সূত্রের খবর, সাংসদ ও বিধায়ক তহবিল থেকে জনস্বার্থে দেওয়া বিভিন্ন অ্যাম্বুল্যান্স ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বেনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ বিগত ১০ বছরের জেলার এই সংক্রান্ত হিসাব নিকাশ জানতে চেয়ে জেলা পরিবহণ দফতরের কাছে তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছেন জেলাশাসক৷ চিঠিতে জানতে চাওয়া হয়েছে, বিগত ১০ বছরে সাংসদ ও বিধায়ক তহবিল থেকে কতগুলি অ্যাম্বুল্যান্স বিলি করা হয়েছে? সেগুলি কাদের দেওয়া হয়েছে? বর্তমানে সেগুলির হালহকিকৎ কী? জেলাশাসক জানিয়েছেন, ‘‘অ্যাম্বুল্যান্স কেলেঙ্কারি সামনে আসার পর একাধিক অভিযোগ উঠে আসছে৷ সেগুলি খতিয়ে দেখতেই এই নির্দেশ৷’’

বেআইনি অ্যাম্বুলেন্স কারবারে রাশ টানতে আগামী এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে এব্যাপারে একটি বৈঠকও ডাকতে চলেছে জেলা প্রশাসন৷ ইতিমধ্যে সেই তৎপরতাও শুরু হয়েছে৷ জেলায় অ্যাম্বুল্যান্স কেলেঙ্কারির রাশ টানতে সুনির্দিষ্ট গাইডলাইনও তৈরি করছে জেলা প্রশাসন৷ সম্প্রতি বীরভূমের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী অরিজিৎ দাসের মৃত্যুর ঘটনায় সামনে এসেছে বর্ধমানের অ্যাম্বুল্যান্স কেলেঙ্কারি৷

আরও পড়ুন: ‘চুপচাপ ফুলে ছাপে’র পালটা এল ‘পিঠ বাঁচাতে দিদি দেশ বাঁচাতে মোদী’

ফাঁস হয়েছে- নার্সিংহোম আর অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার আড়ালে জেলাজুড়ে চলতে থাকা অসাধু চক্রর আঁতাত৷ দিনের পর দিন ওই চক্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ যেভাবে প্রতারিত হয়েছেন তাতে চক্রের শিকড়ে পৌঁছাতে চাইছে প্রশাসন৷ তাই নার্সিংহোমগুলির ওপরও এবার কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করার পথেই এগোচ্ছে জেলা প্রশাসন।

জেলার মুখ্য স্বাস্থ্যাধিকারিক ডা. প্রণব রায় বলেন, ‘‘নার্সিংহোমগুলির বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহতই রয়েছেন। আচমকা হানা দেওয়া হচ্ছে৷’’ জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, আগামী এপ্রিল মাসের প্রথম দিকেই পূর্ব বর্ধমান জেলা জুড়ে থাকা অ্যাম্বুল্যান্স চালক ও মালিকদের নিয়ে বৈঠকে ডাকা হবে৷ রোগীদের প্রতারিত করা ছাড়াও অ্যাম্বুল্যান্স চালক তথা মালিকরা রীতিমতো অন্যায়ভাবেই রোগীদের অসহায়তার সুযোগে তাঁদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করত। এবিষয়ে জমা পড়া একাধিক অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: রাস্তা সারাইয়ের দাবিতে পঞ্চায়েতে বিক্ষোভ স্থানীয়দের

উল্লেখ্য, অরিজিতের মৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট অ্যাম্বুল্যান্স চালককে গ্রেফতার করেছে পূর্ব যাদবপুর থানার পুলিশ। ওই ঘটনার তদন্তে নেমে অন্নপূর্ণা নার্সিংহোমের দুই মালিক এবং এসি মেশিনের টেকনিশিয়ানকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে অন্য একটি নার্সিংহোমের টেকনিশিয়ানকেও। যদিও অ্যাম্বুল্যান্স কেলেঙ্কারির মূল পাণ্ডা বিকি এখনও পুলিশের নাগালের বাইরেই রয়ে গিয়েছে৷

প্রশ্ন উঠেছে, বর্ধমান জেলা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও। কারণ, সংশ্লিষ্ট নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ দায়ের হলেও পূর্ব যাদবপুর থানার পুলিশের মতো তৎপরতা দেখায়নি জেলা পুলিশ। বিশেষ করে পুলিশের সঙ্গে অ্যাম্বুল্যান্স চালক ও মালিকদের একাংশের ঘনিষ্ঠতা নিয়েও বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠছে। স্বাভাবিকভাবেই অ্যাম্বুল্যান্স চালক ও মালিকদের পাশাপাশি জেলা পুলিশের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রের খবর৷

আরও পড়ুন: বল ভেবে খেলতে গিয়ে আচমকা বোমা বিস্ফোরণে হাত খোয়াল ছাত্র

Advertisement
---