অপারেশন টেবিল থেকে ফিরিয়ে দিয়ে বধূকে প্রাণে বাঁচালেন চিকিৎসক

স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন বেসরকারি নার্সিংহোমে ভরতি এক মহিলা। চিকিৎসকের পরামর্শ সত্ত্বেও কোনওরূপ পরীক্ষা না করিয়েই অপারেশনের টেবিলে তুলে দেওয়া হয় রোগীকে।

অপারেশন শুরুর আগে চিকিৎসকের সন্দেহ হওয়ায় নজরে আসে যে প্রেস্ক্রিপশনে লিখে দেওয়া পরীক্ষাগুলি করাননি। গাফিলতির এই অভিযোগ বালুরঘাট শহরের বেসরকারি একটি নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রী সফরের মাঝে শিলিগুড়ির আকাশে ড্রোন ঘিরে নাশকতার শঙ্কা

ঘটনায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়। গাফিলতির অভিযোগ তুলে সোমবার রাতে নার্সিংহোমে বিক্ষোভও দেখান টুম্পা দাস নামের অসুস্থ ওই মহিলার পরিবার। হিলি থানার গারনা এলাকায় বাড়ি বক্ষস্থলে সমস্যা জনিত কারণে বালুরঘাটে ডাঃ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে দেখান টুম্পা দেবীর পরিবার। সমস্যা সমাধানে অপারেশনের পরামর্শ দেন তিনি। সেই মোতাবেক উত্তর চকভবাণী এলাকার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে সোমবার সকালে তাঁকে ভরতিও করান হয়। অপারেশনের আগে শারীরিক অবস্থা বুঝতে বেশ কিছু পরীক্ষানিরীক্ষা কথাও লিখে দিয়েছিলেন চিকিৎসক।

পরিবারের অভিযোগ, সকাল থেকে না খেয়ে থাকলেও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ একটিও পরীক্ষা না করায়নি। রাতে ডাঃ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় এলে মহিলাকে বিনা পরীক্ষা রিপোর্টেই অপারেশন টেবিলে নিয়ে যাওয়া হয় মহিলাকে। অপারেশন শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে সন্দেহ হওয়ায় রিপোর্ট দেখতে চান তিনি৷ তখনই পরীক্ষা না করানোর বিষয়টি নজরে আসে চিকিৎসকের।

আরও পড়ুন: ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ, ইনস্টাগ্রামে নিউ লুকে সোনালি

এর পরেই ক্ষুব্ধ চিকিৎসক মহিলাকে অপারেশন ঘর থেকে বের করে দেন। দিনভর না খেয়ে থাকা সত্ত্বেও অপারেশন করাতে না পেরে অসুস্থ ওই মহিলা নার্সিংহোমের মেনগেটের সামনে কাঁদতে শুরু করেন। এলাকার মানুষজন ও পরিবারের লোকেরা বিষয়টিতে গাফিলতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে৷ এরপর ঘটনার বেগতিক দেখে কোনওরূপ লিখিত ছাড়াই মহিলাকে ছুটিও দিয়ে দেয় নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ।

এই বিষয়ে নার্সিংহোমের তরফে ডাঃ সুরেশ মণ্ডল যদিও গাফিলতির অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। সেই সঙ্গে তিনি একথাও জানান যে তাঁদের কাছে এই ধরনের কোনও অভিযোগই জমা পড়েনি।

আরও পড়ুন: সুমিত্রা মহাজনের আবেগপ্রবণ চিঠি মন্ত্রীদের উদ্দেশে

Advertisement
---
-----