ঐতিহাসিক বৈঠকে অংশ নিতে সিঙ্গাপুরে ট্রাম্প

সিঙ্গাপুর: সিঙ্গাপুরে পৌঁছলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে ঐতিহাসিক বৈঠকে বসবেন তিনি৷ মঙ্গলবার সানতোসা দ্বীপে ট্রাম্প-কিমের বৈঠকটি হবে৷

রবিবার সন্ধ্যায় ট্রাম্পকে নিয়ে পায়া লেবার বিমানবন্দরে নামে তাঁর বিমান৷ কানাডা থেকে ২০ ঘণ্টার পথ পেরিয়ে সিঙ্গাপুরে যান ট্রাম্প। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান সিঙ্গাপুরের বিদেশমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণন৷ উল্লেখ্য ট্রাম্পের পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টা আগে সিঙ্গাপুর পৌঁছান কিম।

আমেরিকা জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হলে, তবেই সেদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সাহায্য করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র৷ রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিষেধাজ্ঞায় আপাতত অচলাবস্থা উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতিতে৷

- Advertisement -

তবে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে পরমাণু বিষয়ে ঐক্যমত্য হবে না বলেই ধারণা করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ এই ইস্যুতে নিজের মতও দিয়েছেন তিনি৷ ট্রাম্প বলেছেন, এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, এবারের বৈঠক ওই প্রক্রিয়া শুরুর প্রথম ধাপ।

তবে রাজনৈতিক মহলের মত যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার এবারের বৈঠকে দুই কোরিয়ার মধ্যে শান্তিচুক্তির বিষয়টি প্রাধান্য পাবে৷ ১৯৫০-৫৩ সাল পর্যন্ত দুই কোরিয়ার মধ্যে চলা যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও শেষ হয়নি৷ শুধু চলছে যুদ্ধবিরতি৷ এপ্রিলে মুনের সঙ্গে বৈঠকে শান্তিচুক্তির মাধ্যমে দুই কোরিয়ার যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে জোর দিয়েছিলেন কিম। সানতোসায় শীর্ষ সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে কিম ও ট্রাম্প আলাদাভাবে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি শিয়েন লুংয়ের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।

উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব। এরই মাঝে কিমের সঙ্গে বৈঠকের ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ১২ জুনের ওই বৈঠকটি ইতিবাচক ফল দিয়েই শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সানতোসায় একটি বিলাসবহুল হোটেল ক্যাপেলাতে মিলিত হচ্ছেন এই দুই নেতা। তাদের বৈঠককে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে সিঙ্গাপুর৷ ১০ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত বৈঠকের ভ্যেনুর আশপাশের এলাকাকে বিশেষ এলাকা ঘোষণা করেছে দেশটি।

বৈঠকের সময় সিঙ্গাপুরের আকাশসীমায় বিমান চলাচলেও নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয়েছে৷ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে যান চলাচলও৷ বৈঠকের ভ্যেনু, দুই নেতার যাত্রাপথ, রাস্তা, হোটেলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে সিঙ্গাপুর পুলিশের এলিট বাহিনী।

Advertisement
---