মঞ্চের পাশে তৃণমূলের ব্যানার খুলবেন না, দলকে নির্দেশ অমিত শাহের

অমিত শাহের সভামঞ্চের পাশেই বিজেপি হঠাওয়ের ব্যানার। ছবি-মিতুল দাস

দেবময় ঘোষ, কলকাতা: শনিবার মেয়ো রোডে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ যখন বক্তব্য রাখবেন, তার ঠিক পাশেই দেখা যাবে লম্বাটে দুই ফুট বাই আধ ফুটের একটা ফ্লেকস্৷ তাতে লেখা, ‘বাংলার শত্রু বিজেপি দূর হঠো’৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যামের ছবি লাগানো ফ্লেকস ব্যানার বা তৃণমূল কংগ্রেসের ঝান্ডার পাশে বাংলা ও ইংরেজিতে লাগানো এই ফ্লেক্সগুলিতে যথাস্থানেই রেখে দিতে বলেছেন অমিত৷

দলীয় কর্মীদের বৃহস্পতিবার রাতেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘Anti Bengal BJP Go Back’ কিংবা ‘বাংলার শত্রু বিজেপি দূর হঠো’ ব্যানারগুলি তাঁর মঞ্চে উঠে বক্তব্য রাখার সময় যেন ওই স্থানেই টাঙানো থাকে৷ কোনও বিজেপি কর্মীরা যেন তৃণমূল কংগ্রেসের ফ্লেকস্ বা ঝন্ডায় হাত না লাগায়৷ রাতেই বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সর্বভারতীয় সভাপতির নির্দেশ এই প্রচারিত হয়েছে৷

Kolkata 24×7 -এ বৃহস্পতিবার খবর প্রকাশিত হয়, মেয়ো রোডে বিজেপির সভাস্থল এবং রেড রোড সহ আশপাশের এলাকা তৃণমূলের পতাকা এবং বাংলার শত্রু বিজেপি দূর হঠো ব্যানারে ছেয়ে ফেলা হয়েছে{ গান্ধীমুর্তি থেকে পার্ক স্ট্রিট উড়ালপুল পর্যন্ত মেয়ো রোডের যে অংশটিতে অমিত শাহের সভার জন্য গার্ডরেল দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে, সেইখানেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিওয়ালা ফ্লেকস ব্যানার ও ‘বাংলার শত্রু বিজেপি দূর হঠো’ ব্যানারে ঢেকে ফেলা হয়েছে৷ মজা করে অনেকে বলতে শুরু করেছেন, ঝোড়হাত করে মমতা যেন বলছেন, অমিত শাহ লহ প্রণাম৷

এরপর রাতেই রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব ওই খবরের লিঙ্ক এবং কিছু ছবি দিল্লিতে অমিত শাহের প্রচার টিমকে পাঠিয়ে দেন৷ এরপর অমিত শাহ নিজেই রাজ্য নেতৃত্বকে জানিয়ে দেন, ওই ব্যানার, ঝান্ডা কোনও কিছুই সভাস্থল থেকে সরানোর দরকার নেই৷ যেমন আছে তেমনি যেন থাকে৷ যদিও বলাবলি শুরু হয়েছে, মঞ্চ থেকে ওই ব্যানার ভালোভাবেই দেখা যাবে৷ যা রীতিমতো দৃষ্টিকটু হবে৷

রাজ্য বিজোপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসুকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘অমিতজি বলেছেন, কোনও ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার যেন খোলা না হয়৷ আমরাও পার্টি কর্মীদের তাই জানিয়ে দেব৷ তৃণমূল কংগ্রেস একটি অসভ্য রাজনৈতিক দল৷ আমাপ প্রশ্ন, রাজ্যের বাইরে তো তৃণমূল কোথাও নেই৷ ওদের সঙ্গে বাইরে এই রকম আচরণ করা হলে কী হবে?’’ সায়ন্তন আরও জানান, ‘‘পুলিশ খুলে নিক বা তৃণমূল নিজেই খুলে নিয়ে যাক৷ আমাদের আপত্তি নেই৷ কিন্তু ওই ব্যানার কোনও অশান্তির সূত্রপাত করলে, তার দায় আমাদের নয়৷’’

ইতিমধ্যেই তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় ওই ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক সৌজন্যতা’ বলেছেন৷