নয়াদিল্লি: মোদীকে হঠাতে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে বিরোধীরা৷ কিন্তু সংসদীয় রাজনীতিতে এখনও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিকল্প কেউ হয়ে উঠতে পারেননি৷ এমনটাই মনে করেন যোগগুরু বাবা রামদেব৷ পরক্ষণেই তিনি আবার জানান, তাঁর সঙ্গে সোনিয়া বা রাহুল গান্ধীর ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই৷ এটা শুধু তাঁর মতামত৷

স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এক সর্বভারতীয় মিডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাতকারে বাবা রামদেব বলেন, ‘‘আমার শুভেচ্ছা রইল মোদীজির জন্য৷ কংগ্রেসীরা অনেকদিন ধরেই আমার আশীর্বাদ পেয়ে চলেছে৷ তাদের সঙ্গে আমার কোনও শত্রুতা নেই৷ একজন সাধুর সঙ্গে কারোর কোনও শত্রুতা থাকতে পারে না৷’’

Advertisement

রামদেবের মুখে মোদীর স্তুতি শুনে অনেকেই তাঁর গায়ে বিজেপির লেবেল সেঁটে দিতে পারে তা বোধহয় আগে থেকেই আঁচ করতে পেরেছিলেন৷ তাই যতটা সম্ভব এদিন নিজেকে নিরপেক্ষ হিসাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন৷ জানান, তাঁর লড়াই বিজেপি বা কংগ্রেসের বিরুদ্ধে নয়৷ তাঁর লড়াই দুর্নীতি, কালো টাকার বিরুদ্ধে৷ যোগগুরু বলেন, ‘‘আমার কোনও ব্যক্তির সঙ্গে কোনও সমস্যা নেই৷ সোনিয়া গান্ধী কি আমার মোষ চুরি করেছে? সোনিয়া গান্ধীজি বা রাহুল গান্ধীজির সঙ্গে আমার কোনও ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই৷ ২০১৩ সালের প্রচার ছিল কালো টাকা আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে৷’’

প্রসঙ্গত সেই সময় রাজনীতির ময়দানে রামদেব আসবেন বলে জোর জল্পনা ছড়ায়৷ কিন্তু শেষ অবধি রাজনীতিতে আর নামেননি তিনি৷ সেই প্রসঙ্গে মুখ খোলেন যোগগুরু৷ জানান, ২০১৩ সালে পরিস্থিতি আলাদা ছিল৷ দেশ অনেক দুর্নীতির পাঁকে জড়িয়ে গিয়েছিল৷ মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছিল৷ রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছিল৷ প্রশ্ন উঠছিল দেশের হাল কে ধরবে? সেই সময়ে মোদীজিকে দেখে সব সমস্যা সমাধান সূত্র খুঁজে পাই৷ আরএসএস বা বিজেপি তখনও মোদীকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী ঘোষণা করেনি৷ কিন্তু সাধুদের এক সম্মেলনে মোদীকে দু’হাত ভরে আশীর্বাদ করা হয়৷

এখানেই থামেননি রামদেব৷ তাঁর মুখে আবারও শোনা যায় মোদীর গুণগান৷ অনুষ্ঠানে রামদেব বলেন, ‘‘৪০ বছর ধরে নিরলস কাজ করে চলেছি৷ আমরা চাই সৎ মানুষ এই দেশ শাসন করুন৷ আজকে দেশে মোদী ছাড়া কোনও ভালো বিকল্প আমি খুঁজে পাইনা৷ এটা শুধু আমি একা না, দেশের বড় অংশের মানুষও বিশ্বাস করেন৷’’

----
--