রমরমিয়ে বিকোচ্ছে এই ওষুধ! খাওয়ার আগে এখনই সাবধান হন

স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: শরীর খারাপ হলে মানুষের ভরসা ওষুধের উপরই থাকে৷ কিন্তু ভেবে দেখেছেন আপনি যে ওষুধ খাচ্ছেন সেটা যদি কাজই না করে তাহলে কি হবে? আপনার শরীরের অবস্থার কোনও উন্নতি তো হবেই না উল্টে বিপদ এসে হাজির হতে পারে৷ এমনটাই বলছে সমীক্ষা৷ অবশ্য এই ধরনের ওষুধ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলেও সেই নির্দেশকে তোয়াক্কা না করেই চলছে বিক্রি৷

প্রায় ১৮টি বহুল ব্যবহৃত ওষুধের কোনও গুণাগুণই নেই৷ আর সেই মর্মে রাজস্থান সরকার গোটা দেশের বিভিন্ন রাজ্যের কাছে এগুলিকে বাতিল করার জন্য নোটিশ পাঠায়৷ তবে সেই নোটিশ পাঠানো হলেও অবাধে চলছে এই সমস্ত নিষিদ্ধ ওষুধের বিক্রি ও ব্যবহার। যার জেরে রীতিমত এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বর্ধমান জেলাতে।

- Advertisement -

জানা গিয়েছে, রাজস্থান সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো এই ১৮ টি ওষুধের তালিকা দিয়ে সমস্ত রাজ্য সরকারের কাছে বার্তা পাঠানো হয়৷ যা আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়েই রাজ্য সরকারের কাছে এসে পৌঁছায়। কিন্তু তারপরেও বাজারে মিলছে ওই ওষুধগুলি৷ অভিযোগ, জেলায় জেলায় স্বাস্থ্য দফতরগুলিতেও পৌঁছায়নি কোনও রকম নির্দেশিকা। অথচ এই নিষিদ্ধ ওষুধের খবর কানে আসতেই রীতিমত শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ওষুধ ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে বর্ধমানের ওষুধ ব্যবসায়ীরা।

তাঁদের কথায়, এখনও পর্যন্ত তাঁদের কাছে নতুন এই ১৮ টি ওষুধ নিয়ে কোনও রকম নির্দেশিকা পৌঁছায়নি। এমনকি এই ব্যাপারে জনসাধারণকে সার্বিক ভাবে জানানোর কোনও উদ্যোগ তাঁদের চোখে পড়েনি। পাশাপাশি পূর্ব বর্ধমান জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাক্তার প্রণব রায় জানান, এখনও পর্যন্ত তাঁদের কাছে কোনও রকম নির্দেশিকা দেওয়া হয়নি। এই ধরনের কোনও নির্দেশিকা আসলে তাঁরা উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন।

অন্যদিকে, বর্ধমানের একটি ওষুধের দোকানের মালিক শান্তনু পাঁজা জানিয়েছেন, এর আগে তাঁদের কাছে ৩৪৪ টি ওষুধ নিয়ে নিষেধাজ্ঞা এসেছিল। তাঁরা ওই সমস্ত ওষুধ বিক্রি করেন না। কিন্তু নতুন এই রাজস্থান সরকারের নির্দেশিকা তাঁদের কাছে আসেনি। এমনকি জেলা স্বাস্থ্য দফতর থেকেও তাঁদের কাছে কোনও নির্দেশিকা আসেনি।

প্রসঙ্গত, রাজস্থান ড্রাগ কন্ট্রোলার বিভাগ থেকে পাঠানো ওই বার্তায় বলা হয়েছিল চলতি বছরের গত ১৬ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই এই ওষুধগুলি নিয়ে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়েছে। এই সমস্ত ওষুধগুলি যাতে আর ওষুধ ব্যবহারকারীদের দেওয়া না হয় তা নিশ্চিত করতে ওই সমস্ত ওষুধ বিক্রি বন্ধ করা ও বাজেয়াপ্ত করা দরকার। এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও ওই বার্তায় বলা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, এই সমস্ত ওষুধগুলি চলতি সময়ে বিপুল পরিমাণে চালু ওষুধ বলে পরিচিত৷ মূলতই ওই ওষুধগুলি কফ ভাইরাল জ্বর, ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ এবং পেটের রোগ প্রভৃতি কারণে ব্যবহৃত হয় বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি জানা গিয়েছে, ওষুধগুলি তৈরি হয় সিকিমের রাংপো এবং রেনপুল, হিমাচলপ্রদেশের সোলান, রাজস্থানের আজমীর এবং গুজরাটের আমেদাবাদের বিভিন্ন কারখানায়।

Advertisement ---
---
-----