নিট প্রশ্নপত্রে বিভ্রাট, জানানো হবে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকে

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ডাক্তারির জন্য অভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষা অর্থাৎ, নিট চলাকালীন রবিবার একাধিক সমস্যা দেখা দিয়েছে বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে৷ এই সমস্যাগুলির জেরে রাজ্যের পরীক্ষার্থীদের ব্যাপক হয়রানির শিকার হতে হয় বলেও অভিযোগ উঠছে৷

পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের সময় কোন ধরনের পোশাক পরা যাবে৷ সঙ্গে কী কী রাখা যাবে৷ এই ধরনের একাধিক বিষয় নিয়ে সতর্কতা জারি সত্ত্বেও মূল বিষয়টিতেই ফাঁক থেকে গিয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে৷ যেমন, কোনও পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছেছে প্রয়োজনের তুলনায় কম সংখ্যক প্রশ্নপত্র৷ আবার কোথাও প্রয়োজনের তুলনায় কম ছিল বাংলা ভাষায় প্রশ্নপত্র৷

সব মিলিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন এ দিন নিট-এর প্রার্থীরা৷ কিন্তু, কর্তৃপক্ষের ভুলের ক্ষতিপূরণ পরীক্ষার্থীরা কেন দেবেন, এমনই প্রশ্ন তুলে প্রতিবাদে শামিল হয়েছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন৷ এআইডিএসও-র রাজ্য সম্পাদক সৌরভ ঘোষ বলেন, ‘‘রাজ্যের বেশ কিছু পরীক্ষাকেন্দ্রে বাংলায় প্রশ্নপত্র ছিল না৷ যার ফলে বাংলা ভাষাভাষী ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে৷ কিছু সময় পরে বাংলা প্রশ্নপত্রের ব্যবস্থা করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় কম ছিল৷’’

- Advertisement -

এই ধরনের ঘটনার শিকার হতে হয় মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির জেলা সম্পাদক প্রদীপকুমার সিনহার মেয়েকেও৷ তিনি জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ের পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল উত্তরপাড়া থানার কোন্নগর টেকনো ইন্ডিয়া পাবলিক স্কুল৷ তাঁর অভিযোগ, বাংলা ভাষায় প্রশ্নপত্র কম থাকায় পরীক্ষার্থীদের ইংরাজি ও হিন্দি প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিতে হয়েছে৷

এ ক্ষেত্রে ভাষা বুঝতে পরীক্ষার্থীদের সমস্যা হয়েছে৷ এমনই জানিয়ে প্রদীপকুমার সিনহা বলেন, ‘‘আমার বক্তব্য, যেখানে বার বার মোবাইলে বিভিন্ন নির্দেশ পাঠানো হচ্ছে৷ অথচ, প্রশ্নপত্র পাঠানোর যে দায়িত্ব ছিল সেটাই হল না৷ পরীক্ষা পুরোপুরি প্রহসন হয়ে গেল৷’’ গোটা বিষয়টি সমিতিতে অবগত করাবেন বলেও তিনি জানিয়েছেন৷

এবিভিপির রাজ্য সহ সভাপতি ডা: ইন্দ্রনীল খান বলেন, ‘‘এই ধরনের ঘটনা হওয়া উচিত নয়৷ এটা অন্যায়৷ যদি এই ধরনের ঘটনা কোনও পরীক্ষাকেন্দ্রে হয়ে থাকে, তা হলে নাম উল্লেখ করে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের কাছে আমরা লিখিত অভিযোগ জানাব৷’’ এ দিনের এই ধরনের কোনও ঘটনায় কারও অভিযোগ থাকলে, তাঁদেরকে জানানোর জন্য তিনি আবেদনও জানিয়েছেন৷

কলকাতা, হুগলি সহ বেশ কয়েকটি জেলায় রবিবার এই ধরনের ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়েছে পরীক্ষার্থীদের৷ সিবিএসই বোর্ডের চূড়ান্ত গাফিলতির কারণেই এই এমন ঘটেছে বলেও অভিযোগ এআইডিএসও-র৷ ২০১৭-তে প্রথমবার ডাক্তারিতে অভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষা হয়৷ কিন্তু, শুরুতেই নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে৷

এআইডিএসও-র তরফে জানানো হয়েছে, দেখা গিয়েছিল আঞ্চলিক ভাষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ইংরাজি ও হিন্দি ভাষার প্রশ্নপত্রের বিস্তর পার্থক্য৷ এই সমস্যাটি আদালতেও তোলা হয়৷ কিন্তু, এত কিছুর পরেও চলতি বছরের পরীক্ষায় আঞ্চলিক ভাষার একই ছবি নজরে এল৷ এই বিষয়ে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভানেত্রী জয়া দত্তর বক্তব্য জানার জন্য ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়৷ তবে, তিনি ব্যস্ত থাকায় তাঁর বক্তব্য মেলেনি৷

Advertisement ---
---
-----