স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ফি-এর কোনও সুনির্দিষ্ট পরিকাঠামো নেই কলকাতার সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয়গুলিতে৷ রয়েছে শুধু বৈষম্য৷ মঙ্গলবার এই বৈষম্যের বিরুদ্ধেই সোচ্চার হল অল ইন্ডিয়া ডেমোক্রাটিক স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিএসও)-এর কলকাতা শাখা৷

ডিএসও-র কলকাতা জেলা কমিটির সম্পাদক প্রভাশিস দাস বলেন, ‘‘আমরা দেখতে পাচ্ছি কলকাতার এক-একটি বিদ্যালয়ে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ফি-এর নির্দিষ্ট কোনও পরিকাঠামো নেই৷ কোথাও ১২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও ২৩০০ টাকা৷ কেউ কোনও নির্দেশিকা মেনে টাকা নিচ্ছে না৷’’

তিনি জানিয়েছেন, অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা৷ তাই অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তিতে সর্বোচ্চ কত টাকা নেওয়া যাবে তার একটি সরকারি নির্দেশিকা রয়েছে৷ কিন্তু, নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য বিদ্যালয়গুলি সর্বোচ্চ কত টাকা নিতে পারবে সেই সংক্রান্ত কোনও নির্দেশিকা দেওয়া হয়নি সরকারের পক্ষ থেকে৷ এমনকী বিদ্যালয়গুলির উপর সরকারি কোনও নিয়ন্ত্রনও নেই বলে দাবি ডিএসও-র৷

অথচ, বাঁকুড়া জেলা ডিআই অ্যাকাডেমিক গত ২৩ মে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেন৷ যেখানে বলা হয়, বিদ্যালয়গুলি নন-প্রাকটিক্যাল বিষয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৪০ টাকা ও প্র্যাকটিক্যাল বিষয়ের ক্ষেত্রে তার সঙ্গে আরও ১৫০ টাকা নিতে পারবে৷ ভর্তির জন্য এর থেকে বেশি টাকা নেওয়া যাবে না৷ ভর্তির ফর্মের দামও ২০ টাকার বেশি রাখা যাবে বলে জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে৷ ডিএসও-র মতে, বাঁকুড়ার মতো জেলা প্রশাসনিকভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি করে ভর্তির সময় কত টাকা নেওয়া যাবে তার সুনির্দিষ্ট পরিকাঠামো গঠন করে দিতে৷ তাহলে কলকাতা কেন তা করতে পারবে না?

এই দাবিগুলি নিয়ে মঙ্গলবার দুপুর ১:৩০ নাগাদ প্রায় ডিএসও-র পক্ষ থেকে প্রায় শতাধিক ছাত্রছাত্রী বকুলতলা থেকে নতুন থানায় ডিআই-এর সেকেন্ডারি অফিস পর্যন্ত মিছিল করে৷ তারপর সেখানে জমায়েত করে বিক্ষোভ দেখান তারা৷ বিক্ষোভকারীদের মধ্যে থেকে তিনজনের একটি প্রতিনিধি দল যান ডিআই-এর সঙ্গে দেখা করতে৷ দেখা করে নিজেদের দাবি দাওয়া সম্বলিত একটি স্মারকলিপী, বাঁকুড়ার ডিআই কর্তৃক জারি করা বিজ্ঞপ্তির একটি কপি ও কলকাতার বিদ্যালয়গুলিতে কী রকম টাকা নেওয়া হচ্ছে তার একটি তালিকা তুলে দেওয়া হয় কলকাতার ডিআই-এর হাতে৷
ডিএসও-র দাবিগুলি বিবেচনা করে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন ডিআই৷ তিনি জানিয়েছেন, তিনি বাঁকুড়ার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন৷ আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি৷

কিন্তু, এক সপ্তাহ সময়সীমায় রাজি নয় ডিএসও৷ তাদের তরফ থেকে ডিআইকে বলা হয়েছে, বুধবারেই প্রকাশিত হচ্ছে মাধ্যমিকের ফলাফল৷ তার এক দু’দিনের মধ্যেই ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করে দেবে বিদ্যালয়গুলি৷ তাই তার আগেই কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে ডিআইকে৷ এর কারণ হিসাবে প্রভাশিস দাস বলেন, ‘‘যদি একবার টাকা নিয়ে ভর্তি নিয়ে নেয় তারপর সেই টাকা ফেরত পেতে গেলে অনেক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হবে ছাত্রছাত্রীদের৷ তাই এক সপ্তাহ নয়, আগামী দু’দিনের মধ্যেই ইতিবাচক কোনও পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে ডিআইকে৷’’

তবে শুধু মৌখিকভাবে নয়৷ ডিআই যাতে লিখিতভাবে ভর্তি ফি পরিকাঠামো নির্দিষ্ট করে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেন, তার দাবিও করা হয়েছে ডিএসও-র পক্ষ থেকে৷ প্রভাশিস দাস বলেন, ‘‘আমাদের দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে আমরা আরও বৃহত্তর আন্দোলন করব৷ সেটা আজ আমরা ডিআইকে জানিয়ে এসেছি৷’’

----
--