সংস্কারের অভাবেই ভাঙল সেতু, অভিযোগ স্থানীয়দের

দেবযানী সরকার, কলকাতা: বাইরে থেকে দেখতে ঝাঁ চকচকে৷ সেতুর উপর নীল সাদা রঙের প্রলেপ৷ কিন্তু ভিতরের কাঠামো ভগ্নপ্রায়৷ মাঝেরহাট সেতু দিয়ে চলাচলের সময়ই বুঝেছিলেন স্থানীয়রা৷ প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অনুরোধও করেছিলেন৷ কান দেয়নি প্রশাসন৷ পরিণাম, ভয়াবহ দুর্ঘটনা৷ বিপর্যয়ের পর অভিযোগ মাঝেরহাটের সাধারণ মানুষের৷

বছর চল্লিশের পুরনো মাঝেরহাট সেতু৷ বেহালা, বজবজ, মহেশতলা থেকে শহরে প্রবেশের ‘লাইফ লাইন’৷ প্রত্যেকদিন হাজার হাজার গাড়ি এই সেতু পেরিয়েই ঢোকে কলকাতায়৷ ফলে সেতুর নজরদারির প্রয়োজন ছিল জরুরী৷ স্থানীয়দের অভিযোগ সেই নজরদারিতেই ভয়ানক গাফিলতি ছিল প্রশাসনের৷

আরও পড়ুন: মাঝেরহাট ব্রিজ ভাঙতেই বছর ৫০-এর সম্পর্ক ভাঙল বেহালা-আলিপুরের

মাঝেরহাটের বাসিন্দা মহম্মদ নাজিদের অভিযোগ, ‘‘দীর্ঘদিন কোনও সংস্কার হয়নি এই সেতুর৷ মাঝে গর্ত হয়েছিল৷ সেতুর একাংশে উঠে গিয়েছিল পীচের প্রলেপ৷ স্থানীয় কাউন্সিলরকে জানানো হয়েছিল৷ কিন্তু কাজ আর হল না৷ তার আগেই ভেঙে পড়ল সেতু৷’’

২০১৬ সালের পোস্তা উড়ালপুল দুর্ঘটনার পরও আতঙ্ক বেড়েছিল মাঝেরহাট বা দক্ষিণ শহরতলী থেকে কলকাতায় আসা মানুষগুলোর৷ মাঝেরহাট সেতুর আবস্থা তাদের পোস্তার ভয়ঙ্কর দৃশ্যের স্মৃতি উস্কে দিত৷ এরপর রাজ্যের বিভিন্ন সেতুর মেরামতি ও দেখভালের জন্য তৈরি হয় সরকারি কমিটি৷ কিন্তু তারপরও দুর্ঘটনা থামেনি৷ কারণ হিসাবে উঠে আসছে পূর্ত দফতরের খামখেয়ালিপনা৷

আরও পড়ুন: বিকেল থেকে রাত: শহরের বীভৎসতম দুর্ঘটনার ছবি একনজরে

মহেশতলার বাসিন্দা রোজ কাজে আসেন কলকাতায়৷ দুর্ঘটনার পর তাঁর অভিযোগ, ‘‘পোস্তার পরও যে প্রশাসনের টনক নড়েনি তার উদাহরণই এদিনের ঘটনা৷’’ আক্ষেপ সুরে তিনি বলেন, ‘‘সরকার বলে বেশি, কিন্তু ফাঁকা আওয়াজ দেয় তার থেকেও বেশি৷’’

রাজ্যপাটে বদল হয়েছে৷ উন্নয়নের কাজ চলছে জোরকদমে৷ তবুও সংস্কারের অভাবে ঘটে যায় বীভৎস দুর্ঘটনা৷ প্রাণ যায় সাধারণ মানুষের৷ উন্নয়ন যেন থমকে দাঁড়ায় মাঝেরহাট, পোস্তায়৷

Advertisement
---
-----