গোঁজকাঁটা ঠেকাতে মনোনয়ন প্রত্যাহারের নির্দেশে মমতার দলে ক্ষোভ চরমে

স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: আসন্ন ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে এখনও এমন অনেক তৃণমূল নেতা আছেন, যাঁরা ভোটের টিকিট পাননি৷ আর সেই অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়ল পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের একাংশ৷ এই প্রসঙ্গে দলের বিরুদ্ধে গিয়ে কথা বলতে না পারলেও ঘনিষ্ট মহলে শোনা গিয়েছে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ৷

গতবারের ভোটে সিপিএম-এর হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে প্রথম বারের জন্য নির্বাচিত হয়েছিল তৃণমূলের প্রার্থী গোলাম জার্জিস৷ পাশাপাশি তাঁকে জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দফতরের কর্মাধ্যক্ষও করা হয়৷ কিন্তু আচমকা প্রায় ২ বছর আগে দলের নির্দেশে তাঁকে কর্মাধ্যক্ষের পদ থেকে সরে যেতে হয়৷

আরও পড়ুন: মেয়ে হবে বলেও ছেলে হওয়ায় যৌনাঙ্গ কাটল চিকিৎসক

- Advertisement -

এই প্রসঙ্গে খোদ গোলাম জার্জিসের দাবি, কী কারণে বা তাঁর কোন অপরাধের জন্য এই দলীয় সিদ্ধান্ত, তা আজও তাঁকে জানানো হয়নি। তাঁকে বলা হয়েছিল আপাতত তাঁকে কর্মাধ্যক্ষের পদ ছেড়ে দিতে হবে৷ ফের দিনপনেরোর মধ্যেই তাঁকে ফিরিয়ে আনা হবে। কিন্তু গত ২ বছর ধরে তাঁকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়নি, কিছু জানানোও হয়নি। এদিকে, পঞ্চায়েত নির্বাচন এসে যাওয়ায় এলাকার মানুষজন তাঁকেই প্রার্থী হিসাবে দাঁড়ানোর জন্য আবেদন করেন।

এলাকাবাসীর ইচ্ছাতেই তিনি প্রার্থীপদের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুরে খোদ তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি স্বপন দেবনাথ তাঁকে জানান, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিতে হবে। দলের অনুগত সদস্য স্বরূপ তিনি তাতে রাজি হয়েছেন৷ শুক্রবার তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারও করে নিয়েছেন। উল্লেখ্য, গোলাম জার্জিসের ওই আসনে প্রার্থী করা হয়েছে জেলা পরিষদের বিদায়ী পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ বাগবুল ইসলামকে।

আরও পড়ুন: জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে নতুন অথিতি আটটি কুনকি হাতি

গোলাম জার্জিস জানিয়েছেন, তাঁকে টিকিট না দিয়ে বহিরাগতকে প্রার্থী করায় এলাকার মানুষ ভাল চোখে দেখছেন না। দলের সিদ্ধান্তের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন, শুধু তিনিই নন, দলনেত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা করেই গতবারের বহু নির্বাচিত প্রার্থীকে এবার টিকিট দেওয়া হয়নি৷

এই গোটা বিষয়ে দলের মধ্যেই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে৷ যদিও দলের অনুগত সৈনিক বলে তিনি নিজেকে দাবি করেছেন৷ তাই দলনেতার নির্দেশে তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। দল চাইলে তিনি প্রচারেও অংশ নেবেন না।

অভিযোগ, শুধু গোলাম জার্জিসই নন, এবারে দলের নির্দেশে কাটোয়া-২ ব্লকের জেলা পরিষদ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন জেলা পরিষদের বিদ্যুৎ দফতরের কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু কোঁয়ার। রীতিমতো তাঁকে সঙ্গে নিয়েই জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবু টুডু কাটোয়া মহকুমাশাসকের অফিসে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে যান।

কিন্তু শুক্রবারই শান্তনু কোঁয়ারের কাছে দলের নির্দেশ এসে পৌঁছেছে শনিবারই তাঁকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিতে হবে। কারণ, ওই আসনে ইতিমধ্যেই দলের প্রতীক দেওয়া হয়েছে অন্য প্রার্থীকে। এই ঘটনায় রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে তৃণমূলের অন্দর মহলেও।

আরও পড়ুন: পর পর স্কুলে কম্পিউটার চুরিতে রহস্য

পাশাপাশি, এবারে টিকিট পাননি আউশগ্রামের জেলা পরিষদের গতবারের জয়ী প্রার্থী রুবি ধীবর। টিকিট পাননি নারী ও শিশু কল্যাণ দফতরের কর্মাধ্যক্ষ পিঙ্কি সাহাও। তিনি মঙ্গলকোট থেকে গতবার জয়ী হয়েছিলেন। এদিকে, মনোনয়নপত্রের দ্বিতীয় দিন পার হতেই দলীয় প্রার্থীদের প্রচারে নেমে পড়ার নির্দেশ দিলেন জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব।

বৃহস্পতিবার প্রথম দিনেই বর্ধমান জেলা পরিষদের ৫৮টি আসনের মধ্যে ১টি তৃণমূল কংগ্রেস, ১টি বিজেপি, ১টি সিপিএম এবং অন্যান্য ২টি প্রার্থী তাঁদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। পঞ্চায়েত সমিতির মোট ৬১৮টি আসনের মধ্যে ৮ টিতে তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি ১৮ টিতে, সিপিএম ১১ টিতে, কংগ্রেস ১ টিতে, এবং নির্দল ২ টি আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট আসন ৩২৩৪ টির মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ১০২ টি, বিজেপি ৮৬ টি, সিপিএম ৭৯ টি, কংগ্রেস ৩ টি, অন্যান্যরা ১ টিতে এবং নির্দল ১৮ টি আসনের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।

আরও পড়ুন: মোদী-কোবিন্দকে নিয়ে ফেসবুকে কার্টুন পোস্ট করে শ্রীঘরে যুবক

অন্যদিকে, জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবু টুডু জেলা পরিষদ আসনে টিকিট পাওয়া দলীয় প্রার্থীদের সরাসরি নির্দেশ দিয়ে গেলেন শনিবার থেকেই জোরকদমে প্রচারে শুরু করার। তিনি জানিয়েছেন, মিছিল, মিটিং-সহ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও জেলা পরিষদের বেশ কয়েকজন প্রার্থী জানিয়েছেন, শনিবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিনটা দেখার পরই তাঁরা প্রচারে নামবেন।

Advertisement ---
---
-----