দেবময় ঘোষ, কলকাতা: ‘বদলা নয়, বদল চাই’- স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলার মসনদ দখল করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার৷ কিন্তু মমতার রাজত্বে তাঁর ভাইয়েরা রাজ্যে এমন সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করেছে যে মানুষ বুথমুখী হতে ভয় পাচ্ছেন৷ বুধবার দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহর সঙ্গে সফরে এমনই দাবি করলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়৷

লোকসভা ভোটে এরাজ্যে দলের রণনীতি নির্ধারণ করতে দু’দিনের সফরে বুধবার কলকাতার মাটিতে পা রেখেছেন অমিত শাহ৷ বিমান বন্দর থেকেই তাঁর সফর সঙ্গী বাবুল৷ সফরের মাঝে

Advertisement

বাবুল সুপ্রিয় বলেন, ‘‘লোকসভায় রাজ্যের রণনীতি কেমন হবে,তার মার্গ দর্শন করতে অমিতজি দু’দিনের সফরে কলকাতায় এসেছেন৷ আমরা উৎসুক উনি আমাদের কি পরামর্শ দেন৷ ওঁনার পরামর্শ অক্ষরে অক্ষরে মেনেই আমরা কাজ করব৷’’

এরপরই বোমা ফাটিয়েছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা আসানসোলের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়৷ তাঁর অভিযোগ, ‘‘ মমতার সরকার যেভাবে বাংলায় কাজ করছে তাতে মানুষের মন ভয় ভীতি তৈরি হয়েছে৷ সদ্য সমাপ্ত পঞ্চায়েত নির্বাচনের নামে যা ঘটেছে তার ফলে মানুষ বুথমুখী হতে ভয় পাচ্ছেন৷’’ দাবি করেছেন, ‘‘আপনি একটা বুদ্ধিজীবীকে দেখান যিনি গন্ডোগোলের সময় বুথে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন৷

আসলে এবারের ভোটে শাসকদল যেভাবে ভোটের নামে গণতন্ত্রর কন্ঠরোধ করেছে তাতে বাংলার সাধারণ মানুষ থেকে বুদ্ধিজীবী সকলেই বলছেন- ভোটের এই ঝামেলায় জড়াব না৷ কারণ প্রাণটা আগে৷’’ বলেছেন, ‘‘ভোটের নামে মমতার সরকার যা করল, তা গণতন্ত্রের পক্ষে লজ্জাজনক৷’’

একই সঙ্গে মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘‘পঞ্চায়েত আর লোকসভা এক নয়৷ কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী দিয়ে লোকসভা ভোট হবে৷ ফলে তখন মমতা পুলিশ বিশেষ সুবিধে করতে পারবেন না৷’’ দাবি করেছেন, ‘‘অবাধ ভোট হলে লোকসভায় রাজ্যের ৪২টি আসনের একটিতেও জিততে পারবে না তৃণমূল৷ জয় জয়কার হবে বিজেপির৷’’

বুধবার কলকাতা বিমান বন্দরে নামার পর বন্দর এলাকার একটি গেস্ট হাউসে যান বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ৷ সেখানে ‘ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট টিম’ এর অন্যতম সদস্য দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায়, শমীক ভট্টাচার্য, জয়প্রকাশ মজুমদার, রাহুল সিনহা সহ রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্বর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি৷ সূত্রের খবর, বৈঠকের আগামী লোকসভা নির্বাচনে দলের রণকৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়৷

ওই বৈঠকের পর হাওড়ার শরৎ সদনে সোশ্যাল মিডিয়া কনভেনশনে অংশ নেন অমিত শাহ৷ ফেসবুক, টুইটারের মতো সোশ্যাল সাইটকে আরও বেশি করে কিভাবে দলের কাজে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়েই আলোচনা হয়৷ সেখান থেকে বিড়লা সভাগৃহে সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবনীর ওপর বক্তব্য রাখেন তিনি৷ সূত্রের খবর, বাংলার বুদ্ধিজীবী মহলের একাংশ সেখানে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেন৷ সন্ধেয় বিজেপির বিস্তারকদের নিয়ে বৈঠক করবেন ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম অডিটোরিয়াম সভাগৃহে৷ সেখানে উপস্থিত থাকার কথা দলের এরাজ্যের পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়, সহ পর্যবেক্ষক শিবপ্রকাশ এবং পর্যবেক্ষক (সংগঠন) সাওদন সিংয়ের৷

আগামীকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার কলকাতা বন্দর থেকে কপ্টারে করে উড়ে যাবেন তারাপীঠে৷ সেখানে পুজো দেবেন৷ বিজেপির সর্বভারতীয় নেতৃত্বর সফরকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই তৎপর প্রশাসন৷ নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে সেখানে৷ বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের খাসতালুকে বীরভূমের নেতাদের নিয়ে বৈঠক করবেন তিনি৷

দলীয় সূত্রের খবর, বীরভূমে বৈঠক সেরে কপ্টারে করে পুরুলিয়া যাবেন অমিত শাহ৷ সেখানে বুথ স্তরের সদস্যদের নিয়ে তিনি বৈঠক করবেন৷ বৈঠক শেষে পুরুলিয়াতে জনসভাও করবেন তিনি৷ সম্প্রতি পুরুলিয়ায় অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় দুই বিজেপি কর্মী ত্রিলোচন মাহাতো ও দুলাল কুমারের৷ অভিযোগ, শাসকদল তাঁদেরকে মেরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে দিয়েছিল৷ অমিত শাহের সভায় নিহতদের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে৷

----
--