বিশ্বজিৎ ঘোষ, কলকাতা: আই লিগে সুযোগ পেয়ে নজির গড়েছে দুর্বার স্পোর্টস অ্যাকাডেমি৷ কিন্তু, খেলায় অংশগ্রহণের জন্য যাবতীয় খরচের টাকা কীভাবে জোগাড় হবে, তা নিয়েই চিন্তা দেখা দিয়েছে৷ আর, তারই জেরে, এ বার স্পনসরের খোঁজ করছে পশ্চিমবঙ্গের যৌনকর্মীদের সংগঠন দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি৷

বৃহস্পতিবার, সাত জুন অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, আই লিগের অনূর্ধ্ব ১৩ এবং ১৫-তে এ বার দুর্বার স্পোর্টস অ্যাকাডেমির পৃথক দুই দল সুযোগ পাচ্ছে৷ স্বাভাবিক কারণেই, খুশির হাওয়া বইছে দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটিতে৷ চার বছরের প্রচেষ্টায় এই সাফল্য মিলেছে বলে জানানো হয়েছে৷ কিন্তু, একই সঙ্গে কপালে ভাঁজও দেখা দিয়েছে৷ কারণ, আই লিগের অনূর্ধ্ব ১৩ এবং অনূর্ধ্ব ১৫-তে সুযোগ তো পাওয়া গেল৷ কিন্তু, খেলায় অংশগ্রহণের জন্য যাবতীয় খরচের টাকা কীভাবে জোগাড় হবে?

আরও পড়ুন: EXCLUSIVE: আই লিগে সুযোগ পেয়ে নজির গড়ল দুর্বার

দুর্বার স্পোর্টস অ্যাকাডেমির সচিব বিশ্বজিৎ মজুমদার বলেন, ‘‘আই লিগের অনূর্ধ্ব ১৩ এবং অনূর্ধ্ব ১৫-র জন্য আমাদের পৃথক দুই দলে ৩০ জন করে মোট ৬০ জন খেলোয়াড় রয়েছে৷ খেলায় অংশগ্রহণের জন্য সাত থেকে আট লক্ষ টাকা খরচ হবে৷ এত টাকা কোথা থেকে পাওয়া যাবে?’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘দুর্বার স্পোর্টস অ্যাকাডেমির এত টাকা নেই৷ এমনিতেই বিভিন্ন মানুষের সহযোগিতায় অ্যাকাডেমি চলছে৷ এ দিকে, আই লিগের অনূর্ধ্ব ১৩ এবং অনূর্ধ্ব ১৫-র মধ্য দিয়ে এই প্রথম জাতীয় স্তরের ফুটবলে সুযোগ পেলাম আমরা৷ এই দুই টুর্নামেন্টে আমাদের অংশগ্রহণের জন্য মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন৷ আমরা স্পনসরের খোঁজ করছি৷’’

আইএফএ-র নার্সিং লিগে ২০১৪-তে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দুর্বার স্পোর্টস অ্যাকাডেমি৷ এই লিগে ২০১৭-তে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছিল দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির অধীনে থাকা এই অ্যাকাডেমি৷ শুধুমাত্র তাই নয়৷ দেশের বাইরেও যেমন এই অ্যাকাডেমি সফল হয়েছে৷ তেমনই, টাকা জোগাড় করতে না পারার জন্য অংশগ্রহণও করতে পারেনি যৌনকর্মী এবং সমাজের বিভিন্ন প্রান্তিক অংশের মানুষের সন্তানদের নিয়ে গঠিত দুর্বার স্পোর্টস অ্যাকাডেমির ফুটবল দল৷ তবে, এই প্রথম যেভাবে জাতীয় স্তরের ফুটবলে অংশগ্রহণের জন্য সুযোগ মিলেছে, তা দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি হাতছাড়া করতে চাইছে না বলেই জানানো হয়েছে৷

জাতীয় স্তরের খেলায় দুর্বার স্পোর্টস অ্যাকাডেমি একদিন অংশগ্রহণ করবে, এমন স্বপ্ন রেখেছিল দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি৷ সুযোগ মিলেছে৷ এ বার স্বপ্ন পূরণের অপেক্ষায় পশ্চিমবঙ্গের যৌনকর্মীদের এই সংগঠন৷ দুর্বার স্পোর্টস অ্যাকাডেমির সচিব বলেন, ‘‘আমাদের দলের খেলোয়াড়দের ৬০ শতাংশ যৌনকর্মীদের সন্তান৷ আর, ৪০ শতাংশ সমাজের পিছিয়ে পড়া বিভিন্ন অংশের মানুষের সন্তান৷ যেমন, নাচনি, শবর, মুন্ডা, সুন্দরবনে যাঁরা মাছ ধরে উপার্জন করেন অথবা, কোনও রিক্সাচালকের সন্তান৷ সমাজের এমন প্রান্তিক মানুষের সন্তানরা জাতীয় স্তরে খেলার এই সুযোগ যাতে হারিয়ে না ফেল, তার জন্য সকলের সহযোগিতা প্রার্থনা করছি৷’’

----
--