ত্রিপুরার যৌনকর্মীদের জন্য স্পনসর চাইছে বাংলার দুর্বার

বিশ্বজিৎ ঘোষ, কলকাতা: যৌনকর্মীরা রয়েছেন৷ অথচ, নেই কোনও যৌনপল্লি৷ যার জেরে, একদিকে যেমন বেড়ে চলেছে এইচআইভি/এইডস আক্রান্তের হার৷ তেমনই অন্যদিকে যৌনকর্মী এবং তাঁদের সন্তানদের সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টিও প্রশ্নের মুখে৷ তার সঙ্গে আবার নারী পাচার, যৌনপেশায় অপ্রাপ্তবয়স্কদের অংশগ্রহণ এবং যৌনকর্মী হওয়ার জন্য বাধ্য করার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিও এড়ানো যাচ্ছে না৷

আরও পড়ুন: যৌনপেশা বিরোধী আইন বাতিলে এককাট্টা যৌনকর্মীরা

অথচ, এমন বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্ত থাকার জন্য যেমন যৌনকর্মীদের সংগঠিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ৷ তেমনই, তাঁদের সচেতন করে তোলাও জরুরি৷ যদিও, এমন বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন যেমন ত্রিপুরার যৌনকর্মীরা৷ তেমনই, অন্য বিভিন্ন রাজ্যের যৌনকর্মীরাও কম-বেশি একই ধরনের সমস্যার শিকার৷ আর, তাই, কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তের যৌনকর্মীদের জন্য যেমন বিভিন্ন ধরনের প্রয়াস জারি রেখেছে দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি৷ তেমনই, অন্য রাজ্যের যৌনকর্মীদের জন্যেও বিভিন্ন ধরনের প্রয়াস জারি রাখতে চাইছে পশ্চিমবঙ্গের যৌনকর্মীদের অন্যতম এই সংগঠন৷

- Advertisement -

আরও পড়ুন: ছোটদের বিয়ে ছোটরা রুখেই নিঃশব্দ বিপ্লবে যৌনপল্লি

তবে, এই সংগঠনের এমন প্রয়াসের পিছনে অন্যতম অন্তরায় হিসেবে দেখা দিয়েছে আর্থিক সমস্যা৷ তাই, ত্রিপুরার যৌনকর্মীদের জন্য এখন স্পনসরের খোঁজ করছে পশ্চিমবঙ্গের যৌনকর্মীদের অন্যতম এই সংগঠন৷ এই বিষয়ে দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির মুখ্য উপদেষ্টা ডাক্তার স্মরজিৎ জানা বলেন, ‘‘ত্রিপুরার যৌনকর্মীদের জন্যেও আমরা সহায়তা করতে চাইছি৷ তবে, শুধুমাত্র ত্রিপুরায় যাওয়া-আসার জন্যই বিমান ভাড়া বাবদ অনেক টাকার প্রয়োজন৷ তার পরে রয়েছে অন্যান্য বিষয়ের জন্য খরচ৷ ত্রিপুরার যৌনকর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সহ অন্যান্য বিষয়ে কাজ করার জন্য যদি প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা পাওয়া যায় অথবা দুর্বারকে স্পনসর করা হয়, তা হলে ওই রাজ্যে আমরা যাব৷’’

আরও পড়ুন: যৌনপল্লির ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার-ব্যারিস্টারে মডেল ঊষা

কিন্তু, যদি কোনও স্পনসর পাওয়া না যায়, তা হলে কি ত্রিপুরা সরকারের কাছে আবেদন করবে দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি? ডাক্তার স্মরজিৎ জানা বলেন, ‘‘এই বিষয়ে ত্রিপুরা সরকারের তরফে প্রস্তাব আসা উচিত৷ এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধ এবং সংক্রমণের হার কমিয়ে আনার জন্য যৌনকর্মীদের যেমন আরও সচেতন করে তুলতে হবে৷ তেমনই, স্বাস্থ্যকর্মী এবং অন্যান্যদের সঙ্গে যৌনকর্মীদেরও এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধের জন্য বিভিন্ন ভাবে শামিল করাতে হবে৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘২০২৫-এর মধ্যে এইচআইভি/এইডসে নতুন আক্রান্তের হার শূন্যতে নামিয়ে আনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের যে লক্ষ্য রয়েছে, তা পূরণের জন্য প্রতিটি জায়গায় পৌঁছতে হবে৷ তার জন্য যৌনকর্মীদের আরও সচেতন করে তুলে এবং প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁদেরকেও কাজে লাগাতে হবে৷’’

আরও পড়ুন: দুর্বারকে অচ্ছুৎ রেখে সোনাগাছিতে স্বাবলম্বন স্পেশাল

ত্রিপুরার স্বাস্থ্য দফতরের নথি অনুযায়ী, ওই রাজ্যে বেড়ে চলেছে এইচআইভি/এইডসে আক্রান্তের হার৷ তাই, কীভাবে এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধের জন্য সরকারের তরফে কোন ধরনের প্রয়াস গ্রহণ জরুরি, সেই বিষয়ে দিন কয়েক আগে ত্রিপুরা বিধানসভায় আলোচনা হয়েছে৷ ত্রিপুরায় যৌনকর্মীরা থাকলেও ওই রাজ্যে কোনও যৌনপল্লি নেই৷ যে কারণে, এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধের জন্য ত্রিপুরা সরকারের তরফে যৌনপল্লি গড়ে দেওয়া উচিত কি না, এমন প্রশ্ন-ও উঠেছিল ওই আলোচনায়৷ শুধুমাত্র তাই নয়৷ ত্রিপুরায় এখন ৫,১৪৫ জন মহিলা যৌনকর্মী রয়েছেন৷ কাজেই, ওই আলোচনায় এমন প্রশ্নও উঠেছিল যে, যৌনপল্লি থাকলে এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধের বিষয়ে অগ্রগতি হবে৷ কাজেই, যৌনকর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য কেন যৌনপল্লি তৈরি হবে না?

আরও পড়ুন: ভিন রাজ্যে পাড়ি জমাতে সোনাগাছির হাতিয়ার ফুটবল

যদিও, আইন অনুযায়ী ভারতে যৌনব্যবসা নিষিদ্ধ৷ তবে, যৌনপেশা বিরোধী আইন বাতিলের দাবিতে পশ্চিমবঙ্গ সহ অন্য কয়েকটি রাজ্যের যৌনকর্মীদের নিয়ে প্রয়াস জারি রেখেছে দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি৷ এই প্রসঙ্গে ডাক্তার স্মরজিৎ জানা বলেছিলেন, ‘‘দ্য ইমমরাল ট্রাফিক (প্রিভেনশন) অ্যাক্ট অর্থাৎ, আইটিপিএ অনুযায়ী এ দেশে যৌনপেশাকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে গণ্য করা হয়৷ এই আইনের বিলোপ চাইছি আমরা৷’’ কাজেই, ওই আলোচনায় প্রশ্ন উঠলেও, উত্তর পাওয়ার বিষয়টিও সহজ নয়৷ কেননা, বিভিন্ন মহল এমনই মনে করে যে, এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধ তথা যৌনকর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য সরকারি তরফে যৌনপল্লি গড়ে দেওয়া হলে, এমন প্রয়াস আবার আইন অনুযায়ী যৌনপেশাকে উৎসাহ দেওয়ারই সমতুল হয়ে যাবে৷ তেমনই, অন্যদিকে এমন প্রশ্নও উঠছে, যৌনপেশায় যদি নিয়ন্ত্রণ না থাকে, তা হলে এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধের কাজেও কীভাবে অগ্রগতি মিলতে পারে?

আরও পড়ুন: সারদাকাণ্ডে এক সাংবাদিকের আত্মহত্যা এবং মিডিয়া

ডাক্তার স্মরজিৎ জানার কথায়, ‘‘শুধুমাত্র ত্রিপুরা নয়৷ পশ্চিমবঙ্গ এবং মহারাষ্ট্র বাদে এখন অন্য কোনও রাজ্যে সেভাবে আর কোনও যৌনপল্লি নেই৷ তবে, যৌনপল্লি গড়ে দেওয়ার কাজ করে না দুর্বার৷ যৌনকর্মীদের আমরা সংগঠিত করার কাজ করি যাতে তাঁদেরকে আরও সচেতন করে তোলা যায়৷ কারণ, শুধুমাত্র যৌনকর্মীদের সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টি নয়, তাঁদের সন্তানরাও যাতে সমাজের মূল স্রোতের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন, আমরা সেই প্রচেষ্টাই করছি৷ যৌনপেশায় অংশগ্রহণের জন্য কাউকে যাতে বাধ্য করা না হয়৷ এবং, অপ্রাপ্তবয়স্ক কেউ যাতে নিজের ইচ্ছায়ও যৌনপেশায় আসতে না পারে, সেই বিষয়টিও নিশ্চিতের জন্যে আমাদের প্রচেষ্টা জারি রেখেছি৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘সমাজের প্রান্তিক কোনও মানুষকে বাদ দিয়ে কখনও যথাযথ উন্নয়ন সম্ভব নয়৷ আর, এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধের জন্য যৌনকর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি তাঁদের উপর দায়িত্ব তুলে দেওয়াও জরুরি৷’’

_____________________________________________________________________

আরও পড়ুন:
(০১) সন্তানের পরিচয় জানাতে প্রথমেই আসুক মায়ের নাম!
(০২) শান্তির খোঁজে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে যৌনকর্মীদের পুজোর টাকা
(০৩) যৌনকর্মী-সন্তানদের পড়াবেন উচ্চমাধ্যমিক-কৃতী ছাত্রী
(০৪) কলকাতায় এ বার উবের ক্যাব চালাবেন যৌনকর্মীরা
(০৫) দাভোলকর-পথে কুসংস্কারের ক্রম মুক্তি হবে বাংলায়!
(০৬) যৌনকর্মীদের ডেরায় জঙ্গির খোঁজে পুলিশের তাণ্ডব
(০৭) ধর্ষণ রোধের দাওয়াই অবাধ যৌনতা!
(০৮) ন্যাপকিনে বাংলা-বাজারে সোনাগাছির সূর্যোদয়
(০৯) মমতায় এইচআইভি-এইডসের খোঁজ কলকাতায়
(১০) চিটফান্ড রুখে দু’ পয়সার কনডোমে আয় ১০ লক্ষ টাকা

_____________________________________________________________________

Advertisement
----
-----